দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ওজন বৃদ্ধি এবং স্থূলতা বর্তমানে বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা। অতিরিক্ত ওজন কেবল শারীরিক সৌন্দর্য নষ্ট করে না, বরং ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, হৃদরোগ, আর্থরাইটিস এবং অন্যান্য জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই দ্রুত ওজন কমানো প্রয়োজন হলে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত কিছু পদক্ষেপ অনুসরণ করা জরুরি।

সুষম খাদ্যাভ্যাস
দ্রুত ওজন কমাতে সুষম খাদ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ফাস্টফুড, অতিরিক্ত চিনি ও তেলযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। খাবারে বেশি করে সবজি, ফল, ডাল, বাদাম ও হোল গ্রেইন রাখুন। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিম, মুরগি, মাছ বা ডাল শরীরের মাংসপেশি শক্ত রাখতে সাহায্য করে এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। ছোট পরিমাণে নিয়মিত খাবার খেলে হজম ভালো থাকে এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ কমে।
নিয়মিত ব্যায়াম
দ্রুত ওজন কমাতে শারীরিক কার্যক্রম অপরিহার্য। প্রতিদিন অন্তত ৩০–৪৫ মিনিট হাটা, দৌড়ানো বা সাঁতার কাটা উপকারী। কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়াম যেমন জগিং, সাইক্লিং বা হাই-ইনটেনসিটি ইন্টারভাল ট্রেনিং (HIIT) শরীরের অতিরিক্ত ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া পেশি গঠনের জন্য ওজনের ব্যায়াম বা ক্রাঞ্চেস, স্কোয়াটস, প্ল্যাঙ্ক ইত্যাদি করা প্রয়োজন।
পর্যাপ্ত পানি পান
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলে মেটাবলিজম ভালো থাকে, হজম সুগম হয় এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে আসে। পানি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে এবং ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
ঘুম ও মানসিক স্বাস্থ্য
পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক শান্তি ওজন কমানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রাতে কমপক্ষে ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। স্ট্রেস বেশি হলে হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়, যা অতিরিক্ত খাবারের প্রবণতা এবং মেদ বৃদ্ধি করে।
নিয়মিত অনুশীলন ও ধৈর্য
দ্রুত ওজন কমাতে একটি মাত্র সপ্তাহে বড় পরিবর্তন আশা করা যায় না। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ধৈর্য ধরে চালিয়ে যেতে হবে।
দ্রুত ওজন কমাতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত পানি এবং ঘুমের গুরুত্ব অপরিসীম। শুধু তাই নয়, মানসিক চাপ কমানো ও ধৈর্য ধরে পরিকল্পিত জীবনযাপন করলে স্বাস্থ্যকরভাবে দ্রুত ওজন কমানো সম্ভব হবে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org