দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আজ যেখানে মানুষ ফুটবল খেলে, তার নিচেই লুকিয়ে ছিল প্রায় দুই হাজার বছরের পুরোনো এক ভয়াবহ ইতিহাস।

অস্ট্রিয়ার ভিয়েনার কাছে একটি ফুটবল মাঠের নিচে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা এমন একটি গণকবরের সন্ধান পেয়েছেন, যেখানে অন্তত ১২৯ জন তরুণের কঙ্কাল পাওয়া গেছে। কঙ্কালগুলোতে অধিকাংশেই সহিংস মৃত্যুর চিহ্ন রয়েছে। যে কারণে গবেষকদের ধারণা, এগুলো কোনো প্রাচীন যুদ্ধ কিংবা সামরিক সংঘর্ষে নিহত মানুষের দেহাবশেষ হতে পারে।
স্থানটি প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের ভিন্ডোবোনা অঞ্চলের কাছাকাছি। ২০২৪ সালে আবিষ্কৃত গণকবরটি নিয়ে চলমান গবেষণায় এখন নতুন তথ্য সামনে এসেছে। কঙ্কালগুলোর অনেকগুলোতে তলোয়ারের আঘাত, ভোঁতা অস্ত্রের আঘাত ও অন্যান্য গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সবচেয়ে চমকপ্রদ প্রমাণগুলোর একটি হলো- একটি কঙ্কালের কোমর কিংবা পেলভিসের কাছে এখনো একটি বর্শার ফলা আটকে ছিল।
এই আঘাতের ধরন দেখে গবেষকরা মনে করছেন যে, নিহতদের অনেককে যুদ্ধের সময় খুব কাছ থেকে আক্রমণ করা হয়েছিল। বিশেষ করে পেলভিস অঞ্চলে আঘাতের ঘনত্বের বিষয়টি গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সম্ভবত বর্ম দিয়ে শরীরের অধিকাংশ অংশ সুরক্ষিত থাকায় দুর্বল জায়গাগুলো লক্ষ্য করে আক্রমণ করা হয়েছিল।
তবে সবচেয়ে বড় রহস্য হলো- এই মানুষগুলো আসলে কারা ছিলেন?
গণকবরে থাকা ব্যক্তিদের বয়স তুলনামূলকভাবে কম। প্রাথমিক গবেষণায় তাদের মধ্যে অনেকেই তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন বলে ধারণা করা হয়েছে। তবে তারা সবাই রোমান সৈনিক ছিলেন, নাকি রোমান এবং স্থানীয় যোদ্ধাদের মিশ্র দল- এটি এখনও নিশ্চিত নয়।
গবেষকরা ২৫ জনের প্রাথমিক ডিএনএ বিশ্লেষণ করেছেন। সেখানে দেখা গেছে, মৃতদের পূর্বপুরুষের উৎস এক জায়গায় সীমাবদ্ধ ছিল না। তাদের মধ্যে ইতালীয় উপদ্বীপ, উত্তর এবং পূর্ব ইউরোপ ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত জেনেটিক বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে।
এতে রোমান সাম্রাজ্যের সামরিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আসে। রোমান সেনাবাহিনীতে সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সৈন্য এবং সহায়ক বাহিনী নিয়োগ করা হতো। যে কারণে একই গণকবরে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের উপস্থিতি অস্বাভাবিক নয়।
তবে এই নির্দিষ্ট সংঘর্ষের কোনো পরিষ্কার ঐতিহাসিক রেকর্ড এখনো পাওয়া যায়নি। গবেষকেরা ধারণা করছেন, এটি রোমান সাম্রাজ্যের উত্তর সীমান্তে জার্মানিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষের কোনো ঘটনা হতে পারে। বিশেষ করে মারকোমান্নিসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে রোমানদের সংঘর্ষের ইতিহাস রয়েছে। তবে এই গণকবরের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট যুদ্ধকে নিশ্চিতভাবে যুক্ত করার মতো প্রমাণ এখনও নেই।
দেহগুলো যেভাবে সমাহিত করা হয়েছিল, তাতেও যুদ্ধের পর তাড়াহুড়ো করে গণকবর দেওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। সাধারণ সমাধির মতো মূল্যবান সামগ্রী কিংবা ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের উপস্থিতি খুব কম। এতে ধারণা করা হয়, সংঘর্ষের পর দ্রুত মৃতদেহ সরিয়ে ফেলার প্রয়োজন হয়েছিল।
এই আবিষ্কার ইতিহাসবিদদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হলো লিখিত ইতিহাসে যে যুদ্ধের কোনো স্পষ্ট উল্লেখ নেই, তার শারীরিক প্রমাণ হয়তো মাটির নিচে টিকে ছিল দুই হাজার বছর ধরে।
আজকের একটি ফুটবল মাঠের নিচে লুকিয়ে থাকা ১২৯ তরুণের কঙ্কাল তাই শুধু প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারই নয়। এটি রোমান সাম্রাজ্যের অজানা সংঘর্ষ, সৈন্যদের চলাচল, যুদ্ধের নির্মমতা ও প্রাচীন ইউরোপের বহুজাতিক সমাজ সম্পর্কে নতুন তথ্যের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে- একটি সাধারণ মাঠের নিচে এতদিন ধরে চাপা পড়ে ছিল ইতিহাসের এমন এক অধ্যায়, যার কথা হয়তো কোনো বইতেও লেখা হয়নি।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org