দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্মার্টফোনে নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট দেওয়ার গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে। স্যামসাং তাদের গ্যালাক্সি স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেটের জন্য আগস্ট ২০২৬-এর নিরাপত্তা আপডেট প্রকাশ করেছে।

এই আপডেটে মোট ৫৬টি নিরাপত্তা দুর্বলতা বা ভলনারেবিলিটি সমাধান করা হয়েছে। এর মধ্যে গুগলের অ্যান্ড্রয়েড-সংক্রান্ত ৩৮টি ও স্যামসাংয়ের নিজস্ব ব্যবস্থার ১৮টি নিরাপত্তা ত্রুটি রয়েছে।
আধুনিক স্মার্টফোন এখন শুধু ফোন করার যন্ত্র নয়। ব্যাংকিং, মোবাইল ওয়ালেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল, ব্যক্তিগত ছবি, নথি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের তথ্য এতে সংরক্ষিত থাকে। ফলে ফোনের কোনো নিরাপত্তা ত্রুটি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
স্যামসাংয়ের আগস্ট আপডেটের মধ্যে কয়েকটি ত্রুটিকে গুরুত্বপূর্ণ কিংবা গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কিছু দুর্বলতা ব্যবহারের মাধ্যমে আক্রমণকারী বিশেষ পরিস্থিতিতে সংবেদনশীল তথ্যের কাছে পৌঁছাতে কিংবা ডিভাইসের নির্দিষ্ট কার্যক্রমে অননুমোদিত প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। স্যামসাংয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা নথিতেও বিভিন্ন ত্রুটি কীভাবে সংশোধন করা হয়েছে, তার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, স্যামসাংয়ের মেসেজিং ব্যবস্থায় ইনপুট যাচাইয়ের ত্রুটি ও কিছু মাল্টিমিডিয়া কোডেকে মেমোরি ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত সমস্যা চিহ্নিত হয়েছিল। আবার AppLock-এর মতো কিছু ব্যবস্থায় অ্যাপ্লিকেশন উপাদান ব্যবহারের পদ্ধতির সঙ্গে সম্পর্কিত দুর্বলতাও সংশোধন করা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এইসব ত্রুটি শুধু পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণের জন্য নয়। স্যামসাংয়ের আগস্ট নিরাপত্তা আপডেট অ্যান্ড্রয়েড ১৪, ১৫ ও ১৬-চালিত বিভিন্ন গ্যালাক্সি ডিভাইসের জন্য প্রযোজ্য।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার- নিরাপত্তা আপডেট প্রকাশিত হলেই সব গ্যালাক্সি ডিভাইসে একইদিনে আপডেট পৌঁছে যায় না। মডেল, দেশ, মোবাইল অপারেটর ও সফটওয়্যার সংস্করণের ওপর ভিত্তি করে আপডেট পাওয়ার সময় আলাদা হতে পারে। তাই ব্যবহারকারীদের ফোনের Settings → Software Update বিভাগে গিয়ে আপডেট রয়েছে কি-না, তা পরীক্ষা করা দরকার।
স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য এই ঘটনাটি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। নতুন ফিচার না থাকলেও নিরাপত্তা আপডেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ব্যবহারকারী নতুন সংস্করণে নতুন ক্যামেরা কিংবা ডিজাইন না থাকলে আপডেটকে অপ্রয়োজনীয় মনে করেন। তবে নিরাপত্তা আপডেটের মূল উদ্দেশ্যই হলো এমন দুর্বলতা বন্ধ করা, যেগুলো ব্যবহারকারীর অজান্তে অপব্যবহার করা হতে পারে।
বিশেষ করে যারা ফোনে ব্যাংকিং, অনলাইন কেনাকাটা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন, তাদের নিরাপত্তা আপডেটকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে অচেনা অ্যাপ ইনস্টল না করা, সন্দেহজনক লিংকে প্রবেশ না করা ও গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করাও প্রয়োজন।
প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, সাইবার হামলার কৌশলও তত জটিল হচ্ছে। তাই স্মার্টফোন নিরাপত্তা এখন শুধু পাসওয়ার্ড ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট, নিরাপদ অ্যাপ ব্যবহার এবং সচেতন আচরণ- এই ৩টি বিষয়ই ব্যক্তিগত ডিজিটাল নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org