দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ রক্তস্বল্পতা কিংবা অ্যানিমিয়া এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যখন রক্তে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর লোহিত রক্তকণিকা কিংবা হিমোগ্লোবিন থাকে না।

হিমোগ্লোবিনের প্রধান কাজ হলো ফুসফুস থেকে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া। যে কারণে রক্তস্বল্পতা হলে শরীরের কোষগুলো প্রয়োজনীয় অক্সিজেনও কম পেতে পারে। যে কারণে দুর্বলতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া বা হাত-পা ঠাণ্ডা লাগার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তবে হালকা রক্তস্বল্পতায় অনেকের কোনো রকম উপসর্গ নাও থাকতে পারে।
রক্তস্বল্পতার অনেক কারণও রয়েছে। যারমধ্যে সবচেয়ে পরিচিত কারণ হলো আয়রণের ঘাটতি। শরীরে আয়রণের ঘাটতি হলে পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে। খাবারে আয়রণের ঘাটতি, মহিলাদের অতিরিক্ত মাসিক, গর্ভাবস্থা, দীর্ঘদিনের রক্তক্ষরণ কিংবা পরিপাকতন্ত্রের কিছু সমস্যার কারণে আয়রণ-ঘাটতিজনিত অ্যানিমিয়া হতে পারে। তবে সব রক্তস্বল্পতাই আয়রণের ঘাটতির কারণে হয় না। ভিটামিন বি১২ কিংবা ফোলেটের ঘাটতি, দীর্ঘস্থায়ী রোগ, কিডনির সমস্যা, বংশগত কিছু রোগ ও রক্তক্ষরণও অ্যানিমিয়ার কারণ হতে পারে।
তাই রক্তস্বল্পতার লক্ষণ দেখা দিলে নিজের ইচ্ছায় আয়রণের ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। প্রথমে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্ত পরীক্ষা করা উচিত। সাধারণত Complete Blood Count কিংবা CBC-এর মাধ্যমে রক্তস্বল্পতা শনাক্ত করা যায়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক ferritin, serum iron, vitamin B12, folate বা রক্তক্ষরণের কারণ অনুসন্ধানের জন্য আরও পরীক্ষা দিতে পারেন।
খাদ্যাভ্যাসেও নজর দিতে হবে। আয়রণসমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে মাংস, মাছ, ডিম, ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি, সয়াবিন, টোফু, গাঢ় সবুজ শাকসবজি এবং আয়রনসমৃদ্ধ কিছু খাদ্যপণ্য। উদ্ভিজ্জ উৎসের আয়রণ শরীরে ভালোভাবে শোষিত হওয়ার জন্য ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার- যেমন কমলা, পেয়ারা, টমেটো কিংবা অন্যান্য ফল- খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
চা কিংবা কফি খাবারের সঙ্গে বা খাবারের পরপরই পান করার অভ্যাস থাকলে সেটিও পরিবর্তন করা ভালো। কারণ চায়ের কিছু উপাদান আয়রন শোষণে বাধা দিতে পারে।
আয়রণের ঘাটতি নিশ্চিত হলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী আয়রন সাপ্লিমেন্ট দিতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে আয়রন সাপ্লিমেন্টই চিকিৎসার প্রধান অংশ। তবে অপ্রয়োজনে আয়রন খাওয়া উচিত নয়, কারণ অতিরিক্ত আয়রন শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে।
বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী, অতিরিক্ত মাসিক হয় এমন নারী ও দীর্ঘদিন দুর্বলতায় ভোগা ব্যক্তিদের রক্তস্বল্পতার বিষয়টি অবহেলা করা মোটেও উচিত নয়। চিকিৎসা না করলে গুরুতর অ্যানিমিয়া হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে ও গর্ভাবস্থা এবং শিশুর বিকাশেও সমস্যা তৈরি করতে পারে।
তাই রক্তস্বল্পতার ক্ষেত্রে মূল কথা হচ্ছে- কারণ নির্ণয়, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা। শুধু আয়রণসমৃদ্ধ খাবার খেলেই সব ধরনের অ্যানিমিয়া সেরে যাবে- এমন ধারণা ঠিক নয়। দীর্ঘদিন দুর্বলতা, মাথা ঘোরা কিংবা শ্বাসকষ্ট থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ কাজ হবে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org