দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ঢেঁড়শ আমাদের দেশের পরিচিত সবজিগুলোর মধ্যে অন্যতম। ভাজি, তরকারি, ঝোল কিংবা বিভিন্ন রান্নায় ঢেঁড়শ ব্যবহার করা হয়। দেখতে সাধারণ হলেও ঢেঁড়শে রয়েছে খাদ্যআঁশ, বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ এবং উদ্ভিজ্জ যৌগ।

বিশেষ করে এর ভেতরে থাকা পিচ্ছিল ধরনের পদার্থ অনেকের কাছে পরিচিত। এই বৈশিষ্ট্য মূলত দ্রবণীয় আঁশ এবং উদ্ভিজ্জ মিউসিলেজের সঙ্গে সম্পর্কিত।
ঢেঁড়শের অন্যতম বড় পুষ্টিগুণ হলো এতে খাদ্যআঁশের উপস্থিতি। খাদ্যআঁশ হজমতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে এবং মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। দ্রবণীয় আঁশ পানি শোষণ করে জেলজাতীয় পদার্থ তৈরি করতে পারে। এ ধরনের আঁশ খাবারের হজম এবং পুষ্টি শোষণের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
ঢেঁড়শে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফোলেটসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়ক এবং কোলাজেন তৈরিতে প্রয়োজনীয়। ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফোলেট কোষ বিভাজন এবং ডিএনএ তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় কাজে ভূমিকা রাখে।
ঢেঁড়শে পটাশিয়ামসহ কিছু খনিজও রয়েছে। পটাশিয়াম পেশি এবং স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ও শরীরের তরল ও ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। তবে কারও কিডনির সমস্যা থাকলে পটাশিয়াম গ্রহণের বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা প্রয়োজন।
ঢেঁড়শে বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও উদ্ভিজ্জ যৌগও পাওয়া যায়। এসব যৌগ শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ঢেঁড়শ কোনো নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসা কিংবা প্রতিরোধের নিশ্চয়তা দেয়- এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে করা উচিত নয়।
ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে ঢেঁড়শ নিয়ে অনেক আলোচনা রয়েছে। ঢেঁড়শে খাদ্যআঁশ থাকার কারণে খাবারের সঙ্গে এটি গ্রহণ রক্তে শর্করার বৃদ্ধির গতি প্রভাবিত করতে পারে। তবে ঢেঁড়শ ভিজিয়ে রাখা পানি পান করলেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে- এমন প্রচলিত দাবি যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সুষম খাদ্য, শারীরিক কর্মকাণ্ড, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধই গুরুত্বপূর্ণ।
ঢেঁড়শ রান্নার সময়ও সতর্কতা প্রয়োজন। অল্প তেলে রান্না করা ঢেঁড়শ স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। অতিরিক্ত তেলে ভাজা হলে খাবারের ক্যালরি বেড়ে যায়। অতিরিক্ত লবণ ব্যবহার করাও ভালো নয়।
ঢেঁড়শের আরেকটি সুবিধা হলো এটি সহজলভ্য ও রান্না করা সহজ। শিশু থেকে বয়স্ক- বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের খাদ্যতালিকায় পরিমিত ঢেঁড়শ রাখা যেতে পারে। তবে কারও নির্দিষ্ট অ্যালার্জি কিংবা খাবারে অসহিষ্ণুতা থাকলে তা বিবেচনা করতে হবে।
ঢেঁড়শ একটি পুষ্টিকর সবজি, যাতে খাদ্যআঁশ, ভিটামিন, খনিজ এবং বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে। নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাসের অংশ হিসেবে ঢেঁড়শ রাখা যেতে পারে। তবে সুস্থ থাকার জন্য শুধু ঢেঁড়শ কিংবা কোনো একটি বিশেষ খাবারের ওপর নির্ভর না করে বৈচিত্র্যময় এবং পরিমিত খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান ও নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org