দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ফুসফুস আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। আমরা শ্বাস নেওয়ার সময় বাতাসের অক্সিজেন ফুসফুসের মাধ্যমে রক্তে প্রবেশ করে ও শরীরের বিভিন্ন কোষে পৌঁছে যায়।

একইসঙ্গে শরীরে তৈরি হওয়া কার্বন ডাই-অক্সাইড শ্বাস ছাড়ার মাধ্যমে বাইরে বের হয়ে যায়। তাই ফুসফুস সুস্থ থাকা মানে শুধু ভালোভাবে শ্বাস নেওয়া নয়, বরং পুরো শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক রাখার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের নানা অভ্যাস, পরিবেশগত দূষণ এবং কিছু রোগ ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট করতে পারে।
ফুসফুসের ক্ষতির অন্যতম বড় কারণ হলো ধূমপান। সিগারেটের ধোঁয়ায় হাজার হাজার রাসায়নিক পদার্থ থাকে, যার অনেকগুলোই বিষাক্ত এবং ক্যান্সার সৃষ্টিকারী। দীর্ঘদিন ধূমপান করলে ফুসফুসের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, শ্বাসনালিতে প্রদাহ তৈরি হতে পারে ও দীর্ঘমেয়াদে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ কিংবা COPD-এর ঝুঁকি বাড়তে পারে। ফুসফুসের ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও ধূমপান অন্যতম প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ কারণ। শুধু নিজে ধূমপান করাই নয়, অন্যের সিগারেটের ধোঁয়া বা পরোক্ষ ধূমপান থেকেও ক্ষতি হতে পারে।
বায়ুদূষণও ফুসফুসের জন্য বড় হুমকি। গাড়ির ধোঁয়া, শিল্পকারখানার ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা ও বাতাসে থাকা অতিক্ষুদ্র কণিকা শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে ঢুকে যেতে পারে। বিশেষ করে PM2.5-এর মতো ক্ষুদ্র কণিকা ফুসফুসের গভীরে পৌঁছাতে পারে। দীর্ঘদিন দূষিত বাতাসে বসবাস কিংবা কাজ করলে শ্বাসকষ্ট, কাশি এবং অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কর্মক্ষেত্রের কিছু রাসায়নিক এবং ধুলাবালিও ফুসফুসের ক্ষতি করতে পারে। খনি, নির্মাণ, কারখানা, পাথর কাটা, বস্ত্রশিল্প বা কিছু রাসায়নিক শিল্পে কর্মরত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন সুরক্ষা ছাড়া ধুলা কিংবা ক্ষতিকর পদার্থের সংস্পর্শে থাকলে পেশাগত ফুসফুসের রোগের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। সিলিকা, অ্যাসবেস্টস কিংবা কিছু শিল্প-রাসায়নিকের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ বিশেষভাবে ক্ষতিকর হতে পারে।
ফুসফুসের ক্ষতির আরেকটি কারণ হলো সংক্রমণ। নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা ও কিছু ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ফুসফুসকে আক্রান্ত করতে পারে। বেশিরভাগ সংক্রমণ চিকিৎসায় ভালো হয়ে গেলেও গুরুতর কিংবা দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ কখনো কখনো ফুসফুসে জটিলতা তৈরি করতে পারে।
অ্যালার্জি এবং হাঁপানিও শ্বাসনালির ওপর প্রভাব ফেলে। ধুলা, পরাগরেণু, ধোঁয়া, পশুর লোম বা অন্যান্য অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে কিছু মানুষের শ্বাসনালিতে প্রদাহ এবং সংকোচন তৈরি হতে পারে। হাঁপানি সাধারণত পুরোপুরি নির্মূল করার বিষয় নয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
ফুসফুস ভালো রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ধূমপান না করা এবং ধূমপান করলে তা ছাড়ার চেষ্টা করা। বায়ুদূষণের মাত্রা বেশি হলে বাইরে থাকার সময় সতর্কতা অবলম্বন করা, কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করা এবং নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা উপকারী হতে পারে। ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘদিন কাশি, কফ, শ্বাসকষ্ট, বুক ব্যথা, শ্বাস নেওয়ার সময় অস্বাভাবিক শব্দ কিংবা কাশির সঙ্গে রক্ত দেখা গেলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এইসব লক্ষণ বিভিন্ন রোগের কারণে হতে পারে। তাই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ফুসফুসের যত্ন আসলে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ। ধূমপানমুক্ত জীবন, দূষণ থেকে যতটা সম্ভব সুরক্ষা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার দ্রুত চিকিৎসা- এই অভ্যাসগুলো ফুসফুসকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org