The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

‘আমাকে গুলি করুণ, তবুও আমি ভীত নই’ -গুলিতে নিহত ফিলিস্তিনি তরুণী [ভিডিও]

তিনি বুক উচিয়ে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে গিয়ে মানব সেবা করেছেন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ গুলি খাওয়ার আগ মুহূর্তেও যিনি বুক ফুলিয়ে বলেছিলেন, ‘আমাকে গুলি করুণ, তবুও আমি ভীত নই’। মানব সেবা করতে গিয়ে প্রাণ দিতে হয়েছে সেই ফিলিস্তিনি তরুণী রাজন আল নাজ্জার।

‘আমাকে গুলি করুণ, তবুও আমি ভীত নই’ -গুলিতে নিহত ফিলিস্তিনি তরুণী [ভিডিও] 1

সংবাদ মাধ্যমে এখন তিনি শিরোনাম। কারণ তিনি বুক উচিয়ে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে গিয়ে মানব সেবা করেছেন। অথচ তাকেও প্রাণ দিতে হয়েছে ইহুদিদের গুলিতে। পবিত্র পূন্যভূমিতে জীবন দিয়ে তিনি যেনো সত্যিকার অর্থেই শহীদের মর্যাদা অর্জন করলেন। তিনি আর কেও নন। ফিলিস্তিনের তরুণী। ২১ বছর বয়সী রাজন আল নাজ্জার নামে ওই তরুণী ইসরাইলের গুলিতে আহত ফিলিস্তিনিদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন। ইসরাইলে স্নাইপারদের গুলিতে নিহত ফিলিস্তিনি ওই তরুণী তার শেষ ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন- আমি ফিরে আসবোই এবং কখনই পিছু হটবো না। তারা আমাকে গুলি করুক, তবুও আমি ভীত নই।

পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলো যখন বলছে- ইসরাইলের নিজের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে, তখন দেশটির সেনাবাহিনী সাদা ইউনিফর্ম পরা হালকা-পাতলা এক ফিলিস্তিনি তরুণীকে গুলি করে হত্যা করলো। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, তার বুকে গুলি লাগলে সাদা ইউনিফর্মটি রক্তে ভিজে চপচপে হয়ে যায়।

রাজন আল নাজ্জার সেখানে একটি বেসরকারি সংস্থার স্বেচ্ছাসেবী হয়ে কাজ করছিলেন। মানব সেবার বিনিময়ে রাজনকে তার প্রাণ দিতে হলো। তিনি যখন আহত বিক্ষোভকারীকে উদ্ধার করতে যাচ্ছিলেন, তখন পরিষ্কারভাবে তার দুই হাত উপরের দিকে উঠিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু তাতে কী? ইহুদি ইসরাইল কখনও আন্তর্জাতিক নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করে? না। তারা তাদের মতো করেই গুলি চালায়।

১৯৪৮ সালে ইহুদি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় প্রায় সাড়ে ৭ লাখ ফিলিস্তিনি নিজেদের বসতবাড়ি হতে বিতাড়িত হন। তারপর চলে বহু যুদ্ধ। বহু আত্মাহুতির ঘটনা ঘটেছে। এক সময় ফিলিস্তিন রাষ্ট্র আবার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু নিজ দেশেও যেনো তারা পরবাসী। প্রতিনিয়ত ইসরাইলের গুলির আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের নীরিহ মানুষ।

‘আমাকে গুলি করুণ, তবুও আমি ভীত নই’ -গুলিতে নিহত ফিলিস্তিনি তরুণী [ভিডিও] 2

গত একযুগ ধরে গাজা উপত্যকাটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরাইল। সেখানে সীমান্ত দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীও প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। এতে উপত্যকাটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কারাগারে পরিণত হয়েছে। সেখানকার অর্থনীতিও প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে গত ১৪ মে তেলআবিব হতে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফিলিস্তিনিরা বিক্ষোভে ফেটে পড়লে ইসরাইলি স্নাইপারদের গুলিতে অন্তত ৬২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইসরাইলের বিরুদ্ধে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুললেও বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো যেনো এখন নিশ্চুপ।

দেখুন ভিডিওটি
https://www.youtube.com/watch?v=ADc9wmpbORg

Loading...