The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

আপনার ঘর সাজাবেন যেভাবে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ঘর মানুষের শুধু বসবাসের জায়গা নয়; এটি বিশ্রাম, ব্যক্তিগত সময়, পরিবার এবং মানসিক প্রশান্তির অন্যতম প্রধান স্থান।

আপনার ঘর সাজাবেন যেভাবে 1

তাই ঘর সাজানোর সময় শুধু সৌন্দর্য নয়, আরাম, আলো-বাতাস, পরিচ্ছন্নতা এবং ব্যবহারিক সুবিধাকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অল্প খরচেও পরিকল্পিতভাবে ঘর সাজানো সম্ভব। এর জন্য প্রথমেই প্রয়োজন ঘরের জায়গা ও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনা।

ঘর সাজানোর আগে অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলুন। অনেক সময় ঘরে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি আসবাব, পুরোনো কাগজ, অপ্রয়োজনীয় কাপড় কিংবা বিভিন্ন সামগ্রী জমে থাকে। এতে ঘর ছোট এবং অগোছালো দেখায়। তাই ‘কম তবে প্রয়োজনীয়’- এই নীতি অনুসরণ করা যেতে পারে। নিয়মিত ব্যবহার হয় না এমন জিনিস আলাদা করে রাখলে ঘরের খালি জায়গা বাড়বে ও পরিষ্কার করাও সহজ হবে।

ঘরে প্রাকৃতিক আলো এবং বাতাসের প্রবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জানালা পুরোপুরি ভারী পর্দা দিয়ে ঢেকে না রেখে দিনের বেলায় যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করা ভালো। এতে ঘর উজ্জ্বল দেখানোর পাশাপাশি দিনের বেলায় কৃত্রিম আলোর প্রয়োজনও কমে। জানালা কিংবা ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা থাকলে নিয়মিত ব্যবহার করে ঘরের বাতাস চলাচল নিশ্চিত করা উচিত।

বসার ঘর সাজানোর সময় আসবাবের আকারের সঙ্গে ঘরের আয়তনের সামঞ্জস্য রাখা দরকার। ছোট ঘরে অতিরিক্ত বড় সোফা কিংবা ভারী আসবাব রাখলে চলাচলের জায়গা কমে যায়। বরং এমন আসবাব বেছে নেওয়া ভালো, যা প্রয়োজন অনুযায়ী সরানো যায় ও একাধিক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব।

শোবার ঘরের ক্ষেত্রে আরামকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। বিছানা এমন জায়গায় রাখা ভালো যেখানে চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকে। অতিরিক্ত উজ্জ্বল আলো ব্যবহার না করে আরামদায়ক আলো রাখা যেতে পারে। ঘুমের পরিবেশকে শান্ত রাখতে টেলিভিশন, অতিরিক্ত ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা অপ্রয়োজনীয় আলো কমানোও ভালো অভ্যাস।

ঘরের দেওয়ালের রং নির্বাচনেও পরিকল্পনা দরকার। ছোট ঘরকে তুলনামূলক প্রশস্ত দেখাতে হালকা রং ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে বড় ঘরে নির্দিষ্ট দেওয়ালে একটু গাঢ় বা আলাদা রং ব্যবহার করে আকর্ষণীয় পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। তবে পুরো ঘরে অনেক রং একসঙ্গে ব্যবহার করলে চোখে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

গাছ ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে পারে। তবে এমন গাছ নির্বাচন করা উচিত যেগুলো ঘরের আলো এবং পরিবেশে ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে। গাছ রাখলে নিয়মিত পরিচর্যা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজর দিতে হবে।

রান্নাঘর এবং বাথরুমের ক্ষেত্রে সৌন্দর্যের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রান্নাঘরে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সহজে পাওয়া যায় এমনভাবে সাজাতে হবে। আর্দ্র জায়গায় পানি জমে না থাকে এবং নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়- এই বিষয়েও নজর দিতে হবে।

ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে সবকিছু একসঙ্গে কিনে ফেলতে হবে এমন কোনো কথা নেই। ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় জিনিস যোগ করা যায়। পুরোনো কিছু আসবাব নতুনভাবে সাজানো, পর্দা পরিবর্তন, দেয়ালে ছবি, ছোট গাছ, কুশন কিংবা আলো পরিবর্তনের মাধ্যমেও ঘরের চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব।

তবে মনে রাখা প্রয়োজন- সুন্দর ঘর মানেই দামি আসবাবে ভরা ঘর নয়। যে ঘরে পরিচ্ছন্নতা, আলো-বাতাস, আরাম, ব্যক্তিগত পছন্দ ও ব্যবহারিক সুবিধার সমন্বয় থাকে, সেই ঘরই আসলে সবচেয়ে সুন্দর। তাই ঘর সাজানোর মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত- দেখতে সুন্দর, ব্যবহার করতে সহজ ও বসবাসে স্বস্তিদায়ক একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

Loading...
bn_BDBengali