The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

স্টিফেন হকিংয়ের কণ্ঠস্বর যাচ্ছে এবার ব্ল্যাক হোলে

আধুনিক বিজ্ঞানের ‘ঈশ্বর’-এর কৃত্রিম গলার স্বর হতে চলেছে এই ব্রহ্মাণ্ডে আমাদের ঠিকানা ‘মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সি’রই একটি ব্ল্যাক হোলের অন্তরে-অন্দরে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্টিফেন হকিংয়ের কথা বিশ্ববাসী ভুলবে কোনো দিন। তিনি বিশ্ববাসীকে যেসব রস দিয়েছেন তা ভোলারও নয়। সেই জনপ্রিয় পদার্থ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের কণ্ঠস্বর যাচ্ছে এবার ব্ল্যাক হোলে।

তিনি যেতে চেয়েছিলেন মহাকাশে, কিন্তু পারেননি। তার প্রিয়তম মহাজাগতিক বস্তু কৃষ্ণগহ্বর বা যাকে বলা হয় ব্ল্যাক হোলে যাচ্ছে তার ফেলে যাওয়া সেই ব্যারিটোন কণ্ঠস্বরটি। ‘আমি স্টিফেন হকিং বলছি…..’। সঙ্গে পাঠানো হচ্ছে আরও বিশেষ কিছু বার্তাও। অবশ্যই সুরে বেঁধে। মানবসভ্যতার তরফ হতে।

ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, বিশ ও একুশ শতকে আধুনিক বিজ্ঞানের ‘ঈশ্বর’-এর কৃত্রিম গলার স্বর হতে চলেছে এই ব্রহ্মাণ্ডে আমাদের ঠিকানা ‘মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সি’রই একটি ব্ল্যাক হোলের অন্তরে-অন্দরে।

তবে এই ব্ল্যাক হোলের কাছাকাছি যাওয়া যায় না। মহাকাশযান কিংবা কারও পক্ষেই তা সম্ভবও নয়। গেলেই তো তার অসম্ভব জোরালো মহাকর্ষীয় বলের টানে তাকে রীতিমতো গিলে খাবে ব্ল্যাক হোল।

তাই প্রয়াত প্রবাদপ্রতিম বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের সেই ব্যারিটোন কণ্ঠস্বর আমাদের গ্রহের সবচেয়ে কাছে থাকা একটি ব্ল্যাক হোলের উদ্দেশে ছুড়ে দেবে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ইএসএ বা ‘এসা’)। শব্দ তো তরঙ্গই বলে। সেই তরঙ্গকে তার জোরালো মহাকর্ষীয় বলের টানে টেনে নেবে এই ব্ল্যাক হোল। ওই সুর বেঁধেছেন এক গ্রিক সঙ্গীতকার ভ্যাঞ্জেলিস।

গত শতকের শেষ ঠিক দিকে হকিংই প্রথম অঙ্ক কষে দেখিয়েছিলেন যে, ‘ব্ল্যাক হোলস অর নট সো ব্ল্যাক’। ব্ল্যাক হোল মোটেও পুরোপুরি কালো নয়। সেও নাকি আলো উগরে দেয়। ব্ল্যাক হোল থেকেও নাকি বেরিয়ে আসে আলো। ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর সেই সাড়াজাগানো বই ‘আ ব্রিফ হিস্ট্রি অফ টাইম’।

চলতি বছর ১৪ মার্চ প্রয়াত হন স্টিফেন হকিং। তাঁর দেহাবশেষটি রাখা রয়েছে লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টার অ্যাবেতে।

হকিং কন্যা লুসি হকিং বলেছেন, ‘এটা খুব সুন্দর একটা প্রতীকী উদ্যোগ বটে। আমাদের গ্রহে বাবার অস্তিত্ব, তাঁর মহাকাশে যাওয়ার ইচ্ছা ও মনে মনে সব সময় তার ব্রহ্মাণ্ড পরিক্রমার মধ্যে যেনো সেতু বন্ধন ঘটলো এই উদ্যোগে।’

মহাকাশে কোন ঠিকানায় রয়েছে সেই ব্ল্যাক হোল?

হকিং-কন্যা আরও বলেছেন, ‘আমাদের গ্রহের সবচেয়ে কাছের ব্ল্যাক হোলেই যাচ্ছে বাবার ফেলে যাওয়া কণ্ঠস্বরটি। ওই ব্ল্যাক হোলের নাম- ‘1A-0620-00’। যাতে রয়েছে কমলা রংয়ের একটা বামন নক্ষত্র (ডোয়ার্ফ স্টার) সহ দু’টি তারার একটি নক্ষত্রমণ্ডল এ (বাইনারি সিস্টেম)।’

হকিংয়ের গলার স্বরে বিশেষ কী বার্তা পাঠানো হচ্ছে ওই ব্ল্যাক হোলে?

লুসি হকিং বলেছেন, মূলত শান্তি ও সম্প্রীতির কথা, আশার কথা। ঐক্য ও সংহতির কথা।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...