দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সুষম খাদ্যাভ্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নিয়মিত ফল খাওয়া। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন, বিভিন্ন ধরনের ফল শরীরকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ, খাদ্যআঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে, যা সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

কমলা, পেয়ারা, আপেল, কলা, পেঁপে, আঙুর বা মৌসুমি অন্যান্য ফলের প্রতিটিরই আলাদা পুষ্টিগুণ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহায়তা করতে পারে, আর খাদ্যআঁশসমৃদ্ধ ফল হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া অনেক ফলে থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য বজায় রাখা ভালো। একই ধরনের ফল প্রতিদিন না খেয়ে মৌসুমি এবং বিভিন্ন রঙের ফল খাদ্যতালিকায় রাখলে নানা ধরনের পুষ্টি পাওয়া সহজ হয়। তবে ফলের রসের পরিবর্তে পুরো ফল খাওয়াই বেশি উপকারী, কারণ এতে খাদ্যআঁশ অক্ষুণ্ন থাকে।
যাদের ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো বিশেষ স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের ফল নির্বাচনের ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ কিছু ফলে প্রাকৃতিক শর্করার পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে এবং ব্যক্তিভেদে খাদ্য পরিকল্পনা ভিন্ন হওয়া দরকার।
ফল কেনার সময় তাজা, পরিষ্কার এবং নিরাপদ উৎস থেকে সংগ্রহ করা গুরুত্বপূর্ণ। খাওয়ার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা, যাতে ময়লা বা সম্ভাব্য রাসায়নিক অবশিষ্টাংশ কমানো যায়।
নিয়মিত ফল খাওয়ার অভ্যাস শিশু থেকে বয়স্ক- সব বয়সী মানুষের জন্য উপকারী হতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান ও নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ফলকে যুক্ত করলে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ জীবনযাপনে ইতিবাচক প্রভাবও পড়তে পারে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org