দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের তাপমাত্রা ক্রমে বাড়তে থাকায় ২০২৬ সাল হতে পারে বিশ্বজুড়ে প্রবালপ্রাচীর কিংবা কোরাল রিফ বিলুপ্তির বছর।

গত ১০ বছরে বিশ্বের ৩০ হতে ৫০ শতাংশ প্রবালপ্রাচীর ইতিমধ্যেই ধ্বংস হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, পৃথিবী প্রবালপ্রাচীরের অস্তিত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে যে, যেখান থেকে ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব।
প্লাইমাউথ মেরিন ল্যাবরেটরির সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান বিশেষজ্ঞ সামান্থা গারার্ড জানিয়েছেন যে, আগামী ১২ মাসে প্রবালের যে ধরনের ক্ষতি হতে পারে, তা হবে এক বিপর্যয়কর। প্রবালপ্রাচীরের ভাগ্য এখন প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ এবং শীতল পানির চক্র এল নিনোর ওপরে নির্ভর করছে। আমরা কেবলমাত্র একটি ভয়াবহ এল নিনো চক্র পার করেছি, যে কারণে বিশ্বের ৮৪ শতাংশ প্রবালপ্রাচীর ব্লিচিং লেভেল কিংবা অতিরিক্ত তাপের কবলেই পড়েছিল। ২০২৬ সালে আরেকটি এল নিনো চক্রের পূর্বাভাস থাকার কারণে প্রবালপ্রাচীর হয়তো পরবর্তী ধাক্কা সামলে উঠতেও পারবে না।
এই প্রবাল যখন অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়, তখন এটি তার টিস্যুর ভেতরে বসবাসকারী সব রঙিন শৈবালগুলোকে বের করে দেয়। যে কারণে প্রবাল সাদা হয়ে যায়। এটিকে ব্লিচিং বলা হয়। যদি তাপমাত্রা দীর্ঘ সময় ধরেই বেশি থাকে, তখন প্রবাল মারা যায়। সমুদ্রপৃষ্ঠের মাত্র ১ শতাংশ জায়গাজুড়ে থাকলেও প্রবালপ্রাচীরগুলো সাগরের ২৫ শতাংশ প্রজাতির প্রাণীকেই সহায়তা করে।
অতীতে উষ্ণ এল নিনো বছরের পর লা নিনা কিংবা শীতল পানির পর্যায়ে আসতো। এতে প্রবালপ্রাচীর সুস্থ হওয়ার জন্য কয়েক বছর সময়ও পেতো। তবে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এল নিনো চক্র বর্তমানে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং ঘন ঘন হচ্ছে। যে কারণে পানি শীতল হওয়ার সময় বেশ কমে আসছে। যুক্তরাজ্যে এক্সিটার ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল সিস্টেমস ইনস্টিটিউটের পরিচালক টিম লেন্টনের মতে, ‘প্রবালপ্রাচীরকে আমরা বর্তমানে যেভাবে চিনে থাকি, ঠিক সেভাবে টিকিয়ে রাখা আর সম্ভবই নয়।’ গত বছর ১৬০ জন বিজ্ঞানীর তৈরি গ্লোবাল টিপিং পয়েন্টস রিপোর্টে বলা হয় যে, প্রবালপ্রাচীর ইতিমধ্যেই তাদের সহনশীলতার সীমাও অতিক্রম করেছে। প্রাক্-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় তাপমাত্রা ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে গণ-ব্লিচিং অনিবার্য হয়ে পড়ে। এই মুহূর্তে পৃথিবীর তাপমাত্রা ১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।
বিজ্ঞানী গারার্ড মনে করেন, ২০২৬ সালে সব প্রবালপ্রাচীর একসঙ্গে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মতো চরম খারাপ পরিস্থিতিও হতে পারে। তবে মিসরের কাছে আকাবা উপসাগর এবং মাদাগাস্কারের প্রবালপ্রাচীর তাপসহনশীল হিসেবেও প্রমাণিত। এ ছাড়াও গভীর সমুদ্রের প্রবালপ্রাচীরগুলো শীতল পানির স্তরের কারণে হয়তো কিছুদিন বেশি টিকে থাকতেই পারে। প্রবালপ্রাচীর রক্ষা করতে সমুদ্রের পানি শীতল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করতে হবে, কারণ বিকল্প নেই। তথ্যসূত্র: ডেইলি মেইল।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org