দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আমলকী আমাদের দেশে পরিচিত একটি টকজাতীয় ফল। ছোট আকারের এই ফলটি পুষ্টিগুণের দিক থেকে অনেক বেশী সমৃদ্ধ।

বিশেষ করে ভিটামিন সি, বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খাদ্যআঁশের উপস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে আমলকি খাদ্য ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা ব্যবস্থায় গুরুত্ব পেয়ে আসছে। তবে আমলকি কোনো রোগের নিশ্চিত চিকিৎসা- এমন দাবি করা উচিত নয়। বরং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এটি গ্রহণ করা যেতেই পারে।
আমলকির সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য হলো এতে ভিটামিন সি-এর উপস্থিতি। ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমেও ভূমিকা রাখে। এটি কোলাজেন তৈরিতে প্রয়োজনীয়, যা ত্বক, রক্তনালি, হাড় এবং অন্যান্য সংযোজক টিস্যুর স্বাভাবিক গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি উদ্ভিজ্জ খাবার থেকে আয়রণ শোষণে ভিটামিন সি সহায়তা করতে পারে।
আমলকিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতিকর প্রভাব হতে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। শরীরে স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়ার অংশ হিসেবে ফ্রি র্যাডিক্যাল তৈরি হয়। খাদ্য থেকে পাওয়া বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এই ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। তবে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি খেলেই সব রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব- এমন ধারণা সঠিক নয়।
আমলকিতে খাদ্যআঁশও রয়েছে। আঁশ অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে ও মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার নিয়মিত গ্রহণ সামগ্রিক হজমস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমলকি একাই হজমের সব সমস্যা সমাধান করে না। এর সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি, শাকসবজি, অন্যান্য ফল ও নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডও প্রয়োজন।
অনেকে চুলের যত্নে আমলকি ব্যবহার করেন। আমলকির নির্যাস কিংবা তেল বিভিন্ন প্রসাধনীতে ব্যবহৃত হয়। তবে খাদ্য হিসেবে আমলকি খেলে চুল পড়া বন্ধ হয়ে যাবে কিংবা টাকের চিকিৎসা হবে- এমন নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক দাবি করা ঠিক নয়। চুল পড়ার পেছনে পুষ্টির ঘাটতি, হরমোন, বংশগত কারণসহ বিভিন্ন বিষয় থাকতে পারে।
আমলকি কাঁচা, লবণ-মরিচ দিয়ে, ভর্তা, আচার কিংবা বিভিন্ন পানীয়ের সঙ্গে খাওয়া হয়। তবে অতিরিক্ত লবণ ও চিনি দিয়ে আমলকি খেলে এর স্বাস্থ্যকর দিক অনেকটাই নষ্ট হতে পারে। বাজারে পাওয়া আমলকির মিষ্টি ক্যান্ডি কিংবা চিনিযুক্ত পণ্যও নিয়মিত বেশি খাওয়া উচিত নয়।
যাদের দাঁতের এনামেল সংবেদনশীল, তাদের টক ফল খাওয়ার পর পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ কুলকুচি করা উপকারী হতে পারে। অতিরিক্ত টক খাবার দীর্ঘ সময় দাঁতের সংস্পর্শে থাকলে দাঁতের এনামেলে ক্ষয় হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তাই আমলকি স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকায় যুক্ত করার মতো একটি পুষ্টিকর ফল। ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খাদ্যআঁশের কারণে এটি শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে। তবে সুস্থ থাকতে হলে শুধু আমলকির ওপর নির্ভর না করে বৈচিত্র্যময় এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org