The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

পেপের পুষ্টিগুণ জেনে নিন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ পেপে আমাদের দেশের অতি পরিচিত ও সহজলভ্য একটি ফল। কাঁচা ও পাকা- দুই অবস্থাতেই পেপে খাওয়া যায়। স্বাদে মিষ্টি হলেও পেপেতে পানির পরিমাণ বেশি এবং ক্যালরি তুলনামূলক কম।

পেপের পুষ্টিগুণ জেনে নিন 1

যে কারণে স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকায় পেপে বেশ ভালো একটি ফল হিসেবে বিবেচিত হয়। পেপেতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খাদ্যআঁশ, যা শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পাকা পেপেতে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো ভিটামিন সি এবং ভিটামিন এ-এর উৎস হিসেবে এর ভূমিকা। ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে এবং কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষায় ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে পেপেতে থাকা ক্যারোটিনয়েড শরীরে ভিটামিন এ তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। ভিটামিন এ চোখের স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি, ত্বক ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

পেপেতে থাকা খাদ্যআঁশ হজমপ্রক্রিয়ার জন্য উপকারী। নিয়মিত পর্যাপ্ত আঁশ গ্রহণ মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করতে পারে। পেপেতে পানি থাকার কারণেও শরীরে তরলের চাহিদা পূরণে কিছুটা সহায়তা হয়। তবে শুধু পেপে খেলেই শরীরের পানির প্রয়োজন পূরণ হবে- এমন ধারণা ঠিক নয়; পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি।

পেপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো প্যাপেইন নামের একটি এনজাইম, বিশেষ করে কাঁচা পেপেতে এর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। প্যাপেইন প্রোটিন ভাঙতে সহায়তা করে এবং খাদ্যশিল্পেও এই এনজাইমের ব্যবহার রয়েছে। তবে পেপে খেলে সবার হজমের সমস্যা দূর হবে বা নির্দিষ্ট রোগ ভালো হয়ে যাবে- এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে করা ঠিক নয়।

পেপেতে থাকা বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে ফ্রি র‍্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে ফল এবং সবজি নিয়মিত খাওয়ার সঙ্গে এসব উপাদান দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক হতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে যারা সচেতন, তাদের খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণ পাকা পেপে রাখা যেতে পারে। এতে ক্যালরি তুলনামূলক কম ও আঁশ রয়েছে। তবে পেপে যতই স্বাস্থ্যকর হোক, অতিরিক্ত খাওয়ার প্রয়োজন নেই। যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদেরও ফল খাওয়ার পরিমাণ এবং অন্যান্য খাবারের সঙ্গে ভারসাম্য বিবেচনা করা উচিত।

কাঁচা পেপে সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া যায়। এতে খাদ্যআঁশসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। তবে কাঁচা পেপে রান্নার সময় অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করলে খাবারের মোট ক্যালরি বেড়ে যেতে পারে।

পেপে কোনো অলৌকিক খাবার নয়; তবে সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে এটি অত্যন্ত উপকারী একটি ফল। পেপের পাশাপাশি অন্যান্য ফল, শাকসবজি, ডাল, মাছ, ডিম, দুধ কিংবা বিকল্প প্রোটিনসহ বৈচিত্র্যময় খাবার গ্রহণ করাই সুস্থ থাকার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali