ইতালীকে ৪-২ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল

যদিও সেমিফাইনাল আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলো, তবে গতকালের খেলায় এল সালভাদোর স্টেডিয়ামে ইতালিকে হারিয়ে সেমিফাইনালে স্পেনের এড়ালো ব্রাজিল। আর ইতালি’র বিপক্ষে জয়টিও আসে ৪-২ গোলের বড় ব্যবধানে। ফলে ব্রাজিলের শক্তি’র পরীক্ষা এক প্রকার বিশ্বকে জানিয়ে দেয়া হলো, তারা কনফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়ন হতেই এসেছে!


290585hp2

সেলেকাওরা (ব্রাজিল) প্রথম ৪৫ মিনিট দাপটের সাথে খেললেও ইতালি’র চিরাচরিত ডিফেন্স ভেঙে গোলের দেখা পাচ্ছিলো না। তবে বিরতি’র একদম শেষ মুহুর্তে ব্রাজিলকে গোল এনে দেন দান্তে। ফ্রি কিক থেকে নেইমার বল ছুঁড়ে দেন গোলপোষ্টের বাম প্রান্তে থাকা বদলী হিসেবে খেলতে নামা দান্তের কাছে, মজার ব্যাপার হলো দান্তে ইতালিয়ান ডিফেন্ডারদের চোখ এড়িয়ে একদমই অরক্ষিত অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। নেইমারের পাঠানো উড়ে আসা বলটিকে তিনি চমৎকার হেডে’র সাহায্যে গোলে পরিণত করেন।

বেশীক্ষণ এ গোলটি ধরে রাখতে পারেনি ব্রাজিল। ৫১ মিনিটেই ইম্যানুয়েল গিয়াচ্চেরিনি গোল করে ইতালিকে সমতায় ফেরান। ইতালি’র গোলরক্ষক বুফনের কাছ থেকে বল পেয়ে বালোতেল্লিকে পাস দেন ক্যান্ড্রেভা। বালোতেল্লি বল নিয়ে হঠাৎ দ্রুত উঠে আসেন ব্রাজিলের ডি-বক্সে। বালোতেল্লি’র দ্রুততার সাথে পেরে ওঠেনি ব্রাজিলের রক্ষনভাগ। সেখানে অপেক্ষায় একা গোলরক্ষক জুলিও সিজারকে বোকা বানিয়ে বালোতেল্লি’র কাছ থেকে ক্রস পাওয়া বলটি ব্রাজিলের জালের জড়িয়ে দেন গিয়াচ্চেরিনি।

প্রথমার্ধে পুরো খেলায় ব্রাজিলের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও মাত্র এক গোলে এগিয়ে ছিলো ব্রাজিল। অপরদিকে দ্বিতীয়ার্ধে ইতালি সমানতালে লড়ে গিয়েছে ব্রাজিলের সাথে। তবে গিয়াচ্চেরিনি’র গোলের পর ৫৫ মিনিট এবং ৬৬ মিনিটে টানা দুটি গোল করে ব্রাজিল ম্যাচ জয় অনেকটা নিশ্চিত করে নেয়।

এদিকে ৬৬ মিনিটে ইতালি’র ডিফেন্ডার চিয়েল্লিনিকে পাশ কাটিয়ে জোরালো শটের সাহায্যে স্ট্রাইকার ফ্রেডকে পাস দেন মার্সেলো। ফ্রেড বলটি দারুণভাবে বুফনের মাথার ওপর দিয়ে ইতালি’র জালে পাঠিয়ে দেন। ৩-১ এ এগিয়ে যায় ব্রাজিল, অন্যদিকে ম্যাচে ফিরে আসা কঠিন হয়ে যায় ইতালি’র জন্য।

তবে কিছুক্ষণ পরেই ৭১ মিনিটে জর্জিও চিয়েল্লিনি গোল করে ৩-২ ব্যবধান কমিয়ে আনলে ম্যাচ ড্রয়ের চেষ্টা করে যায় ইতালি। একা গোলরক্ষক জুলিও সিজার ঠেকাতে পারেন নি চিয়েল্লিনিকে, চমৎকার একটি গোল হয়ে যায় ইতালি’র পক্ষে, যদিও ব্রাজিল এটিকে অফ সাইডের গোল বলে দাবী করে, তবে ম্যাচ রেফারী সেটি নাকচ করে দেন।

এরপর ৮০ মিনিট এবং ৮৩ মিনিটে বালোতেল্লি ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে প্রায় কাঁপিয়েই দিয়েছিলেন। তবে এদিন ভাগ্যদেবী বোধহয় ইতালি’র ওপর খুব একটা সন্তুষ্ট ছিলেন না, নইলে ইতালি’র দুটি নিশ্চিত গোল কীভাবে হাতছাড়া হয়ে যায়! আর এ সুযোগ নিয়ে ম্যাচের একদম ইঞ্জুরি সময়ে ৮৯ মিনিটে একক আক্রমণ দিয়ে ইতালি’র গোলপোষ্টে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ফ্রেড। ৪-২ গোলের নিশ্চিত জয় পেয়ে ব্রাজিল শিবিরে এখন আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে!

ম্যাচ শেষে নেইমার বলেছেন, “জয় আমাদের প্রাপ্য ছিলো, আমরা পুরো ম্যাচেই আধিপাত্য নিয়ে খেলেছি।” অন্যদিকে আজ্জুরিরা বলেছে, ম্যাচ ড্রয়ের ব্যাপারে তারা আত্মবিশ্বাসী ছিলো, তবে ফলাফল সেটি হয়নি।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...