দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বর্তমানে দেশ–বিদেশের শৌখিন মানুষদের জীবনের যেনো এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে বিড়াল। তাই তো ঘর থেকে শুরু করে টেলিভিশন কিংবা ইন্টারনেটের দুনিয়ায় বিড়ালের রাজত্ব বর্তমানে বেশ চোখে পড়ে।

অনেকের কাছেই বিড়াল আদুরে পোষা প্রাণী হলেও অতীতে কিন্তু বিড়াল ছিল বন্য শিকারি প্রাণী।
বিড়ালের আদুরে পোষা প্রাণী হয়ে ওঠার ইতিহাস নিয়ে নতুন গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গ্রেগার লারসনের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী।
সেই গবেষণায় বলা হয়েছে, বিড়ালের সঙ্গে মানুষের নিবিড় সম্পর্ক শুরু হয়েছে ৩ থেকে ৪ হাজার বছর পূর্বের। এতো দিন বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল যে, প্রায় ১০ হাজার বছর পূর্বে মানুষ যখন কৃষিকাজ শুরু করে, তখন থেকে বিড়ালের সঙ্গে সখ্য তৈরি হয়।

বিজ্ঞানীরা ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা এবং আনাতোলিয়ার বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক সাইট হতে উদ্ধার করা বিড়ালের হাড়ের ডিএনএ বিশ্লেষণ করেন। আধুনিক বিড়ালের জিন পুলের সঙ্গে সেই প্রাচীন হাড়ের ডিএনএ তুলনা করে দেখা যায় যে, বিড়ালের পোষ মানার ঘটনাটি প্রথম ঘটে মিসরে। পূর্বে ধারণা করা হতো যে, মধ্যপ্রাচ্যের লেভান্ত অঞ্চলে যেখানে মানুষ প্রথম বসতি স্থাপন করে কৃষিকাজ শুরু করে, সেখানে বিড়াল পোষ মেনেছিল। নতুন তথ্য বলছে যে, উত্তর আফ্রিকা বিশেষ করে প্রাচীন মিসরেই বিড়ালের বিবর্তন এবং পোষ মানার প্রক্রিয়া দ্রুত হয়। প্রাচীন মিসরের ফারাওদের আমলেই বিড়ালকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করা হতো। শিল্পকলায় তাদের উপস্থিতিও ছিল। সেই সময় মৃত্যুর পর বিড়ালের মমিও করা হতো।
মানুষের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠার পর বিড়ালরা খুব দ্রুতই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিড়াল ইউরোপে পৌঁছায় ২ হাজার বছর পূর্বে, যা আগের ধারণার চেয়ে অনেকটা পরে। রোমানদের হাত ধরে বিড়াল ইউরোপ এবং যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করে। তারপর ধীরে ধীরে সিল্ক রোডের মাধ্যমে তারা পূর্ব দিকে অর্থাৎ চীনের দিকে অগ্রসর হয়। বর্তমানে অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ ছাড়া বিশ্বের প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই গৃহপালিত এইসব বিড়ালের বিচরণ রয়েছে। বর্তমানে আমরা ঘরে যেসব বিড়াল দেখে থাকি, তারা সবাই আদি আফ্রিকান বন্য বিড়াল প্রজাতিরই বংশধর। তথ্যসূত্র: বিবিসি।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org