রাশিয়ার ভাসমান পরমাণু স্থাপনার হেতু কী?

এই স্থাপনাটি তৈরি করেছে যার দৈর্ঘ হলো ১৪৪ মিটার এবং প্রস্থ ৩০ মিটার

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সারাবিশ্ব যখন পরমাণুর বিরুদ্ধে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন পরমাণু বন্ধের নানা উদ্যোগ নিচ্ছে ঠিক সেই সময় রাশিয়া ভাসমান পরমাণু স্থাপনের মাধ্যমে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।

সম্প্রতি রাশিয়া বিশ্বের প্রথম ভাসমান পরমাণু স্থাপনার উদ্বোধন করেছে। গত শনিবার রাশিয়ার দূরবর্তী উত্তরাঞ্চলীয় মারমানস্ক বন্দরে এই পরমাণু স্থাপনা উদ্বোধন করা হয়েছে। স্থাপনাটি ওখান থেকে পরমাণু জ্বালানি ভর্তি করে পূর্বাঞ্চলীয় সাইবেরিয়ার দিকে যাত্রা করার কথা।

জানা যায়, আকাদেমিক লোমোনোসভ নামে এই স্থাপনা সেইন্টপিটার্সবার্গে তৈরি হয়েছে। স্থাপনাটি উদ্বোধনের একদিন আগে বৃহস্পতিবার এটি মারমনস্ক বন্দরে পৌঁছায়। এরপর শনিবার সেখানে গণমাধ্যম কর্মীদের যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

জানা যায়, রাষ্ট্রীয় পরমাণু প্রতিষ্ঠান রোজাটম এই স্থাপনাটি তৈরি করেছে যার দৈর্ঘ হলো ১৪৪ মিটার এবং প্রস্থ ৩০ মিটার। একটি জাহাজের ওপর স্থাপনাটি নির্মিত হয়েছে যার দুটি চুল্লিও রয়েছে। ওই চুল্লির বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩৫ মেগাওয়াট। এই জাহাজটি অনেকটা আইসব্রেকার শিপের মতোই একটি ভাসমান পরমাণু স্থাপনা।

সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ২১ হাজার টন ওজনের এই পরমাণু স্থাপনাটি ২০১৯ সালের গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত রাশিয়ার সর্বউত্তরের পেভেক বন্দরেই অবস্থান করবে। আর্কটিক সার্কেল হতে ৩৫০ কিলোমিটার উত্তরে ওই বন্দরটির অবস্থান।

জানা গেছে, এই পরমাণু স্থাপনাটি হতে একটি শহরের দুই লাখ বাসিন্দার বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো পেভেক বন্দরে মাত্র ৫ হাজার বসিন্দা রয়েছে। যে কারণে এই ভাসমান পরমাণু নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। তবে প্রাথমিকভাবে জাহাজটিকে আর্কটিক এলাকায় তেল খনির কূপ খননকাজে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

রাশিয়ার ওই পরমাণু স্থাপনার প্রধান দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ভিতালি ত্রুতনেভ জানিয়েছেন, এটি প্রধানত উত্তরাঞ্চলীয় দুর্গম এলাকার লোকজনের জন্য বিদ্যুৎ এবং তাপ সরবরাহের কাজে নিয়োজিত থাকবে। প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নে সমর্থন দেবে এই ভাসমান স্থাপনাটি- এমনটিই জানানো হয়েছে।

Advertisements
Loading...