এসি কেনার আগে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা দরকার

এসি হুট করে কিনে ফেলা উচিত নয়

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ গরম যতো পড়ছে ততোই বাড়ছে এসির চাহিদা। বিশেষ করে বর্তমান যুগে গরমে কেও আর কষ্ট করতে চান না। তাই হুট করে কিনে ফেলতে পারেন এসি। কিন্তু এসি কেনার আগে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা দরকার। জেনে নিন বিষয়গুলো।

এতো গরম পড়ছে যে অসহ্য হয়ে উঠেছে চলাচল। তাই এই গরমে হাফ ছেড়ে বাঁচতে অনেকেই এসি কেনার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এসি হুট করে কিনে ফেলা উচিত নয়। কোনটি এসিটি আপনার ঘরের উপযোগি তা বাছাইয়ে যে বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে সেই বিষয়গুলো নিয়েই রচিত হয়েছে আজকের এই প্রতিবেদন। আসুন বিষযটি জেনে নিই।

যে এসি আপনি কিনবেন সেটি ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি কিনা?

বর্তমানে চলছে এসির বাজারে ইনভার্টার প্রযুক্তির রাজত্ব। তবে বিদ্যুৎ চলে গেলে এই প্রযুক্তি কোনো কাজে আসবে না। সাধারণতভাবে এসির কম্প্রেশার সব সময় পূর্ণ মাত্রায় চালু থাকে। রুম পর্যাপ্ত ঠাণ্ডা হলে তখন কম্প্রেশার থেমে যায়। কক্ষ গরম হলে আবারও কম্প্রেশারটি পূর্ণমাত্রায় চালু হয়। তবে ইনভার্টার টেকনোলজির এসিতে কম্প্রেশার সবসময়ের জন্য চালু থাকে। ক্যাপাসিটি প্রয়োজন মতো বাড়ে ও কমে এবং ঘরকে প্রয়োজন অনুযায়ী ঠাণ্ডা রাখে। যে কারণে স্বাভাবিকভাবেই ইনভার্টার প্রযুক্তির এসিতে বিদ্যুতের স্বাশ্রয় হয়।

স্প্লিট নাকি উইন্ডো কোন এসি কিনবেন?

প্রথমেই আপনাকে ভাবতে হবে স্প্লিট নাকি উইন্ডো কোন ধরনের এসি কিনবেন। স্প্লিট এসি ঘরের দেওয়ালের যে কোনোস্থানেই বসানো যায়। আর এসির কম্প্রেশারটি ঘরের বাইরে লাগানো থাকবে। এতেকরে কম্প্রেশারের শব্দ ভেতরে প্রবেশের সম্ভবনা খুবই কম থাকে। তাছাড়াও স্প্লিট এসির দামও কিছুটা কম। অপরদিকে ইউন্ডো এসি লাগাতে গেলে আপনার ঘরের জানালাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তখন এসি বন্ধ থাকলে ঘরে আলো-বাতাস ঢোকার সম্ভবনা অনেকটাই কমে যায়।

এসির ক্যাপাসিটি নিশ্চিত হতে হবে

এসি কেনার আগে এসির ক্যাপাসিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনার বিষয়। বাজারে এক টন হতে বিভিন্ন ক্যাপাসিটির এসি বিক্রি হয়। ক্যাপাসিটির অর্থ হলো এক ঘণ্টায় এসি কি পরিমাণ তাপ বাইরে বের করবে সেটি বুঝায়। ১৫০ বর্গফুট (১২ গুনন ১২ ফিট) কক্ষের জন্য এক টন এসি ভালো কাজ করে। ২০০-২৫০ বর্গফুট কক্ষ ঠাণ্ডা রাখতে প্রয়োজন পড়বে ২ টেন এসির। তবে একটি বিষয় হলো আপনার ঘরটি কোন তলায় এবং তাপমাত্রা কেমন, সেটির উপরও এসির ক্যাপাসিটি বাছাইয়ে বিবেচনায় রাখতে হবে।

BEE স্টার রেটিং কী?

যে কোনো যন্ত্রে বৈদ্যুতের খরচ কেমন হবে তা BEE স্টার রেটিং দিয়ে বিচার করা হয়ে থাকে। সাধারণত এক স্টার এসিতে বছরে সাড়ে আটশ’ ইউনিট এবং পাঁচ স্টারে সাড়ে পাঁচশ’ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। অবশ্য এই স্টার রেটিং পরিবর্তনও হতে পারে। এসির ব্র্যান্ড ও দাম কেমন হতে পারে

ওয়ালটন

আমাদের দেশীয় প্রতিষ্ঠান হলো ‘ওয়ালটন’। তারা বাজারে এনেছে বিভিন্ন মডেলের এয়ার কন্ডিশনার। বিভিন্ন স্থানে ওয়ালটনের শো রুমে পাওয়া যাবে চারটি ভিন্ন ভিন্ন মডেলের এসি। মানভেদে এসব এসির দাম ৪২ হাজার থেকে ৬৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। শর্তসাপেক্ষে ওয়ালটন এসিতে দেওয়া হচ্ছে ৬ মাসের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি ও ৩ বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি।

প্যানাসনিক

প্যানাসনিক ব্র্যান্ডের এক টন ক্ষমতাসম্পন্ন ইনভার্টার এসি পাওয়া যাবে ৮২ হাজার টাকায়। দেড় টন ক্ষমতার ইনভার্টার এসি কিনতে হলে আপনাকে গুনতে হবে ১ লাখ টাকা। একই ব্র্যান্ডের ইকোন্যাভি এসির দাম এক হতে দেড় টনের জন্য ৭৫ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে হবে। তবে দাম কিছুটা উঠা-নামা করে মাঝে মধ্যেই।

প্যানাসনিক এর এক টন ক্ষমতার এসিতে ইনভার্টার ও ইকোন্যাভি অপশন একইসঙ্গে পেতে হলে আপনাকে খরচ করতে হবে ১ লাখ টাকা থেকে দেড় লাখ টাকা। এই এসিগুলোর উপর দুই বছরের পার্টস ওয়ারেন্টি ও তিন বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা দেওয়া হচ্ছে।

এলজি

এলজি’র নিজস্ব শো রুমে পাবেন বিভিন্ন মডেলের স্প্লিট এয়ার কন্ডিশনার। এক্ষেত্রে এক হতে দেড় টন ক্ষমতার এলজি এসিগুলোর দাম হতে পারে ৬৫ হাজার টাকা হতে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এলজি’র এসিগুলোর দাম কিস্তির মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব। এক্ষেত্রে এসির মূল দামের ৫০ শতাংশ পরিশোধ করে বাকি টাকা সাড়ে ৩ শতাংশ সুদ হারে ৩ কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে।

জেনারেল

জেনারেলের ১.৫ টনের উইন্ডো এসির দাম ৫২,০০০ টাকা হতে ৫৫,০০০ হাজার টাকা। জেনারেলের ২ টনের একই এসির মূল্য ৬৫,০০০ টাকা হতে ৬৯,০০০ টাকা।

স্যামস্যাং

‘স্যামস্যাং’য়ের ১ টন ক্ষমতার এসির দাম ৫২,০০০ টাকা হতে ৫৫,০০০ টাকার মধ্যে। ওয়ারপুল এর ১ থেকে ২ টনের এসির দাম ৭৪,০০০ টাকা ও সর্বোচ্চ ৯৫,০০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে এই কোম্পানির এসিগুলো। ১ থেকে ২ টনের ক্ষমতার র‌্যাংগস এর এসির দাম শুরু ৫১,০০০ টাকায় ও শেষ ৬৪,০০০ টাকা।

এছাড়াও সবচেয়ে কম দামের এসির মধ্যে রয়েছে ক্যারিয়ার ও হায়ার এসি। ক্যারিয়ারের যেগুলো উইন্ডো এসি তার দাম ৪৫,০০০ টাকা হতে ৬০,০০০ টাকার মধ্যে। একই মাপের ক্যারিয়ার ব্রান্ডের এসি পাওয়া যাবে ১ থেকে ২ টনের ৪৫,০০০ টাকা হতে ৯৫,০০০ টাকার মধ্যে। আর হায়ারের এসির দাম আরও কম। ১ টনের এসি ৩২ হাজার টাকা হতে শুরু।

Advertisements
Loading...