দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ চশমার বিকল্প হিসেবে কন্ট্যাক্ট লেন্স এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। চোখের সামনে প্রায় অদৃশ্যভাবে বসে থাকায় এটি ব্যবহারকারীর চেহারা ও চলাফেরায় সুবিধা দেয়।

তবে এই সুবিধার কারণে অনেকে দিনের পর দিন দীর্ঘ সময় কন্ট্যাক্ট লেন্স পরে থাকেন, কখনও কখনও ঘুমিয়েও পড়েন। এখানেই তৈরি হতে পারে বড় এক ঝুঁকি। কন্ট্যাক্ট লেন্স মূলত চিকিৎসা-সংক্রান্ত একটি ডিভাইস; সঠিক নিয়ম না মানলে চোখে সংক্রমণ, কর্নিয়ায় ক্ষত ও দৃষ্টিশক্তির গুরুতর সমস্যা পর্যন্তও হতে পারে।
কন্ট্যাক্ট লেন্স চোখের কর্নিয়ার ওপর বসে থাকে। যে কারণে দীর্ঘ সময় লেন্স পরলে চোখে অক্সিজেনের স্বাভাবিক সরবরাহ কিছুটা কমতে পারে। যে কারণে চোখ শুষ্ক লাগা, জ্বালাপোড়া, লাল হওয়া, চুলকানি কিংবা চোখে কিছু একটা আটকে থাকার মতো অনুভূতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই Dry Eye বা চোখের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ লেন্স ব্যবহার অস্বস্তি বাড়াতে পারে।
সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয়গুলোর একটি হলো কেরাটাইটিস কিংবা কর্নিয়ার সংক্রমণ। কন্ট্যাক্ট লেন্সের সঙ্গে জীবাণু যুক্ত হলে কর্নিয়ায় সংক্রমণ হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না হলে কর্নিয়ায় ক্ষত কিংবা আলসার তৈরি হয়ে স্থায়ী দৃষ্টিশক্তির ক্ষতিও হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের CDC কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারকারীদের সতর্ক করে জানিয়েছে, ভুলভাবে লেন্স ব্যবহার করলে গুরুতর চোখের সংক্রমণ এবং অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে।
ঘুমানোর সময় কন্ট্যাক্ট লেন্স পরে থাকা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। ঘুমের সময় চোখের পাতার নড়াচড়া কমে যায় ও চোখের পৃষ্ঠে অক্সিজেন সরবরাহের পরিস্থিতিও বদলে যায়। যে কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া লেন্স পরে ঘুমানো উচিত নয়। CDC-ও কন্ট্যাক্ট লেন্স পরে ঘুমানোর ঝুঁকি সম্পর্কেও সতর্ক করেছে।
আরেকটি সাধারণ ভুল হলো লেন্স পরিষ্কারের জন্য কলের পানি ব্যবহার করা। লেন্স কখনই পানিতে ধোয়া কিংবা পানিতে রেখে দেওয়া উচিত নয়। পানিতে থাকা জীবাণু, বিশেষ করে Acanthamoeba নামের অণুজীব, চোখে গুরুতর সংক্রমণ ঘটাতে পারে। কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারে অনুমোদিত নির্দিষ্ট সলিউশন ব্যবহার করতে হয়।
একইভাবে অন্যের লেন্স ব্যবহার করা, মেয়াদোত্তীর্ণ লেন্স পরা, নির্ধারিত সময়ের বেশি লেন্স ব্যবহার করা ও পুরোনো সলিউশন বারবার ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ। লেন্সের কেসও নিয়মিত পরিষ্কার এবং নির্দিষ্ট সময় পর পরিবর্তন করা প্রয়োজন।
কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করার আগে এবং পরে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। চোখে অস্বাভাবিক লালভাব, ব্যথা, আলো সহ্য না হওয়া, অতিরিক্ত পানি পড়া, পুঁজজাতীয় স্রাব কিংবা হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে গেলে লেন্স খুলে দ্রুত চোখের চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
কন্ট্যাক্ট লেন্স নিজে বিপজ্জনক নয়; বিপজ্জনক হতে পারে এর ভুল ব্যবহার। তাই সৌন্দর্য কিংবা সুবিধার জন্য সারাক্ষণ লেন্স পরে থাকার বদলে চোখকে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম দেওয়া, চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই নিরাপদ হবে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org