The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

নিজেকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় বিচারকের প্রশংসা করলেন আসামি!

খুব সহজে মৃত্যুকে কেওই মেনে নেয় না। বাঁচার জন্য নানাভাবে আকুতি করতে থাকে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ নিজেকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় বিচারকের প্রশংসা করলেন আসামি! এমন কথা বোধ হয় আগে কখনও শোনা যায়নি। কারণ দোষি হোক আর নির্দোষ হোক সবাই এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে চান।

নিজেকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় বিচারকের প্রশংসা করলেন আসামি! 1

খুব সহজে মৃত্যুকে কেওই মেনে নেয় না। বাঁচার জন্য নানাভাবে আকুতি করতে থাকে সবাই। কখনও যদি দেখা যায় দুর্ঘটনায় দুটি পা হারিয়েছেন তারপরও তিনি বলেন আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রাখো। কিন্তু এর পরও ব্যতিক্রম ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। জেলখানার আসামী মৃত্যুদণ্ডের খবর পেলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। কিন্তু এবার এমন এক ব্যক্তি পাওয়া গেছে যিনি তার নিজের মৃত্যুর রায় শোনার পর বিচারককে প্রশংসা করলেন!

সম্প্রতি এমন একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানকার আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক সিরিয়াল কিলার রায়ের পর কান্নায় বা কষ্টে ভেঙে না পড়ে এর উল্টো কাজ করেছেন। তিনি বিচারকদের প্রশংসা করেছেন!

সিএনএন প্রকাশিত এক ভিডিও প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে ৫ নারীকে হত্যার অপরাধে দেশটির নৌবাহিনীর সাবেক ওই সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেন দেশটির আদালত। রায়ের পর নিজের পক্ষে কিছু না বলে উল্টো বিচারকদের রায়কে যথার্থ অভিহিত করেন অ্যান্ড্রিউ আরদিয়ালিস নামে ৫৪ বছর বয়সী ওই অপরাধী।

অ্যান্ড্রিউ আরদিয়ালিস বলেন, ‘আমি সত্যিই অনুধাবন করতে পারি, কীভাবে তাঁরা (বিচারকরা) সিদ্ধান্ত নেন। আমি নিজে যদি বিচারক হতাম, এই মামলায় সম্ভবত আমিও এই রায়ই দিতাম।’

অ্যান্ড্রিউ আরদিয়ালিস বলেন, ‘আমার কোনো রকম দুঃখ নেই। আমি বুঝতে পেরেছি ও আমি বিচারকদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই’।

জানা যায়, গত শতকের আশি ও নব্বইয়ের দশকে এসে একের পর এক নারীকে হত্যা করেন অ্যান্ড্রিউ আরদিয়ালিস। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরেক অঙ্গরাজ্য ইলিনয়ের শিকাগো শহরে আরও তিন নারীকে হত্যার অপরাধে বর্তমানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন অ্যান্ড্রিউ আরদিয়ালিস। ক্যালিফোর্নিয়ার পাঁচ নারীকে হত্যার অপরাধে বর্তমানে তাঁর সঙ্গে যুক্ত হলো আরও ৫টি মৃত্যুদণ্ডের রায়।

আদালতে আরদিয়ালিস ওইসব খুনের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে হত্যার শিকার হওয়া নারীদের পরিবারের লোকজন তাকে ক্ষমা করতে অস্বীকার করেন।

নিহত এক নারীর বাবা চার্লস এরউইন বলেছেন, ‘আমার ধর্ম বলে যে, অবশ্যই আমার তাকে ক্ষমা করা উচিত। আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছি, আমার আত্মায় করুণা বর্ষণ করতে। কারণ আমি যে তাকে ক্ষমা করতে পারছি না।’

Loading...