The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

মায়ের কাছ থেকে শিকার শেখা ডলফিন!

খালি ঝিনুক দিয়ে মাছ ধরার ভিডিওতে চমকে গেলেন বিজ্ঞানীরা

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ডলফিনকে পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান সামুদ্রিক প্রাণীদের একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে ধারণ করা সাম্প্রতিক ভিডিও ফুটেজ তাদের বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মায়ের কাছ থেকে শিকার শেখা ডলফিন! 1

বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো ভিডিওতে এমন ডলফিনকে ধারণ করেছেন, যারা খালি সামুদ্রিক ঝিনুক কিংবা শেলকে একটি সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করে মাছ ধরছে।

ঘটনাটি অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলের Hervey Bay এলাকায় পর্যবেক্ষণ করা হয়। Pacific bottlenose dolphin-দের মধ্যে দেখা গেছে, তারা সমুদ্রের তলদেশ থেকে একটি খালি শেল তুলে নেয়। তারপর শেলের মধ্যে মাছ আটকে গেলে সেটিকে পানির ওপরের দিকে নিয়ে আসে ও মাথা কাত করে মাছটিকে নিজের মুখে ফেলে দেয়। এই আচরণকে গবেষকরা ‘shelling’ নামে উল্লেখ করেছেন।

ডলফিনের এমন আচরণ একেবারে নতুন নয়। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার Shark Bay অঞ্চলে আগেও এই ধরনের আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। তবে নতুন আবিষ্কারের সবচেয়ে বড় গুরুত্ব হলো- এবার ঘটনাটি সরাসরি ভিডিওতে ধারণ করা হয়েছে এবং অস্ট্রেলিয়ার ভিন্ন একটি ডলফিন জনগোষ্ঠীর মধ্যেও একই ধরনের আচরণ দেখা গেছে।

আরও চমকপ্রদ বিষয় হলো, গবেষকেরা একটি মা ডলফিন ও তার বাচ্চার মধ্যেও এই আচরণ পর্যবেক্ষণ করেছেন। এর ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে- বাচ্চা ডলফিন কি তার মায়ের কাছ থেকে এই কৌশল শিখছে?

প্রাণীদের মধ্যে কোনো আচরণ জেনেটিকভাবে পাওয়া যায়, নাকি অন্য প্রাণীকে দেখে শেখা হয়- এটি আচরণবিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের গবেষণার বিষয়। মানুষ যেমন বাবা-মা বা সমাজের কাছ থেকে নানা দক্ষতা শেখে, তেমনি কিছু প্রাণীর মধ্যেও সামাজিকভাবে শেখার প্রমাণ রয়েছে।

ডলফিনের shelling আচরণ সেই তালিকায় নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ যোগ করতে পারে। বাচ্চা ডলফিন যদি মাকে বারবার শেল ব্যবহার করে মাছ ধরতে দেখে ও পরে নিজেও সেই কৌশল অনুসরণ করে, তাহলে সেটি সামাজিক শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হতে পারে।

এখানে আরেকটি বিস্ময়কর বিষয় রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের ডলফিন জনগোষ্ঠী একই ধরনের শিকার কৌশল ব্যবহার করছে বলে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এর অর্থ হতে পারে, এই আচরণ দু’টি অঞ্চলে স্বাধীনভাবে বিবর্তিত হয়েছে, অথবা কোনো প্রাচীন আচরণ বিভিন্ন ডলফিন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

মানুষের প্রযুক্তিগত সংস্কৃতির সঙ্গে এর একটি আকর্ষণীয় তুলনা করা যাবে। মানুষ এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে সরঞ্জাম ব্যবহারের কৌশল শেখায়। ডলফিনদের ক্ষেত্রেও যদি একই ধরনের সামাজিক শিক্ষা দেখা যায়, তাহলে প্রাণীদের ‘সংস্কৃতি’ সম্পর্কে আমাদের ধারণা আরও বিস্তৃত হতে পারে।

অবশ্য বিজ্ঞানীরা এখনও ডলফিনদের মানুষের মতো সংস্কৃতির অধিকারী বলে ঘোষণা করছেন না। আচরণের প্রকৃতি, কত প্রজন্ম ধরে এটি চলছে ও কতটা নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীতে সীমাবদ্ধ- এইসব বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন।

তবুও আবিষ্কারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হলো সমুদ্রের একটি প্রাণী খালি ঝিনুককে শুধু বস্তু হিসেবে ব্যবহার করছে না; বরং সেটিকে নিজের শিকারের কাজে একটি ‘টুল’ হিসেবে ব্যবহার করছে।

যদি বাচ্চা ডলফিন সত্যিই মায়ের কাছ থেকে এই কৌশল শিখে থাকে, তাহলে সমুদ্রের নিচে একটি অদৃশ্য ‘বিদ্যালয়’-এর অস্তিত্বের কথাও ভাবতে হবে- যেখানে বই নেই, শিক্ষক নেই, তবে অভিজ্ঞতা দেখে শেখার প্রক্রিয়াও রয়েছে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

Loading...
bn_BDBengali