The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

নবজাতক বানরের শরীর থেকে এইচআইভি পুরোপুরি দূর!

তিন ধাপের চিকিৎসায় চমকপ্রদ সাফল্য

Researchers at OHSU have found a single dose of antibodies given 30 hours after exposure to SHIV, the monkey form of HIV, prevented newborn rhesus macaques (shown here) from becoming infected. The finding could provide a new way to prevent human newborns from becoming infected with HIV after they are born from HIV-positive mothers. (OHSU/William Sutton)

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ এইচআইভি কিংবা হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাসকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।

নবজাতক বানরের শরীর থেকে এইচআইভি পুরোপুরি দূর! 1

কারণ হলো ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশ করার পর এমনভাবে নিজের জেনেটিক উপাদান কোষের ভেতরে লুকিয়ে রাখতে পারে যে প্রচলিত ওষুধ দিয়ে সেটিকে পুরোপুরি নির্মূল করা অত্যন্ত কঠিন। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এমন একটি ফল পেয়েছেন, যা ভবিষ্যতে এইচআইভি চিকিৎসার ধারণাই বদলে দিতে পারে। নবজাতক প্রাইমেট কিংবা বানরজাতীয় প্রাণীর শরীর থেকে ভাইরাস সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করার প্রমাণ পাওয়া গেছে তিন ধরনের চিকিৎসার সমন্বয়ে।

ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা এই পরীক্ষাটি পরিচালনা করেন। গবেষণায় দেখা যায় যে, জন্মের পরপরই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৩টি ভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি সমন্বিতভাবে প্রয়োগ করলে নবজাতক প্রাণীর শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি এমনভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হয় যে পরবর্তী পরীক্ষায় আর সক্রিয় ভাইরাস শনাক্ত করা যায়নি। এই গবেষণাটি ১৩ আগস্ট ২০২৬-এ প্রকাশিত হয়।

এই গবেষণার গুরুত্ব বোঝার জন্য প্রথমেই বুঝতে হবে, এইচআইভি চিকিৎসার প্রধান সমস্যা কোথায়। বর্তমানে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি কিংবা ART ব্যবহার করে শরীরে ভাইরাসের পরিমাণ অত্যন্ত কমিয়ে রাখা সম্ভব। এতে আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘ এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন ও চিকিৎসা নিয়মিত চালিয়ে গেলে অন্যের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও ব্যাপকভাবে কমে। তবে ভাইরাসের কিছু অংশ শরীরের নির্দিষ্ট কোষে ‘সুপ্ত’ অবস্থায় থেকে যেতে পারে। ওষুধ বন্ধ করলে সেই ভাইরাস আবার সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এই সমস্যাকে তিনটি ভিন্ন দিক থেকে আক্রমণ করার চেষ্টা করেছেন। প্রথমত: ভাইরাসের বিস্তার দ্রুত থামানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত: শরীরে থাকা ভাইরাসের অবশিষ্ট অংশকে লক্ষ্য করা হয়েছে। তৃতীয়ত: আক্রান্ত কোষ এবং ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

ফলাফল গবেষকদের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। চিকিৎসা পাওয়া প্রাণীদের মধ্যে এমন কিছু নমুনা পাওয়া গেছে যেখানে ভাইরাসের জেনেটিক উপাদানের কোনো কার্যকর প্রমাণ আর শনাক্ত করা যায়নি। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন- এটি এখনও মানুষের ওপর প্রমাণিত চিকিৎসা নয়। প্রাণীর ওপর সফল কোনো পরীক্ষাকে সরাসরি মানুষের চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।

তারপরও গবেষণাটির তাৎপর্যও অনেক। কারণ এটি দেখাচ্ছে, এইচআইভি নির্মূলের জন্য হয়তো একটি মাত্র ওষুধ যথেষ্ট নয়; বরং সংক্রমণের বিভিন্ন পর্যায়কে একসঙ্গে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত চিকিৎসা দেওয়ারও প্রয়োজন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের কাছে নবজাতকের ক্ষেত্রে এই ফলাফল আরও আকর্ষণীয়। জন্মের সময় কিংবা জন্মের পরপরই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ভাইরাসকে শরীরে দীর্ঘস্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই ঠেকানো সম্ভব হতে পারে। ভবিষ্যতে এমন কৌশল মানুষের ক্ষেত্রে কার্যকর প্রমাণিত হলে মা থেকে শিশুর মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তবে গবেষণাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। মানুষের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, কার্যকারিতা, সঠিক মাত্রা, দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া- সবকিছু যাচাই করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

তারপরও বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ঘটনাটিকে বলা যায় অসাধারণ। যে ভাইরাসকে এতোদিন শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ‘শত্রু’ হিসেবে দেখা হয়েছে, সেটিকে জন্মের পরপরই একাধিক কৌশলে নির্মূল করা সম্ভবও হতে পারে- এই সম্ভাবনাই ভবিষ্যৎ চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য নতুন আশার দরজা খুলে দিচ্ছে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali