দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ টক-মিষ্টি স্বাদের দেশীয় ফল আমড়া অনেকেরই প্রিয়। কাঁচা আমড়া লবণ-মরিচ দিয়ে, ভর্তা কিংবা আচার হিসেবে খাওয়া হয়।

আবার পাকা আমড়াও বিভিন্নভাবে খাওয়া যায়। স্বাদের পাশাপাশি আমড়ায় থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের কারণে মূলত এটি একটি বৈচিত্র্যময় খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নিতে পারে।
আমড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এতে ভিটামিন এবং বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। বিশেষ করে টক স্বাদের অনেক ফলের মতো আমড়াতেও ভিটামিন সি থাকার কারণে এটি খাদ্যতালিকায় উপকারী ফল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ভিটামিন সি শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভূমিকা রাখে এবং এটি একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবেও কাজ করে।
ভিটামিন সি-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হলো আয়রন শোষণে সহায়তা করা। NIH-এর তথ্য অনুযায়ী, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে পাওয়া আয়রন শরীরে শোষণে সাহায্য করে। তাই আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল কিংবা সবজি খাওয়া উপকারী হতে পারে।
আমড়ায় থাকা ভিটামিন সি শরীরের স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কার্যক্রমেও ভূমিকা রাখে। তবে কোনো ফলকে ‘রোগ প্রতিরোধের ওষুধ’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বরং বিভিন্ন ধরনের ফল এবং সবজি নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ।
আমড়ার আরেকটি সুবিধা হলো এতে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকে। ফলের রং, স্বাদ এবং গন্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত এসব phytochemical শরীরে বিভিন্ন জৈবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ফলের একটি উপাদানকে কেন্দ্র করে বড় কোনো রোগ প্রতিরোধ কিংবা নিরাময়ের দাবি করা বৈজ্ঞানিকভাবে ঠিক নয়।
আমড়া খাওয়ার সময় অনেকে অতিরিক্ত লবণ, মরিচ এবং চিনি যোগ করেন। টক আমড়ার সঙ্গে সামান্য মসলা খেতে সমস্যা নেই, কিন্তু অতিরিক্ত লবণ নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস স্বাস্থ্যকর নয়। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ কিংবা লবণ কমানোর পরামর্শ পাওয়া ব্যক্তিদের অতিরিক্ত লবণ এড়িয়ে চলা উচিত।
আমড়া আচার হিসেবে খেলে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। অনেক আচারে লবণ, চিনি এবং তেল বেশি থাকে। ফলে তাজা আমড়া ও অতিরিক্ত লবণ-চিনি দেওয়া আমড়ার আচারকে একইভাবে স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে দেখা উচিত নয়।
ফল খাওয়ার সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজর দিতে হবে। আমড়া ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া উচিত। রাস্তার পাশে কাটা ফলের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন, কারণ অপরিষ্কার পানি কিংবা পরিবেশ থেকে জীবাণু খাবারে চলে আসতে পারে।
যাদের দাঁতের সংবেদনশীলতা রয়েছে, অতিরিক্ত টক ফল খেলে তাদের অস্বস্তি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পরিমাণ কমিয়ে খাওয়া ও খাওয়ার পর পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নেওয়া ভালো অভ্যাস।
আমড়ার আরেকটি বড় সুবিধা হলো এটি স্থানীয় ও সহজলভ্য ফল। মৌসুমি ফল হিসেবে এটি খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনতে পারে। তবে শুধু আমড়া নয়- পেয়ারা, পেঁপে, কমলা, কলা, আপেলসহ বিভিন্ন ধরনের ফল পালাক্রমে খাওয়া ভালো।
আমড়া একটি সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর দেশীয় ফল, যা বিশেষ করে ভিটামিন সি-সহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান খাদ্যতালিকায় যোগ করতে পারে। তবে স্বাস্থ্যকর ফলকে অতিরিক্ত লবণ, চিনি কিংবা তেলে রূপান্তর না করে তাজা অবস্থায় পরিমিত খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org