দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই তিমি মাছের শব্দ ও যোগাযোগ পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছেন। সম্প্রতি গবেষণায় এমন কিছু তথ্য উঠে এসেছে, যা বিশ্বজুড়ে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।

গবেষকরা বলছেন, কিছু তিমি মানুষের তৈরি নির্দিষ্ট শব্দ ও সংকেতের প্রতিক্রিয়া দিতে সক্ষম হচ্ছে। অর্থাৎ ধীরে ধীরে তারা মানুষের ভাষার কিছু অংশ বুঝতে শিখছে।
বিশেষ করে স্পার্ম হোয়েল বা বিশাল দাঁতওয়ালা তিমি নিয়ে গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এরা নিজেদের মধ্যে জটিল সংকেত ব্যবহার করে যোগাযোগ করে। তাদের শব্দের ধরণ অনেকটা ভাষার মতো। গবেষকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তিমিদের আওয়াজ বিশ্লেষণ করছেন। এতে দেখা গেছে, তাদের যোগাযোগের মধ্যে নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্যাটার্ন রয়েছে।
সম্প্রতি কয়েকটি গবেষণা দলে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা মানুষের পাঠানো শব্দ বা সংকেত তিমিদের কাছে পৌঁছে দেয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, কিছু তিমি নির্দিষ্ট সংকেতের জবাবও দিয়েছে। এতে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে মানুষের সঙ্গে তিমির সীমিত যোগাযোগ সম্ভব হতে পারে।
গবেষকদের মতে, তিমিরা অত্যন্ত বুদ্ধিমান প্রাণী। তারা দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে, একে অপরকে সাহায্য করে এবং সন্তানদের বিশেষভাবে লালন-পালন করে। এমনকি কিছু তিমি নিজেদের পরিচিত সদস্যকে বছরের পর বছর মনে রাখতে পারে।
এই গবেষণার ফলে শুধু প্রাণীদের আচরণ নয়, মানুষের ভাষা ও যোগাযোগ সম্পর্কেও নতুন ধারণা পাওয়া যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, পৃথিবীর বাইরে কোনো প্রাণীর সঙ্গে যোগাযোগের প্রযুক্তি তৈরিতেও এই গবেষণা কাজে লাগতে পারে।
তবে বিষয়টি নিয়ে অনেক বিতর্কও রয়েছে। কেও কেও মনে করেন যে, প্রাণীদের অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত পরীক্ষার মধ্যে ফেলা ঠিক নয়। আবার অন্যদের মতে, এটি মানুষ ও প্রাণীর সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
বিশ্বের নানা গবেষণা কেন্দ্র এখন তিমির ভাষা বিশ্লেষণে কাজ করছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই হয়তো মানুষ প্রথমবারের মতো কোনো সামুদ্রিক প্রাণীর সঙ্গে আরও স্পষ্টভাবে যোগাযোগ করতে পারবে। যদি তা সম্ভব হয়, তাহলে সেটি হবে মানব ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর বৈজ্ঞানিক ঘটনা।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org