দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কোনো নতুন প্রাণী আবিষ্কার করতে সবসময় গভীর জঙ্গল, দুর্গম পাহাড় বা সমুদ্রের তলদেশে অভিযান চালাতে হয় না।

কখনও কখনও নতুন আবিষ্কারের সূত্র বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীদের চোখের সামনেই পড়ে থাকতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের বিখ্যাত La Brea Tar Pits-এর জীবাশ্ম সংগ্রহে সম্প্রতি এমন একটি ঘটনা ঘটেছে।
বিজ্ঞানীরা বহু দশক আগে সংগ্রহ করা কিছু ছোট হাড় নতুন করে পরীক্ষা করে বুঝতে পেরেছেন, সেগুলো কোনো পরিচিত প্রজাতির নয়। বরং এগুলো একটি নতুন বিলুপ্ত বরফযুগের ব্যাঙের প্রজাতির। নতুন প্রজাতিটির নাম দেওয়া হয়েছে Spea labreae। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, এর হাড় সংগ্রহশালায় পড়ে ছিল বহু বছর ধরে, তবে এতদিন সেটিকে আলাদা প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি।
La Brea Tar Pits পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত জীবাশ্মস্থল। হাজার হাজার বছর ধরে প্রাকৃতিক অ্যাসফল্ট কিংবা পিচের মতো পদার্থে আটকে গিয়ে অসংখ্য প্রাণীর দেহাবশেষ সেখানে সংরক্ষিত হয়েছে। বিশালাকৃতির শিকারি প্রাণী, নেকড়ে, ঘোড়া, উটজাতীয় প্রাণীসহ বরফযুগের বহু প্রাণীর জীবাশ্ম এখান থেকে পাওয়া গেছে।
তবে নতুন ব্যাঙটির সন্ধান বিজ্ঞানীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উত্তর আমেরিকার Pleistocene কিংবা বরফযুগের জীবাশ্ম রেকর্ডে উভচর প্রাণীর উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বিরল। নতুন প্রজাতিটি সেই শূন্যতা পূরণে সাহায্য করতে পারে।
গবেষকদের মতে, Spea labreae আধুনিক spadefoot toad কিংবা মাটিখোঁড়া ব্যাঙের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই ধরনের ব্যাঙের বিশেষ অভিযোজন ক্ষমতাও রয়েছে। তারা শুষ্ক পরিবেশে টিকে থাকতে পারে ও অনুকূল পরিবেশ পেলে দ্রুত প্রজনন করতে পারে।
নতুন প্রজাতিটির হাড় অত্যন্ত ছোট হওয়ায় এতদিন এটি অন্য কোনো পরিচিত ব্যাঙের প্রজাতির সঙ্গে মিশে ছিল। জীবাশ্মবিদেরা হাড়ের আকৃতি, গঠন ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য সূক্ষ্মভাবে তুলনা করে বুঝতে পারেন যে এটি পৃথক প্রজাতি।
এই আবিষ্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক শিক্ষা দেয়- জাদুঘর এবং গবেষণাগারে সংরক্ষিত পুরোনো নমুনার মূল্য কখনও শেষ হয়ে যায় না। নতুন প্রযুক্তি, নতুন তুলনামূলক তথ্য ও নতুন বৈজ্ঞানিক প্রশ্নের কারণে বহু পুরোনো নমুনাও নতুন তথ্য দিতে পারে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, এই ব্যাঙটি বরফযুগের পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য দিতে পারে। সেই সময় দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার পরিবেশ আজকের তুলনায় ভিন্ন ছিল। কোন ধরনের জলাশয়, উদ্ভিদ এবং জলবায়ুতে এই ব্যাঙ বাস করতো, সেটি জানলে সেই সময়ের স্থানীয় পরিবেশ পুনর্গঠন করা সহজ হতে পারে।
গবেষকরা মনে করছেন, প্রাচীন উভচর প্রাণীদের জীবাশ্ম খুঁজে বের করা কঠিন হওয়ায় বরফযুগে ব্যাঙ এবং অন্যান্য ছোট প্রাণীর বৈচিত্র্য সম্পর্কে আমাদের ধারণা এখনও অসম্পূর্ণ।
অর্থাৎ, নতুন প্রজাতিটি শুধু একটি ব্যাঙের নামের তালিকায় যোগ হওয়া নয়। এটি প্রমাণ করছে, মানুষের সংগ্রহশালায় থাকা পুরোনো জীবাশ্মের মধ্যেও এমন তথ্য লুকিয়ে থাকতে পারে যা কয়েক দশক পর বিজ্ঞানকে চমকে দিতে পারে।
যে হাড়গুলো একসময় হয়তো সাধারণ নমুনা হিসেবে তাকের কোনো কোণে পড়ে ছিল, সেগুলোই এখন প্রায় বরফযুগের হারিয়ে যাওয়া একটি প্রাণীর পরিচয় প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞানীদের জন্য এটি যেমন বিস্ময়কর, তেমনি ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্যও একটি বড় ইঙ্গিত- পুরোনো সংগ্রহে হয়তো এখনও বহু অজানা প্রাণীর গল্প লুকিয়ে রয়েছে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org