The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

হাজার হাজার কাঁকড়ার একসঙ্গে সমুদ্রের পথে যাত্রা!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ পৃথিবীর কিছু দ্বীপাঞ্চল এবং উপকূলীয় এলাকায় প্রতিবছর এমন এক প্রাকৃতিক ঘটনা ঘটে, যা দেখলে যে কেউ বিস্মিত হবেন। নির্দিষ্ট মৌসুমে লাখ লাখ কাঁকড়া একসঙ্গে তাদের আবাসস্থল ছেড়ে সমুদ্রের দিকে যাত্রা শুরু করে।

হাজার হাজার কাঁকড়ার একসঙ্গে সমুদ্রের পথে যাত্রা! 1

রাস্তা, বনপথ, পাথুরে ঢাল, এমনকি মানুষের বসতিপূর্ণ এলাকাও মুহূর্তের মধ্যে লাল কিংবা বাদামি রঙের কাঁকড়ায় ভরে যায়। দূর থেকে মনে হয় যেনো মাটি নিজেই নড়াচড়া করছে।

গবেষকদের মতে, এই যাত্রার মূল উদ্দেশ্য প্রজনন। বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা এবং চাঁদের নির্দিষ্ট পর্যায়ের সঙ্গে মিল রেখে কাঁকড়াগুলো সমুদ্রের দিকে এগোয়। স্ত্রী কাঁকড়া ডিম পাড়ার জন্য পানির কাছাকাছি পৌঁছে যায় এবং পরে সেই ডিম থেকে জন্ম নেওয়া ক্ষুদ্র লার্ভা সমুদ্রে বেড়ে ওঠে।

এই বিস্ময়কর ঘটনার সময় অনেক অঞ্চলে সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় বা বিশেষ সেতু তৈরি করা হয়, যাতে কাঁকড়াগুলো নিরাপদে পার হতে পারে। পরিবেশ সংরক্ষণকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে কাজ করেন, কারণ যানবাহনের চাপ বা মানুষের অসচেতনতা বিপুল সংখ্যক কাঁকড়ার মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

পর্যটকদের কাছে এটি এক অনন্য আকর্ষণ। হাজার হাজার প্রাণীর একই সময়ে একই দিকে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে চলার দৃশ্য প্রকৃতির অসাধারণ সংগঠনের পরিচয় দেয়। আলোকচিত্রীদের জন্যও এটি বিরল একটি মুহূর্ত, কারণ এমন দৃশ্য পৃথিবীর খুব অল্প কয়েকটি স্থানেই দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বা আবাসস্থল ধ্বংস হলে এই প্রাকৃতিক চক্র ব্যাহত হতে পারে। তাই কাঁকড়ার এই মহাযাত্রা শুধু বিস্ময়ের বিষয় নয়, বরং পরিবেশগত ভারসাম্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। প্রকৃতি কীভাবে লক্ষ লক্ষ প্রাণীকে একই সময়ে একই আচরণে পরিচালিত করতে পারে, এই ঘটনাটিই তার এক অসাধারণ উদাহরণ।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali