The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

৮৫০০ বছর আগে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে দ্বীপে পৌঁছেছিল মানুষ!

প্রস্তরযুগের নাবিকদের নিয়ে নতুন রহস্য

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মানুষ কবে প্রথম সমুদ্র পাড়ি দিতে শিখেছিল? দীর্ঘদিন ধরে প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা ছিল, কৃষিকাজ শুরু হওয়ার পর ও উন্নত নৌযান তৈরি হওয়ার সঙ্গে মানুষের দূরপাল্লার সমুদ্রযাত্রা ব্যাপকভাবে শুরু হয়। তবে মাল্টার সাম্প্রতিক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা সেই ধারণাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

৮৫০০ বছর আগে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে দ্বীপে পৌঁছেছিল মানুষ! 1

গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, প্রায় ৮৫০০ বছর আগে, অর্থাৎ কৃষিভিত্তিক সমাজ পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হওয়ারও আগে, শিকারি-সংগ্রাহক মানুষের দল ভূমধ্যসাগরের খোলা সমুদ্র পাড়ি দিয়ে মাল্টায় পৌঁছেছিল। মাল্টার Latnija Cave-এ পাওয়া প্রাণীর হাড়, পাথরের সরঞ্জাম এবং অন্যান্য নিদর্শন এই প্রাচীন মানব উপস্থিতির প্রমাণ দেয়।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, মাল্টা মূল ভূখণ্ডের খুব কাছের কোনো দ্বীপ নয়। সমুদ্রপৃষ্ঠের পরিবর্তনের ইতিহাস বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, সেই সময়ও সিসিলি থেকে মাল্টায় পৌঁছাতে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত খোলা জল পাড়ি দিতে হতো। অর্থাৎ কোনো পাহাড়ের আড়াল ধরে কিংবা উপকূলের খুব কাছ দিয়ে পুরো যাত্রা সম্পন্ন করার সুযোগ ছিল না।

এতে প্রশ্ন ওঠে- প্রস্তরযুগের শিকারি-সংগ্রাহকদের কাছে কি এমন নৌযান ছিল, যা দিয়ে তারা এত দূরের সমুদ্র পার হতে পারত?

গবেষকদের ধারণা, সম্ভবত তাদের নৌযাত্রা ছিল পরিকল্পিত। তারা শুধু একবার দুর্ঘটনাক্রমে দ্বীপে পৌঁছে যায়নি; বরং মাল্টায় নিয়মিত যাতায়াতের সম্ভাবনাই বেশি। কারণ দ্বীপে দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতির প্রমাণ রয়েছে ও বিভিন্ন সময়ে সেখানে মানুষের ব্যবহারের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

প্রাচীন মানুষের খাদ্যাভ্যাসও এই ধারণাকে সমর্থন করে। প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে সামুদ্রিক প্রাণীর অবশেষ, মাছ ও বিভিন্ন প্রাণীর হাড় পাওয়া গেছে। সেইসঙ্গে পাথরের সরঞ্জাম পাওয়া গেছে, যা দৈনন্দিন কাজ এবং শিকার কিংবা খাদ্য প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হতে পারে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গবেষকরা মনে করছেন যে, মাল্টায় বসবাসকারী এই জনগোষ্ঠী হয়তো সিসিলি এবং অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিল। একটি ছোট এবং বিচ্ছিন্ন দ্বীপে দীর্ঘদিন বসবাস করলে জেনেটিক বৈচিত্র্য বজায় রাখার জন্য বাইরের জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এই আবিষ্কার মানুষের সামুদ্রিক অভিযানের ইতিহাসকে নতুনভাবে দেখার সুযোগও দিয়েছে। সাধারণভাবে আমরা প্রাচীন নাবিকদের কথা বলতে গেলে কৃষিভিত্তিক সভ্যতা কিংবা পরবর্তী ব্রোঞ্জ যুগের মানুষদের কথা ভাবি। তবে তারও হাজার হাজার বছর আগে মানুষ সমুদ্রের ভৌগোলিক সীমা অতিক্রম করছিল।

এটি মানুষের মানসিক সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। সমুদ্র পাড়ি দিতে শুধু নৌকা থাকলেই হয় না; আবহাওয়া, ঢেউ, দিকনির্দেশনা, দূরত্ব ও দ্বীপের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। রাতের আকাশ, সূর্যের অবস্থান, বাতাসের দিক ও সমুদ্রের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে তারা হয়তো পথ নির্ধারণ করতো।

তবে ঠিক কী ধরনের নৌযান ব্যবহার করা হয়েছিল, তা এখনও জানা যায়নি। কারণ কাঠের তৈরি প্রাচীন নৌযান হাজার হাজার বছর ধরে সংরক্ষিত থাকা অত্যন্ত কঠিন।

এরপরও ৮৫০০ বছর আগের এই যাত্রা মানুষের ইতিহাসের একটি বিস্ময়কর অধ্যায়। আমরা যাদের ‘আদিম শিকারি-সংগ্রাহক’ বলে অভিহিত করি, তারা হয়তো বাস্তবে সমুদ্র সম্পর্কে অনেক বেশি জ্ঞানী ও সাহসী ছিল।

অর্থাৎ আধুনিক নৌযান, GPS বা কম্পাস আবিষ্কারের হাজার হাজার বছর আগে মানুষ খোলা সমুদ্রের ওপর নির্ভর করে নতুন ভূমিতে পৌঁছেছিল। প্রস্তরযুগের সেই নাবিকরা হয়তো মানবজাতির প্রথম দিককার বড় অভিযাত্রীদের অন্যতম ছিলেন।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali