গবেষণা রিপোর্ট: ঝগড়ায় বুদ্ধি বাড়ে!

ঝগড়ার মাধ্যমেই ভিন্ন মত প্রকাশিত হয় ও তখন কাজে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হয়

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ নতুন এক গবেষণা রিপোর্ট ঝগড়াটে মানুষদের জন্য সুখবর বয়ে এনেছে! কারণ ওই রিপোর্টে উঠে এসেছে যে, ঝগড়ায় বুদ্ধি বাড়ে! আসলেও কী তাই? চলুন বিষয়টি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

ঝগড়া কেওই পছন্দ করে না। সেটিই একটি স্বাভাবিক কথা। কিন্তু ইচ্ছে না থাকলেও নানা কারণে মানুষের সঙ্গে মানুষের ঝগড়া শুরু হয়। আর একবার ঝগড়া শুরু হলে সহজে থামতে চাই না। আবার অনেক সময় ঝগড়া শেষ পর্যন্ত হাতাহাতিতে পরিণত হয়ে ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে আসে। যে কারণে প্রায় সবাই চায় ঝগড়া এড়িয়ে চলতে।

বাড়িতেও নয়, আবার কর্মক্ষেত্রেও আমরা কেওই ঝগড়া ঝাটি পছন্দ করি না। সম্পর্ক নষ্ট করতে চান না বলে অনেকেই নিজের অসন্তোষ চেপে যান বেমালুম। তবে গবেষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। গবেষণায় উঠে এসেছে যে, ঝগড়া করলে নাকি মানুষের বুদ্ধি বাড়ে! বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ গাইড টু ডিলিং উইদ কনফ্লিক্ট অ্যাট ওয়ার্ক বইটির লেখক অ্যামি গ্যালো।

তার তথ্য মতে, মতের অমিল প্রকাশ না করলে কখনও কাজে সফল হওয়া সম্ভব নয়। ঝগড়ার মাধ্যমেই ভিন্ন মত প্রকাশিত হয় ও তখন কাজে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হয়। ঝগড়া একজন মানুষকে আগের তুলনায় বুদ্ধিমান হয়ে উঠতেও সাহায্য করে থাকে!

উদাহরণ হিসেবে বিজ্ঞান গবেষণার কথা বলা হয়েছে। গবেষণায় নতুন নতুন তত্ত্ব পরখ করার জন্য অন্য বিজ্ঞানীদের সমালোচনাও দরকার হয়। কারণ সমালোচনা ছাড়া কখনও সে গবেষণার ভুলগুলো খুঁজে পাওয়া সম্ভব না।

হয়তো অনেকেই ভাববেন, মতের অমিল প্রকাশ করে তারা অন্যের চোখে কেনো খারাপ হবেন। তবে তা নয়। ঝগড়া করার ভালো দিকও রয়েছে।

প্রথমত: ঝগড়া করলে আপনি বুঝতে পারবেন যে অন্যদের মতের তুলনায় আপনার মতটি ভালো নাকি খারাপ। হয়তো আপনি নিজের মত আরও বেশি শক্ত করে উপস্থাপন করতে পারবেন, কিংবা আপনি বুঝতে পারবেন যে, অন্য কারও মত আপনার মতের তুলনায় অনেক ভালো। এতেকরে আপনার বুদ্ধির ধার আরও বাড়বে!

দ্বিতীয়ত: আপনি ঝগড়ার মাধ্যমে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি অন্যকে তুলে ধরতে পারেন। তাদের মাঝে এই বিশ্বাস ঢুকিয়ে দিতে পারেন যে, আপনি তাদের তুলনায় অনেক ভালো জানেন, অন্তত এই বিষয়টিতে অবশ্যই।

আর তৃতীয়ত: যেসব ধারনাকে সচরাচর ‘ভুল’ বলে ধরা হচ্ছে, ঝগড়া করতে গিয়ে হয়তো সেসব ধারনাই ‘সঠিক’ বলে প্রমাণ করা সম্ভব হবে। তবে ঝগড়া না হলে বা মতের আদান-প্রদান না হলে সেই বিষয়টা সব সময় অন্ধকারেই থেকে যাবে।

বিবিসির এক খবরে এই তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে, তারমানে এই নয় যে, ঝগড়া ক্ষতিকর। আবার বলা হয়েছে যে, চিৎকার চেঁচামেচি ছাড়াও ঝগড়া করা যায়, কর্মক্ষেত্রে ‘ঝগড়া’ হবে সুচিন্তিত এবং বিনীত, যাতে কেও মনে কষ্ট না পান। কিন্তু প্রশ্ন হলো বাস্তবে কী তা ঘটে?

Advertisements
Loading...