দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের কাজকে দ্রুত ও সহজ করার পাশাপাশি সাইবার অপরাধীদের হাতেও নতুন অস্ত্র তুলে দিচ্ছে।

আগে একটি সাইবার আক্রমণ চালাতে অনেক সময় বিশেষ দক্ষতা, কোডিং জ্ঞান ও দীর্ঘ প্রস্তুতির প্রয়োজন হতো। তবে উন্নত এআই ব্যবস্থার কারণে কিছু ধরনের আক্রমণ স্বয়ংক্রিয় এবং দ্রুত করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ২০২৬ সালের আগস্টে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সাইবার নিরাপত্তা প্রতিবেদনে এআই সংস্থাগুলোর পরীক্ষায় এআই এজেন্টের মাধ্যমে অন্য প্রতিষ্ঠানের সিস্টেম হ্যাক করার ঘটনা প্রকাশের কথা উঠে এসেছে।
এখানে ‘এআই এজেন্ট’ বলতে এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা বোঝায়, যা শুধু প্রশ্নের উত্তর দেয় না; বরং নির্দিষ্ট লক্ষ্য পেলে একাধিক ধাপ নিজে পরিকল্পনা এবং সম্পাদন করতে পারে। এই প্রযুক্তি বৈধ কাজে অত্যন্ত কার্যকর। তবে একই ক্ষমতা যদি অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়, তাহলে বিপদের মাত্রা বাড়তে পারে।
সাইবার অপরাধীরা এআই ব্যবহার করে আরও বিশ্বাসযোগ্য প্রতারণামূলক বার্তা তৈরি করতে পারে। আগে বানান ভুল কিংবা অস্বাভাবিক ভাষা দেখে অনেক ফিশিং বার্তা শনাক্ত করা যেতো। এখন এআই ব্যবহার করে নিখুঁত ভাষায় ব্যক্তিগত তথ্যভিত্তিক বার্তা তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। যে কারণে সাধারণ ব্যবহারকারীর পক্ষে প্রতারণা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে উঠছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিপফেক প্রযুক্তি। ২০২৬ সালের আগস্টে স্পেনে একজন প্রতারক রিয়েল-টাইম ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৩০ জনের বেশি মানুষের পরিচয় নকল করে ইলেকট্রনিক সনদ নেওয়ার অভিযোগে ধরা পড়েছে- এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
ডিপফেকের মাধ্যমে শুধু ছবি কিংবা ভিডিও নয়, মানুষের মুখ, কণ্ঠস্বর এবং আচরণের ধরনও নকল করা সম্ভব। ফলে কেউ ভিডিও কলে পরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সেজে টাকা পাঠাতে বলতে পারে। ভবিষ্যতে ব্যাংকিং, ব্যবসা, সরকারি সেবা ও অনলাইন পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
তবে এআই শুধু আক্রমণকারীদের জন্য নয়, প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো এআই ব্যবহার করে অস্বাভাবিক আচরণ শনাক্ত, ক্ষতিকর সফটওয়্যার বিশ্লেষণ এবং দ্রুত হুমকি চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। অর্থাৎ একই প্রযুক্তি একদিকে আক্রমণের গতি বাড়াচ্ছে, অপরদিকে প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করছে।
এই পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি ভিডিও কলে পরিচিত হলেও বড় অঙ্কের টাকা পাঠানোর আগে অন্য একটি মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা উচিত। সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করা, শক্তিশালী এবং আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা, দুই স্তরের নিরাপত্তা চালু করা ও গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে নিরাপত্তা সতর্কতা সক্রিয় রাখা দরকার।
প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও শুধু পাসওয়ার্ডনির্ভর নিরাপত্তা যথেষ্ট নাও হতে পারে। পরিচয় যাচাই, কর্মীদের প্রশিক্ষণ, বহুপদক্ষেপের অনুমোদন ও সন্দেহজনক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের মতো ব্যবস্থা প্রয়োজন হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো- সাইবার নিরাপত্তার পুরোনো ধারণা বদলে যাচ্ছে। আগে মানুষকে বলা হতো, ‘অদ্ভুত বানান দেখলেই সন্দেহ করুন’। এখন শুধু ভাষা দেখে প্রতারণা শনাক্ত করা কঠিন। তাই ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নির্ভর করবে প্রযুক্তি এবং মানুষের সচেতনতার সমন্বয়ের ওপর।
এআইয়ের যুগে সাইবার অপরাধ আরও জটিল হতে পারে। তবে সচেতনতা, উন্নত নিরাপত্তা প্রযুক্তি ও দায়িত্বশীল এআই ব্যবহারের মাধ্যমে এই ঝুঁকিটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org