আন্দোলন নিয়ে বিরোধী দলের মধ্যে সাজ সাজ রব!

ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ আবার আন্দোলনের গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে। রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে এই সাজ সাজ রব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কারণ ঈদের পরেই বিরোধী দল আবার আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

বিরোধী দল ঈদের পর সরকারবিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলনে বিরোধী দল জয়ী হবে বলে মনে করছেন। অপরদিকে সরকারি দল তথা আওয়ামীলীগ বলছে, বিরোধী দলের আন্দোলন আগের মতোই ফ্লপ করবে। সরকারি দল এবং বিরোধী মূলত মুখোমুখি অবস্থানে চলে এসেছে।

জনগণ কি ভাবছে?

সরকারি দল ও বিরোধী দল মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসায় জনগণ পড়েছে গ্যাড়াকলে! কারণ এক পক্ষ আন্দোলনে যাচ্ছে অপর পক্ষ তা ঠেকানোর চেষ্টা করছে। মাঝখান থেকে সাধারণ জনগণ নিষ্পেষিত হচ্ছে। ঈদের পর বিরোধী দল আবারও আন্দোলনের কথা বলছে, কিন্তু জনগণের মধ্যে এই আন্দোলন নিয়ে নানা জল্পনা রয়েছে। জনগণ বলছে, অযথা হরতাল করে জনগণকে কষ্ট দিচ্ছে বিরোধী দল। আন্দোলন করে তারা কোন ফল পাচ্ছে না। বিগত সময়ে বিএনপি নেতা ইলিয়াছ আলী ইস্যুতে বেশ কিছুদিন বিরোধী দল হরতাল করেছে। পরে সরকারি কূটকৌশলের কাছে তাদের পরাজয় ঘটেছে। এ সম্পর্কে আমরা আলাপ করেছি বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে। তারা মনে করেন, বিরোধী দল অযথা হরতাল ধর্মঘট করে দেশের ক্ষতি করছে। আবার অপরপক্ষ সরকারি দল গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার প্রয়াসে ব্যস্ত বলে অনেকেই মত দিয়েছেন।

তাহলে কি দুই দলের প্রতি জনগণ বিরক্ত?

অবস্থাদৃষ্টে দেখা যাচ্ছে জনগণ হরতাল-ধর্মঘট ও সরকারি দলের ব্যর্থতার কারণে দুই দলের প্রতিই বিরক্ত। কারণ আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষ খেটে-খাওয়া ছাপোষা মানুষ। দিন আনে দিন খায় এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয়। আর তাদের কাছে হরতাল-ধর্মঘট মানেই না খেয়ে থাকা। তাদের কাছে হরতাল-ধর্মঘট গলার ফাঁস। আর তাই জনগণ আজ দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির জন্য যেমন সরকারি দলের প্রতি বিরক্ত আবার আন্দোলনে দেশ অচল করার জন্যও বিরোধী দলের প্রতি বিরক্ত। এমতাবস্থায় জনগণ দেশের এই বড় দুটি দলের প্রতি সমানভাবে বিরক্ত।

এ ধরণের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার পথ কি?

বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার পথ থাকলেও সরকার এবং বিরোধী দল সে পথের ধারে কাছেও নেই। কারণ সরকারি দল গো ধরে আছে কোন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়, অপরদিকে বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। আর আমরা এও জানি দেশের বৃহত্তম দল বিএনপি নির্বাচনে না গেলে সে নির্বাচনের কোন ভেলু থাকবে না। যেমন ১৯৯৬ সালে বিএনপি চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের। ফল কি হয়েছে, এতো পয়সা খরচ করে নির্বাচন করে শেষ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক বিল পাস করে সংসদ ভেঙ্গে দিতে হয়েছে। এসব বিবেচনায় আনলে বোঝা যায়, দেশের বড় দুটি দল নির্বাচনে না গেলে সে নির্বাচন অর্থবহ হবে না। সেই নির্বাচন শুধু দেশে নয় আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃতি পাবে না।

তাই এখন একটায় পথ খোলা সেটি হলো বড় দুটি দলকেই ছাড় দিতে হবে। আলোচনা মাধ্যমে সমাধানে আসতে হবে। নইলে দেশের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে তা কম বেশি সকলের জানা। তাছাড়া বিরোধী দলকে মামলা দিয়ে জেলে ভরে কেও কোনদিন সাইন করতে পারেনি। অতিতে পাকিস্তানী বাহিনী যেমন করেছিল। সেই ইয়াহিয়ার আমলের কথায় একবার ভাবুন। কত আগরতলা মামলা-হামলা কত কিছু। শেষ কথা দেশের বড় দুটি দল বিএনপি ও আওয়ামীলীগ। উভয় দলেরই দেশের জন্য অবদান রয়েছে। হয়তো এক পক্ষের একটু বেশি কৃতিত্ব রয়েছে। কিন্তু কমবেশি যায়ই হোক সেদিকে না তাকিয়ে এখন সকলকে সহনীয় হতে হবে। জনগণের কথা ভাবতে হবে আগে। তারপর দলের কথা। উভয় দলের নতুন করে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। তাহলে আমাদের দেশ আর পিছিয়ে যাবে না। এগিয়ে যাবে বিশ্বের দরবারে। মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে বীর দর্পে। আমরা দেশের ১৬ কোটি মানুষ আজ সবাই সেই প্রত্যাশায় রয়েছি।

Advertisements
Loading...