The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

কেনো আপেল খাবেন: এর পুষ্টিগুণ জেনে নিন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রতিদিন একটি আপেল খেলে ডাক্তার দূরে থাকে- এমন একটি প্রচলিত প্রবাদ রয়েছে। এই কথাটি পুরোপুরি সত্য না হলেও, আপেলের পুষ্টিগুণ বিবেচনায় এটি মোটেও অমূলক নয়।

কেনো আপেল খাবেন: এর পুষ্টিগুণ জেনে নিন 1

সহজলভ্য ও সুস্বাদু এই ফলটি আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আপেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, বিশেষ করে পেকটিন নামক দ্রবণীয় ফাইবার, যা হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে। নিয়মিত আপেল খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। এ ছাড়াও এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিক্যাল দূর করতে সহায়তা করে, ফলে দীর্ঘমেয়াদি নানা রোগের ঝুঁকি কমে।

হৃদরোগ প্রতিরোধেও আপেলের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এতে থাকা ফাইবার ও পলিফেনল কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। বিশেষ করে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে আপেল কার্যকর, যা হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

আপেল ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক একটি ফল। এতে ক্যালোরি কম, কিন্তু ফাইবার বেশি থাকায় এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। ফলে অপ্রয়োজনীয় খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। যারা ডায়েট করছেন, তাদের জন্য আপেল একটি আদর্শ স্ন্যাকস হতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও আপেল উপকারী। এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলক কম, ফলে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ায় না। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে আপেল খেলে রক্তে সুগারের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

ত্বক ও চুলের জন্যও আপেল ভালো। এতে থাকা ভিটামিন সি ত্বক উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে এবং কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়। এছাড়া আপেলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বার্ধক্যের লক্ষণ ধীর করতে ভূমিকা রাখে।

আপেল শুধু একটি সুস্বাদু ফল নয়, বরং এটি একটি পুষ্টিগুণে ভরপুর স্বাস্থ্যকর খাদ্য। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় একটি করে আপেল রাখলে শরীরের নানা উপকার পাওয়া সম্ভব।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali