দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশের রান্নাঘরে শুকনা মরিচ অত্যন্ত পরিচিত একটি মসলা। তরকারি, ভর্তা, ডাল কিংবা বিভিন্ন ধরনের রান্নায় স্বাদ এবং ঝাল বাড়াতে শুকনা মরিচ ব্যবহার করা হয়।

তবে শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ানোই এর কাজ নয়- মরিচে থাকা capsaicin নামের একটি সক্রিয় উদ্ভিজ্জ যৌগ নিয়ে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন।
Capsaicin-ই মূলত মরিচের ঝাল এবং জ্বালাপোড়ার অনুভূতি তৈরি করে। গবেষণায় এই যৌগটির সম্ভাব্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, প্রদাহনিয়ন্ত্রণকারী, বিপাকীয় ও হৃদস্বাস্থ্য-সম্পর্কিত প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এইসব সম্ভাব্য উপকারের অনেকগুলো এখনও গবেষণাধীন এবং মরিচকে কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করার মতো প্রমাণ নেই।
২০২৬ সালের Cleveland Clinic-এর একটি সাম্প্রতিক স্বাস্থ্যবিষয়ক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, স্বাভাবিক রান্নার পরিমাণে capsaicin হজম এবং অন্ত্রের microbiome-কে সহায়তা করতে পারে- এমন গবেষণা রয়েছে। একইসঙ্গে রক্তনালির কার্যকারিতা, রক্তচাপ ও lipid profile-এর ওপর সম্ভাব্য ইতিবাচক প্রভাব নিয়েও গবেষণা চলছে।
তবে এখানেই সতর্কতার প্রয়োজন। ‘মরিচ খেলেই হৃদরোগ বা ক্যানসার প্রতিরোধ হবে’- এমন দাবি করা ঠিক নয়। মানুষের ওপর পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণার ফল সব ক্ষেত্রে এক নয়। একটি umbrella review-তে মরিচ ও ঝাল খাবারের সঙ্গে বিভিন্ন স্বাস্থ্যফলের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে গবেষকরা জানিয়েছেন যে অনেক ক্ষেত্রে প্রমাণ অস্পষ্ট ও আরও উচ্চমানের গবেষণা প্রয়োজন।
শুকনা মরিচের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে- এতে বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান থাকে। এইসব উপাদান শরীরের oxidative stress-এর বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কোনো একটি খাবারের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যকে কেন্দ্র করে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসুরক্ষার দাবি করা উচিত নয়।
কারও কারও ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঝাল খাবার অস্বস্তির কারণ হতে পারে। মরিচ খাওয়ার পর পেটে জ্বালাপোড়া, অম্বল, বদহজম কিংবা পেটের অস্বস্তি হলে পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া উচিত। অতিরিক্ত capsaicin গ্রহণে অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া হতে পারে বলেও গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে।
শুকনা মরিচ কীভাবে রান্নায় ব্যবহার করা হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। মরিচের সঙ্গে যদি অতিরিক্ত তেল, লবণ কিংবা ভাজাপোড়া খাবার যুক্ত থাকে, তাহলে খাবারটির সামগ্রিক স্বাস্থ্যগুণ কমে যেতে পারে। তাই শুধু মরিচকে আলাদা করে না দেখে পুরো খাবারের ধরন বিবেচনা করা উচিত।
মরিচের স্বাস্থ্যগত সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা থাকলেও এটি কোনো ওষুধ নয়। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, গ্যাস্ট্রিক কিংবা অন্য কোনো রোগ থাকলে চিকিৎসকের দেওয়া খাদ্যনির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
তাই পরিমিত পরিমাণে শুকনা মরিচ একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। এর capsaicin এবং অন্যান্য উদ্ভিজ্জ যৌগ নিয়ে সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারের গবেষণা রয়েছে, তবে অতিরিক্ত ঝাল খেলে উপকার বাড়বে- এমন ধারণা ভুল। শরীরের সহনশীলতা অনুযায়ী পরিমিত ব্যবহারই সবথেকে ভালো।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org