শীতকালে শিশুদের সুরক্ষিত রাখার উপায়

শীতকালে বড়দের তুলনায় ছোটরা একটু বেশিই ঝুঁকিতে থাকে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশে ঋতু পরিবর্তন একটি সাধারণ বিষয়। তবে ঋতু পরিবর্তনের ফলে পরিবেশের সাথে তাল মিলিয়ে না চলতে পারলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শীতকাল। শীতকালে বড়দের তুলনায় ছোটরা একটু বেশিই ঝুঁকিতে থাকে। আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে শিশুদের ঠান্ডা, জ্বর, হাঁচি-কাশি সহ নানা ধরনের ভাইরাস জনিত সমস্যা দেখা দেয়।

মাঝে মাঝে এই জাতীয় সমস্যা প্রকট আকার ধারন করে এমনকি প্রাণ নাশেরও কারণ হতে পারে। তাই শীতে শিশুদের প্রতি এক্সট্রা কেয়ার নেওয়া প্রয়োজন। আজ আমরা জানবো কিভাবে শীতে শিশুদের সুরক্ষিত রাখা যায়।

১। ঠান্ডা জাতীয় খাবার থেকে দুরে রাখুনঃ

শিশুরা নিজেদের জন্য কোনটা ভাল এবং কোনটা খারাপ তা বুঝতে পারে না। তাই শীতকালে যেকোন ঠান্ডা খাবারও তারা খেতে ইচ্ছুক থাকে। তবে ভুলেও তাদের ঠান্ডা কোন খাবার যেমন আইসক্রিম, ফ্রিজে রাখা কোন ফল বা কোন খাবার দেওয়া যাবে না। তবে ফল ফ্রিজ থেকে বের করে কিছুক্ষণ রেখে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলে তখন খাওয়াতে পারেন।

২। হালকা গরম পানি পান করানঃ

শীতকালে শিশুদের ঠান্ডা পানি পান করাবেন না। হালকা গরম পানি পান করান। ঠান্ডা পানি পান করানোর ফলে ঠান্ডা-জ্বর, গলা ব্যাথা সহ টনসিল ফোলার মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেহেতু কম বয়সী শিশুরা তাদের খারাপ লাগার অনুভুতি প্রকাশ করতে পারে না, তাই নিজেকেই সতর্ক হতে হবে।

৩। গরম কাপড় পরিধান এবং নিয়মিত পরিষ্কারঃ

শীতে শিশুদের পর্যাপ্ত গরম কাপড় পরিধান করাবেন। তাদের গলা, হা্ত-পা ভাল করে ঢেকে রাখার চেষ্টা করুন। শিশুরা মাঝে মাঝেই হাত- পা এবং মাথার কাপড় খুলে ফেলে তাই সতর্ক থাকুন।

৪। সকালের রোদে কিছুক্ষণ রেখে দিনঃ

সকালের রোদ সবার জন্যই খুবই উপকারি। তাই শীতের সকালে শিশুদের কিছুক্ষণ রোদে রাখতে পারেন। এতে শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি এর চাহিদা পূর্ণ হবে। সেই সাথে রোগ মুক্ত হতে সাহায্য করবে।

৫। রোগমুক্ত রাখতে মাঝে মাঝে হাত-পা এবং মুখ ধুয়ে বা মুছে দিনঃ

শীতে আবহাওয়া থাকে শুষ্ক। তাই প্রচুর ধুলাবালি এবং রোগ জীবাণু চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। তাই শিশুদের হাত-পা এবং নাক-মুখ দিয়ে এই সব জীবাণু শরীরে প্রবেশ করতে পারে যা তাদের নিউমোনিয়া কিংবা ব্রঙ্কাইটিসের মতো সমস্যাও সৃষ্টি করতে পারে । সুতরাং শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে দিনে কয়েকবার তাদের হাত-পা এবং মুখ হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে দিন অথবা ভেজা নরম কাপড় দিয়ে মুছে দিতে পারেন।

৬। নিয়মিত পোশাক পরিষ্কার করুনঃ

বড়দের তুলনাই শিশুরা রোগ-জীবাণুতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে। তাই শিশুদের পোশাক নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। তাদের শীতের একাধিক পোশাক প্রস্তুত রাখবেন। কারণ যেকোন সময় তাদের পোশাক পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।

৭। নিয়মিত গোসল করানো এবং বেবি ওয়েল বা অলিভ অয়েল ব্যবহারঃ

শীতকাল বলে শিশুদের গোসল করানো থেকে বিরত থাকবেন না। কারণ গোসল করালে শিশুদের শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে। তবে দিনের শুরুতে বা শেষভাগে গোসল না করিয়ে ১২ তার দিকে গোসল করিয়ে নিন। এবং গোসলের পর ভাল করে অলিভ ওয়েল বা বেবি ওয়েল গায়ে লাগিয়ে দিন।

৮। শিশুকে স্যান্ডেল বা জুতা পায়ে দেওয়ায় অভস্ত করুনঃ

শীতে শিশুদের জুতা বা স্যান্ডেল পায়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। কারণ ঠান্ডা মাটি বা মেঝেতে হাঁটাহাটি করলে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। সেই সাথে তাদের খেলা করার জন্য একটি নির্দিষ্ট মেঝে কার্পেট দিয়ে ঢেকে দিতে পারেন। কারণ শিশুরা বেশিরভাগ সময় বসে খেলা করে। তাই এক ভাবে ঠান্ডা জায়গায় বসে থাকলে দ্রুত ঠান্ডা জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়বে।

এছাড়া শীতকালে পর্যাপ্ত ফলমূল খাওয়ার ব্যবস্থা করুন। আপনার সতর্কতায় গড়ে উঠবে একটি সুস্থ সবল শিশু যা আগামী দিনের আপনার এবং দেশের ভবিষ্যৎ

Advertisements
Loading...