The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

মহাকাশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তির নতুন ব্যবহার

উপগ্রহও হবে ‘বুদ্ধিমান’

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মহাকাশ প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ এখন শুধু বড় রকেট বা বেশি উপগ্রহ পাঠানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা একত্রে মহাকাশ গবেষণাকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে।

মহাকাশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তির নতুন ব্যবহার 1

২০২৬ সালের আগস্টে ভারতের মহাকাশ প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যৎ উপগ্রহ ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এবং উপগ্রহ-থেকে-উপগ্রহ যোগাযোগ ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন।

একটি আধুনিক উপগ্রহ মহাকাশে শুধু ছবি তুলে পৃথিবীতে পাঠাবে- এমন ধারণা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ভবিষ্যতের উপগ্রহে এমন এআই ব্যবস্থা থাকতে পারে, যা সংগৃহীত তথ্যের একটি অংশ মহাকাশেই বিশ্লেষণ করবে। যে কারণে প্রতিটি ছবি বা তথ্য পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে পাঠানোর প্রয়োজন কমতে পারে।

এটিকে বলা যায়, মহাকাশভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ। উদাহরণ হিসেবে কোনো উপগ্রহ যদি পৃথিবীর কোনো অঞ্চলের আগুন, বন্যা কিংবা ঘূর্ণিঝড়ের ছবি সংগ্রহ করে, তাহলে এআই সেই তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ অংশ শনাক্ত করতে পারে। এতে জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ও কমে যেতে পারে।

কোয়ান্টাম প্রযুক্তির সম্ভাবনাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। কোয়ান্টাম যোগাযোগ এবং কোয়ান্টাম সেন্সিংয়ের উন্নতি ভবিষ্যতে অত্যন্ত নিরাপদ যোগাযোগ কিংবা আরও সংবেদনশীল পরিমাপের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এই প্রযুক্তির অনেক ব্যবহার এখনও গবেষণা এবং পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো উপগ্রহ-থেকে-উপগ্রহ যোগাযোগ। বর্তমানে একটি উপগ্রহ থেকে তথ্য সরাসরি পৃথিবীর গ্রাউন্ড স্টেশনে পাঠানো হতে পারে। তবে উপগ্রহগুলো নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারলে মহাকাশে একটি আন্তঃসংযুক্ত নেটওয়ার্ক তৈরি করা সম্ভব হবে। এতে তথ্যের পথ আরও নমনীয় হতে পারে ও কিছু ক্ষেত্রে পৃথিবীর নির্দিষ্ট গ্রাউন্ড স্টেশনের ওপর নির্ভরতা কমতে পারে।

২০২৬ সালে ইউরোপের আইআরআইএস² স্যাটেলাইট ব্যবস্থার সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আগস্টের প্রতিবেদনে ইউরোপীয় স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের পূর্ণমাত্রার স্থাপনা শুরু ও ভবিষ্যতে ৩৪৮টি উপগ্রহের নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ধরনের বৃহৎ স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যোগাযোগ, নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদান ও বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা উন্নত করার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে মহাকাশে উপগ্রহের সংখ্যা বাড়ার কারণে মহাকাশের আবর্জনা কিংবা স্পেস ডেব্রি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

এআই এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। হাজার হাজার উপগ্রহ এবং মহাকাশের আবর্জনার গতিপথ পর্যবেক্ষণ করে সম্ভাব্য সংঘর্ষের ঝুঁকি শনাক্ত করতে এআই ব্যবহার করা যেতে পারে। অর্থাৎ মহাকাশে মানুষের চোখের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও ভবিষ্যতে ‘পর্যবেক্ষক’ হিসেবে কাজ করতে পারে।

মহাকাশ প্রযুক্তির এই পরিবর্তনের প্রভাব পৃথিবীর সাধারণ মানুষের জীবনেও পড়তে পারে। উন্নত আবহাওয়া পূর্বাভাস, দুর্যোগ পর্যবেক্ষণ, কৃষি নজরদারি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, নেভিগেশন ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণে এর ব্যবহার বাড়তে পারে।

মহাকাশ প্রযুক্তি এখন রকেট এবং উপগ্রহ উৎক্ষেপণের প্রতিযোগিতা ছাড়িয়ে বুদ্ধিমান মহাকাশ অবকাঠামো তৈরির দিকে এগোচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এবং উপগ্রহ-নেটওয়ার্ক একসঙ্গে বিকশিত হলে ভবিষ্যতের মহাকাশ ব্যবস্থা অনেক বেশি স্বয়ংক্রিয়, দ্রুত ও সংযুক্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali