The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পর এবার রোবটের ‘চ্যাটজিপিটি মুহূর্ত’

মানুষের মতো কাজ করবে যন্ত্র?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির পর প্রযুক্তি দুনিয়ায় এখন আলোচনার নতুন বিষয় হয়ে উঠেছে বুদ্ধিমান রোবট।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পর এবার রোবটের ‘চ্যাটজিপিটি মুহূর্ত’ 1

এতদিন রোবট বলতে মূলত কারখানায় নির্দিষ্ট কাজ বারবার করে যাওয়া যন্ত্রকে বোঝানো হতো। তবে নতুন প্রজন্মের রোবট শুধু পূর্বনির্ধারিত নির্দেশ অনুসরণ করবে না; তারা পরিবেশ বুঝতে, মানুষের নির্দেশ ব্যাখ্যা করতে, পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে ও বাস্তব জগতে কাজ সম্পন্ন করতে পারবে। ২০২৬ সালের আগস্টে প্রযুক্তি সংবাদমাধ্যম রয়টার্সও জানিয়েছে, রোবট এমন এক পর্যায়ে এগোচ্ছে যাকে কেও কেও এআইয়ের ‘চ্যাটজিপিটি মুহূর্ত’-এর সঙ্গে তুলনা করছেন।

এই পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগে একটি রোবটকে কোনো কাজ করাতে হলে তাকে নির্দিষ্টভাবে প্রোগ্রাম করতে হতো। যেমন- একটি বস্তু নির্দিষ্ট জায়গা থেকে তুলে নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা। তবে এখন মেশিন-শিক্ষণ, কম্পিউটার দৃষ্টি, ভাষা বোঝার প্রযুক্তি ও উন্নত এআই মডেল একত্রে ব্যবহার করে রোবটকে আরও নমনীয় করে তোলা হচ্ছে।

গুগলও ২০২৬ সালে তাদের রোবটিক্স-সংক্রান্ত প্রযুক্তিতে এমন এআই ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে, যা রোবটকে বাস্তব জগতের কাজ বুঝতে এবং সম্পাদন করতে সাহায্য করছে। গুগলের জুলাই মাসের এআই হালনাগাদে ‘জেমিনি রোবোটিক্স ইআর ২’ নিয়ে বলা হয়েছে, যা রোবটকে যুক্তি প্রয়োগ, সহযোগিতা এবং বাস্তব কাজ সম্পাদনে সক্ষম করার লক্ষ্যে তৈরি।

এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার বিশাল। শিল্পকারখানায় ভারী এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করা, গুদামে পণ্য সরানো, হাসপাতালের বিভিন্ন কাজে সহায়তা করা, দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় উদ্ধারকাজ চালানো কিংবা বয়স্ক মানুষের দৈনন্দিন কাজে সহযোগিতা করার মতো কাজে বুদ্ধিমান রোবট ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে এই প্রযুক্তির সঙ্গে নতুন প্রশ্নও তৈরি হচ্ছে। রোবট যদি মানুষের মতো নির্দেশ বুঝে কাজ করতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে কত ধরনের চাকরি পরিবর্তিত হবে? বিশেষ করে কারখানা, গুদাম, সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহন এবং পরিষেবা খাতে এর প্রভাব পড়তে পারে। যদিও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ মনে করেন, রোবট সব কাজ মানুষের কাছ থেকে নিয়ে নেবে না; বরং মানুষের কাজের ধরন পরিবর্তিত হবে ও নতুন ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন তৈরি হবে।

আরেকটি বড় বিষয় হলো নিরাপত্তা। একটি রোবট যদি ভুল নির্দেশ বুঝে বা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে বাস্তব জগতে কাজ করে, তার ফল কেবল কম্পিউটার স্ক্রিনে সীমাবদ্ধ থাকবে না- মানুষ কিংবা সম্পদের ক্ষতি হতে পারে। তাই রোবটের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মানুষের নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্ব নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

২০২৬ সালের প্রযুক্তি দুনিয়ায় এআইয়ের পর রোবটিক্স নতুন মোড় নিচ্ছে। আগামী কয়েক বছরে রোবট হয়তো শুধু কারখানার যন্ত্র থাকবে না; বরং মানুষের নির্দেশ বুঝে বাস্তব জগতে কাজ করা এক ধরনের ‘ডিজিটাল সহকারী’ হয়ে উঠতে পারে। এই পরিবর্তন সফল হলে মানুষের সঙ্গে যন্ত্রের সম্পর্কও বদলে যেতে পারে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali