দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ অনেকেই মনে করেন, কম ঘুমিয়েও স্বাভাবিকভাবে কাজ করা সম্ভব। কিন্তু দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ঘুম শুধু বিশ্রাম নয়, এটি শরীরের পুনর্গঠন ও মস্তিষ্কের কার্যক্রম ঠিক রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। ঘুম কম হলে প্রথমেই মনোযোগ এবং স্মৃতিশক্তির ওপর প্রভাব পড়ে। কর্মক্ষেত্র বা পড়াশোনায় ভুলের পরিমাণ বাড়তে পারে। পাশাপাশি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও কমে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও দুর্বল হতে পারে। ফলে সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এ ছাড়াও দীর্ঘদিন ঘুমের অভাব থাকলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ এবং স্থূলতার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে।
ঘুমের সঙ্গে শরীরের হরমোনেরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। কম ঘুম ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। ফলে অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগে এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। সে কারণে অনেকের ওজনও বেড়ে যায়।
মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বিরক্তি, উদ্বেগ এবং বিষণ্নতার লক্ষণ বাড়তে পারে। শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে ঘুমের অভাব শেখার ক্ষমতা ও আচরণেও প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণভাবে প্রতি রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমকে উপযুক্ত ধরা হয়। ভালো ঘুমের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো, ঘুমানোর আগে মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্যবহার কমানো এবং ক্যাফেইনজাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলার পরামর্শও দেন বিশেষজ্ঞরা।
সুস্থ জীবনযাপনের অন্যতম ভিত্তি হলো পর্যাপ্ত এবং মানসম্মত ঘুম। তাই ব্যস্ত জীবনের মধ্যেও ঘুমকে অবহেলা না করে দৈনন্দিন রুটিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও দেখা উচিত।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org