দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সাম্প্রতিক সময় পেস্টের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার খবরে বাংলাদেশের জনগণ উদ্বিগ্ন। তবে এই মাইক্রোপ্লাস্টিক কী এবং এটি শরীরের কী কী ক্ষতি করে তা আমাদের জানা নেই। আজকে জানবো সেটি।

প্লাস্টিক এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পানির বোতল, খাবারের প্যাকেট, বাজারের ব্যাগ, প্রসাধনীর প্যাকেজিং থেকে শুরু করে পোশাক এবং ঘরের নানা সামগ্রীতে প্লাস্টিকের ব্যবহার রয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে বড় প্লাস্টিকের বস্তু ভেঙে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হচ্ছে। এইসব অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার একটি অংশকে বলা হয় মাইক্রোপ্লাস্টিক। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের কম আকারের প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর চেয়েও ক্ষুদ্র কণাকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এইসব কণা পরিবেশের পাশাপাশি মানুষের শরীরেও প্রবেশ করতে পারে।
মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের শরীরে প্রবেশের সম্ভাব্য পথের মধ্যে রয়েছে খাবার এবং পানি গ্রহণ ও বাতাসের সঙ্গে শ্বাস নেওয়া। কিছু গবেষণায় মানুষের বিভিন্ন টিস্যু এবং জৈবিক নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। একটি সাম্প্রতিক scoping review-তে মানুষের বিভিন্ন অঙ্গ ও টিস্যুতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়ার তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। তবে এগুলো শরীরে ঢোকার পর দীর্ঘমেয়াদে ঠিক কতটা ক্ষতি করে, সেই বিষয়ে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি।
২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি rapid systematic review-তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে মানব এবং প্রাণী গবেষণা বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষকরা দেখতে পান, মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শ প্রজনন, পরিপাকতন্ত্র এবং শ্বাসতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে- এমন প্রমাণ রয়েছে। বিশেষ করে কিছু গবেষণায় অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, কোষের ক্ষতি এবং শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের আশঙ্কা উঠে এসেছে। তবে গবেষণার একটি বড় অংশ এখনও প্রাণী কিংবা পরীক্ষাগারভিত্তিক হওয়ায় মানুষের ক্ষেত্রে নিশ্চিত কারণ-ফল সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
প্রজননস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের একটি systematic review-তে মানব প্লাসেন্টা এবং ভ্রূণের মল বা meconium-এ মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়। কিছু গবেষণায় প্লাসেন্টায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির সঙ্গে জন্ম এবং ভ্রূণের কিছু সূচকের সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও গবেষকরা আরও উন্নতমানের মানব গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
তাহলে এই মাইক্রোপ্লাস্টিক থেকে বাঁচার উপায় কী?
সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা কঠিন হলেও কিছু অভ্যাস ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। অতিরিক্ত একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমানও, খাবার দীর্ঘসময় প্লাস্টিকের পাত্রে সংরক্ষণ না করা, গরম খাবার কিংবা পানীয় প্লাস্টিকের পাত্রে রাখার ব্যাপারে সতর্ক থাকা ও সম্ভব হলে কাচ কিংবা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র ব্যবহার করা যেতে পারে। প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার গরম করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা ভালো।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়া। মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে গবেষণা দ্রুত এগোচ্ছে, তবে বর্তমানে মানুষের শরীরে এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মাত্রা সম্পর্কে অনেক বিষয় এখনও নিশ্চিত নয়। তাই প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো যেমন পরিবেশের জন্য ভালো, তেমনি সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রেও এটি একটি যুক্তিসংগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org