দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ এবার আইনি জটিলতায় পড়েছেন জনপ্রিয় বিশ্বখ্যাত মার্কিন পপ তারকা সেলেনা গোমেজ। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা তার প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ান্ডারমাইন্ড’-এর বিরুদ্ধে আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ তোলা হয়েছে।

এই ঘটনায় শুধু সেলেনা নন, তার মা ম্যান্ডি টিফি ও প্রতিষ্ঠানের সাবেক অংশীদার ড্যানিয়েলা পিয়ারসনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করেছেন, কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
জানা যায়, ‘ওয়ান্ডারমাইন্ড এসআরএস ৪৪ এলএলসি’ ও ‘বেসপোক ওয়ান্ডারমাইন্ড এলএলসি’ নামে দু’টি প্রতিষ্ঠান এই ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তারা ওয়ান্ডারমাইন্ড গ্লোবাল, সেলেনা গোমেজ, ম্যান্ডি টিফি এবং ড্যানিয়েলা পিয়ারসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ওয়ান্ডারমাইন্ডকে একটি সম্ভাবনাময় এবং লাভজনক ব্যবসা হিসেবে বিনিয়োগকারীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণই ভিন্ন। অভিযোগকারীদের দাবি, বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ইচ্ছাকৃতভাবেই বিভ্রান্তিকর এবং অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়েছিল।
এই ক্ষেত্রে সেলেনা গোমেজের তারকাখ্যাতিকেও ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান এবং সাক্ষাৎকারে সেলেনা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম এবং সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন। অপরদিকে, ড্যানিয়েলা পিয়ারসনের ব্যবসায়িক সাফল্যের পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিনিয়োগকারীদের বড় অঙ্কের মুনাফার আশ্বাস দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতির কোনই প্রতিফলন ঘটেনি।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় ৩ বছর ধরে ওয়ান্ডারমাইন্ড আর্থিক সংকটের মধ্যদিয়েই যাচ্ছিল। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ দুরবস্থা এবং সম্ভাব্য দেউলিয়াত্বের বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে গোপন রাখা হয়। যে কারণে প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা না থাকার কারণে তারা প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখেন।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ‘দ্য কাট’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে। ওই প্রতিবেদনে ওয়ান্ডারমাইন্ডের ভেতরের আর্থিক এবং ব্যবস্থাপনাগত সংকটের চিত্র উঠে আসে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের পরই বিনিয়োগকারীরা বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন ও পরবর্তী সময় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
এই ঘটনায় আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে মামলাও হয়েছে। সেইসঙ্গে বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ করা অর্থের ক্ষতিপূরণসহ বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবিও করেছেন। তবে আদালতে অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনও প্রমাণিত হয়নি।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org