দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কার্বণ ডাই-অক্সাইড এমন একটি গ্যাস যা আমাদের এই সুন্দর পৃথিবীকে করে তুলছে প্রাণির বসবাসের অনুপযোগী। প্রতিদিন বিভিন্ন যানবহনে পেট্রল, ডিজেল, অকটেন ইত্যাদি জ্বালানি ব্যবহারের ফলে প্রচুর পরিমাণে কার্বণ ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হচ্ছে। গবেষকরা নিয়মিত গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন কিভাবে বায়ুমন্ডলে কার্বণ ডাই-অক্সাইডের মাত্রা কমিয়ে আনা যায়। যদিও এই গ্যাস উদ্ভিদের জন্য খুবই উপকারি কারণ উদ্ভিদের বেঁচে থাকার জন্য মূল উপাদানই হল কার্বণ ডাই-অক্সাইড। কিন্তু প্রাণির জন্য জমদূত।
বিষয়টি যদি এমন হত, এমন একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে যার মাধ্যমে পৃথিবীর কার্বণ ডাই- অক্সাইডের মাত্রা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে
এবং সেই সাথে ওই কার্বণ ডাই-অক্সাইডকে জ্বালানীতে রুপান্তর করা যাবে। অর্থাৎ মাছের তেলে মাছ ভাজার মত । কিছুটা অবাক মনে হলেও এবার বাতাসের দূষিত কার্বন-ডাই-অক্সাইড এবং হাইড্রোজেন থেকে গ্যাসোলিন বা পেট্রল তৈরির দারুণ এক কৌশল উদ্ভাবনের কথা জানিয়েছেন হার্ভার্ড রিলেটেড একটি কানাডিয়ান কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি মনে করছে, বাতাসের কার্বন-ডাই-অক্সাইড এবং হাইড্রোজেন থেকে তরল গ্যাসোলিন তৈরি করতে পারলে তা অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
প্রতিষ্ঠানটির গবেষকরা জানিয়েছে, এভাবে জ্বালানী তৈরি করতে হলে তাদের দুটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। প্রথমে বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড সংগ্রহ করতে হবে এবং দ্বিতীয় ধাপে তা পানি থেকে সংগৃহীত হাইড্রোজেনের সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করা হবে গ্যাসোলিন। তাদের ভাষ্য মতে একটি মজার বিষয় হলো, কার্বন-ডাই-অক্সাইড থেকে জ্বালানি তৈরি হলেও ভবিষ্যতে এই জ্বালানি থেকে পরিবেশে পুনরায় কার্বন-ডাই-অক্সাইড ছড়াবে না। অর্থাৎ এই জ্বালানী হবে পরিবেশবান্ধব।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ও কার্বন ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড কেইথ বলেন, “আমাদের এই প্রকল্প বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে তা জলবায়ু পরিবর্তন রুখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিবেশ থেকে একাধারে কার্বন শুষে নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতেও কার্বন ছড়ানোর কোনো আশঙ্কা থাকবে না।” এই প্রযুক্তি ব্যবহারে সফলতা অর্জন করলে একদিকে বায়ু মন্ডলের কার্বণ ডাই-অক্সাইডের মাত্রা হ্রাস করা সম্ভব হবে, অন্য দিকে পরিবেশবান্ধব জ্বালানীর চাহিদাও পূর্ণ হবে। এই পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রচুর পরিমানে কার্বন ডাই-অক্সাইড রয়েছে। সুতরাং এই পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রচুর পরিমানে জ্বালানী তৈরি সম্ভব হবে।