দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বলিউড অভিনেতা ইমরান হাশমির নতুন সিনেমা ‘আওয়ারাপন-২’ দিয়ে বক্স অফিস দখল করেছেন। তবে সাফল্যর আনন্দ উপভোগ করার মধ্যে ভাইরাসবাহিত সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছেন এই অভিনেতা।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনযায়ী জানা যায়, কয়েক দিন ধরে অসুস্থ থাকার পর মুম্বাইয়ে তার পরীক্ষা করা হলে চিকিৎসকরা এই ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন। আপাতত তাকে চিকিৎসকের পরামর্শে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে বলা হয়।
সম্প্রতি কাজের সূত্রে ভারতের রাঁচিসহ একাধিক শহর ভ্রমণ শেষে মুম্বাই ফেরেন ইমরান হাশমি। এর পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত সিনেমাটির একটি বিশেষ প্রদর্শনীতে উপস্থিত থাকতে পারেননি তিনি। এই ঘটনার জন্য নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দুঃখপ্রকাশ করে ভক্তদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ইমরান হাশমি।
শারীরিক অসুস্থতার খবর এলেও বক্স অফিসে ‘আওয়ারাপন-২’ সিনেমার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। দেশটির স্বাধীনতা দিবসে মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্রটি ইতিমধ্যেই ভারতের বাজারে ৪০ কোটি ৫০ লাখ রুপি আয় করেছে। মুক্তির প্রথম দিনে সিনেমাটি ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া মূল ‘আওয়ারাপন’ সিনেমার মোট আয়কে ছাড়িয়ে গেছে। এ ছাড়াও প্রথম শনিবারের মধ্যেই এটি ইমরান হাশমির পূর্ববর্তী হিট সিনেমা ‘হক’, ‘রাজ টু’, ‘এক থি ডাইন’ এবং ‘জন্নাত’-এর মোট ব্যবসাকে পেছনে ফেলেছে। বক্স অফিস দৌড়ে এটি সানি দেওলের ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’ সিনেমাটির চেয়েও বেশ খানিকটা এগিয়ে রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের জনপ্রিয় ক্রাইম-থ্রিলার ‘আওয়ারাপন’-এর সিক্যুয়েল হিসেবেই নির্মিত হয়েছে ‘আওয়ারাপন-২’। বিশেশ ফিল্মসের ব্যানারে বিশেশ ভাট প্রযোজিত ও নিতিন কক্কর পরিচালিত এই সিনেমাতে ইমরান হাশমির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিশা পাটানি এবং শাবানা আজমি। পুরোনো চেনা রূপে ইমরান হাশমির পর্দায় ফেরা দর্শক এবং ভক্তদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসায় ভাসছে এই সিনেমাটি।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org