The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

আলু আমাদের শরীরের কী কী উপকার করে?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আলু নিয়ে মানুষের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা হচ্ছে- আলু খেলেই ওজন বাড়ে কিংবা এটি স্বাস্থ্যকর খাবার নয়। বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়।

আলু আমাদের শরীরের কী কী উপকার করে? 1

আলু একটি শর্করাযুক্ত কন্দজাতীয় খাবার এবং এটি সঠিক পরিমাণে এবং স্বাস্থ্যকর পদ্ধতিতে রান্না করে খেলে সুষম খাদ্যের অংশ হতে পারে। আলুতে কার্বোহাইড্রেটের পাশাপাশি পটাশিয়াম, ভিটামিন সি ও কিছু খাদ্যআঁশও পাওয়া যায়।

আলুর প্রধান পুষ্টি উপাদান হলো কার্বোহাইড্রেট। কার্বোহাইড্রেট শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শক্তির উৎস। বিশেষ করে যারা শারীরিক পরিশ্রম করেন, তাদের খাদ্যতালিকায় উপযুক্ত পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট প্রয়োজন হতে পারে। তবে আলুর পরিমাণ ও এর সঙ্গে কী খাওয়া হচ্ছে- দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।

আলুতে থাকা পটাশিয়াম শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ। এটি কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম, পেশির কাজ এবং শরীরের তরল ভারসাম্যসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। এ ছাড়াও আলুতে ভিটামিন সিও পাওয়া যায়। ভিটামিন সি শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় এবং এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবেও কাজ করে।

আলুর খোসায়ও কিছু পুষ্টি এবং খাদ্যআঁশ থাকে। তাই ভালোভাবে পরিষ্কার করে খাওয়ার উপযোগী হলে খোসাসহ সেদ্ধ কিংবা বেক করা আলু খাদ্যআঁশের পরিমাণ বাড়াতে পারে। তবে খোসাসহ খাওয়ার আগে আলু ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরি।

আলু কীভাবে রান্না করা হচ্ছে, তার ওপর এর স্বাস্থ্যগত প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করে। সেদ্ধ, ভাপানো কিংবা বেক করা আলু সাধারণত গভীর তেলে ভাজার তুলনায় স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি। অন্যদিকে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই কিংবা অতিরিক্ত তেলে ভাজা আলুতে অনেক বেশি ক্যালরি এবং চর্বি যোগ হতে পারে। সাম্প্রতিক একটি চিকিৎসা পর্যালোচনাতেও আলুর স্বাস্থ্যগুণের ক্ষেত্রে রান্নার ধরন, পরিমাণ এবং ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে।

আলুর সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ, মাখন, চিজ বা চর্বিযুক্ত সস যোগ করলে খাবারের মোট ক্যালরি এবং সোডিয়াম বেড়ে যেতে পারে। তাই আলুকে স্বাস্থ্যকরভাবে খেতে চাইলে সবজি, ডাল, মাছ বা অন্যান্য প্রোটিনের সঙ্গে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া ভালো।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য আলুর পরিমাণ এবং রান্নার ধরন বিশেষভাবে বিবেচনা করা দরকার। কারণ আলুতে সহজে হজমযোগ্য শর্করা রয়েছে এবং এর glycemic response তুলনামূলক বেশি হতে পারে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে ব্যক্তিগত খাদ্য পরিকল্পনা অনুযায়ী আলুর পরিমাণ নির্ধারণ করা ভালো।

কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রেও আলুর পটাশিয়ামের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যাদের চিকিৎসক পটাশিয়াম সীমিত করার পরামর্শ দিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে আলু খাওয়ার পরিমাণ নিয়ে চিকিৎসক কিংবা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আলুকে সম্পূর্ণ ‘খারাপ’ খাবার হিসেবে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং স্বাস্থ্যকর রান্নার পদ্ধতি, সঠিক portion ও সুষম খাদ্যতালিকার সঙ্গে আলু খাওয়াই ভালো। আলুর সঙ্গে সবজি এবং প্রোটিন রাখলে খাবারটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়।

তাই আলু শরীরকে শক্তি জোগানোর পাশাপাশি পটাশিয়াম, ভিটামিন সি এবং কিছু খাদ্যআঁশ সরবরাহ করতে পারে। তবে অতিরিক্ত আলু, বিশেষ করে তেলে ভাজা আলু নিয়মিত খাওয়া স্বাস্থ্যকর নয়। আলু নয়, বরং আলুর পরিমাণ এবং রান্নার পদ্ধতিই অনেকাংশে নির্ধারণ করে এটি আপনার খাদ্যতালিকায় কতটা স্বাস্থ্যকর হতে পারে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali