দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ একসময় হৃদরোগকে মূলত বয়স্ক মানুষের সমস্যা হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু বর্তমানে কম বয়সী মানুষদের মধ্যেও উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, উচ্চ কোলেস্টেরল, টাইপ-২ ডায়াবেটিসসহ হৃদ্রোগের বিভিন্ন ঝুঁকি দেখা যাচ্ছে।

American Heart Association কিংবা AHA-এর ২০২৫ সালের একটি scientific statement-এ বলা হয়েছে, অনেক তরুণ ১৮ বছর বয়সে পৌঁছানোর আগেই স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল বা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মতো cardiovascular risk factor নিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে প্রবেশ করছে।
হৃদরোগের অন্যতম বড় কারণ হলো অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার, অতিরিক্ত লবণ এবং চিনি, কম শাকসবজি-ফল খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম না করা এবং ধূমপানের মতো অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। এসব অভ্যাসের কারণে ওজন বাড়তে পারে, রক্তচাপ এবং রক্তে শর্করা বেড়ে যেতে পারে এবং কোলেস্টেরলের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা। আধুনিক জীবনে দীর্ঘসময় বসে থাকা, কম হাঁটা, সারাদিন কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহার ও নিয়মিত খেলাধুলার অভাব তরুণদের জীবনযাত্রার অংশ হয়ে উঠছে। নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
ধূমপানও অল্প বয়সে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ানোর অন্যতম কারণ। শুধু প্রচলিত সিগারেট নয়, তামাকজাত অন্যান্য পণ্যও হৃদস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই তরুণ বয়স থেকেই তামাক থেকে দূরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
উচ্চ রক্তচাপ বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয়। অনেক তরুণের রক্তচাপ বেশি থাকলেও তারা কোনো লক্ষণ অনুভব করেন না। ২০২৬ সালের একটি AHA-সম্পর্কিত গবেষণায় তরুণ বয়সে উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে পরবর্তী জীবনে হৃদরোগ এবং কিডনি রোগের ঝুঁকির সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গবেষণাটি বৈজ্ঞানিক সভায় উপস্থাপিত preliminary research, তাই এর ফলকে চূড়ান্ত কারণ-ফল সম্পর্ক হিসেবে দেখা উচিত নয়; তবে তরুণ বয়সেই রক্তচাপের দিকে নজর দেওয়ার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়।
আরেকটি কারণ হলো পারিবারিক ইতিহাস। পরিবারের কারও অল্প বয়সে হৃদ্রোগ, উচ্চ কোলেস্টেরল বা অন্য কোনো cardiovascular সমস্যা থাকলে ব্যক্তির ঝুঁকি বেশি হতে পারে। তাই শুধু বয়স কম বলে হৃদরোগের ঝুঁকি নেই- এমন ধারণা ঠিক নয়।
মানসিক চাপ এবং ঘুমের সমস্যাও জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘসময় অতিরিক্ত চাপ, অনিয়মিত ঘুম ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস একসঙ্গে থাকলে সামগ্রিক হৃদ্স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
হৃদরোগ প্রতিরোধে তরুণ বয়স থেকেই কিছু অভ্যাস তৈরি করা দরকার। নিয়মিত হাঁটা কিংবা ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা ও পর্যাপ্ত ঘুম গুরুত্বপূর্ণ। সেইসঙ্গে নিজের রক্তচাপ, রক্তে শর্করা এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা সম্পর্কে জানা দরকার। AHA-ও তরুণ বয়সে এসব cardiovascular risk factor শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিয়েছে।
বুকে চাপ কিংবা ব্যথা, অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হঠাৎ অতিরিক্ত দুর্বলতা বা পরিশ্রমে অস্বাভাবিক অস্বস্তির মতো উপসর্গ দেখা দিলে বয়স কম বলে অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
হৃদরোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে ভালো সময় হলো অসুস্থ হওয়ার আগেই। তরুণ বয়সে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা শুরু করলে ভবিষ্যতের cardiovascular risk কমানোর সুযোগ অনেক বেশি থাকে। তাই ‘আমি তো এখনো তরুণ’ -এই ধারণার পরিবর্তে অল্প বয়স থেকেই হৃদস্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org