স্টার হোটেল হতে সুইসাইড স্পট এবং…

ভবনটির নাম রাখা হয় ‘দ্য ম্যানসন অব তেকোয়েনডামা ফল্‌স’

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সত্যিই শুনতেই যেনো কেমন লাগে। একটি স্টার হোটেল নাকি সুইসাইড স্পট! এও কী সম্ভব? তবে সংবাদ মাধ্যমের খবর তাই বলছে।

এক অন্যরকম ভবন এই স্টার হোটেলটির। পাহাড় এবং জলপ্রপাতের মধ্যে অনেকটা ছবির মতোই বাড়ি। একদিকে পাহাড় ঘেঁষা অস্তগামী সূর্যের হাতছানি, অপরদিকে বোগোতা নদীর অপূর্ব সুন্দরী জলপ্রপাত। ১৯২৩ সালে কলম্বিয়ার সান আন্তোনিও দেল তেকোয়েনডামায় এই বিলাসবহুল প্রাসাদটি তৈরি হয় ধনীদের অবসর বিলাসের উদ্দেশ্যে। তবে শেষ পর্যন্ত তা হয়ে উঠলো ভৌতিক! ভয়ে এই হোটেলটির ধারেকাছেও যান না কেও! শোনা যায়, এক সময় দেশের অন্যতম সুইসাইড স্পট হয়ে ওঠে এই হোটেলটি! কিন্তু কেনো তা জানেন?

কোলকাতার জনপ্রিয় পত্রিকা আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফরাসি নকশা এবং উঁচু উঁচু জানালা-দরজা দিয়ে এই অট্টালিকাটি সাজিয়েছিলেন কলম্বিয়ার খ্যাতিমান স্থপতি কার্লোস আর্তুরো তাপিয়াস। এক সময় আনন্দ এবং আভিজাত্যের বার্তা বহন করতো এই প্রাসাদটি। কলম্বিয়ার রাষ্ট্রপতি পেড্রো নেল ওসপিনার জামানায় তৈরি এই প্রাসাদের নির্মাণ শেষ হওয়ার পর ভবনটির নাম রাখা হয় ‘দ্য ম্যানসন অব তেকোয়েনডামা ফল্‌স’।

কী কাহিনী রয়েছে এই ভবনটি সম্পর্কে? সেই ১৯২৮ সালের কথা। তখন এই প্রাসাদ ‘হোটেল দেল সালতো’ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। একটু বেশি রেস্ত খরচ করলে এখানে ছুটি কাটানোর সুযোগও মিলতো পর্যটকদের জন্য। বেশ ভালো সাড়াও পাওয়া যায় সে সময়। ৪০ বছর ধরে এই প্রাসাদে ভিড় লেগে থাকতো ভ্রমণপিপাসুদের মধ্যে। তবে সে সব সুখের দিনের কথা। এর পরই ঘনিয়ে এলো অন্য এক সমস্যা।

এরপর ১৯৫০ সালের কথা। এই হোটেলকেই ভেঙেচুরে আঠারো তলা এক বিলাসবহুল হোটেলে পরিণত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কলম্বিয়া সরকার। তবে নানা সমস্যার কারণে সেইকাজ শুরু করা সম্ভব হয় না। হোটেল দেল সালতো হিসাবেই পড়ে থাকে সেটি। বোগোতা নদীর ক্রমবর্ধমান দূষণ এবং নাব্যতা সমস্যার কারণে এই কাজ বন্ধ রাখতে হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

ক্রমান্বয়ে পর্যটকরাও আগ্রহ হারাতে থাকেন এই ভাঙাচোরা হোটেলের প্রতি। যে কারণে এক সময় ব্যবসায় টান পড়ে। অবশেষে নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে এই হোটেলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিত্যক্ত বাড়ি হিসাবে পড়ে থাকে এই ভবনটি। যে কারণে ‘ভূতুড়ে’ বাড়ির তকমা পেতেও খুব বেশি সময় লাগে না। সেইসঙ্গে যোগ হয় আত্মহত্যার তত্ত্বটিও! বিষয়টি শুনলে আপনিও শিউরে উঠবেন!

স্থানীয় মানুষরা বলেছেন, যখন স্পেন দক্ষিণ আমেরিকা দখল করতে শুরু করে, ঠিক তখন স্পেনীয় দখলদারদের হাতেধরা পড়ার ভয়ে কলম্বিয়ার কিছু আদিবাসীএই অট্টালিকার পাশের জলপ্রপাত হতে বোগোতা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করতে থাকে। অনেকেই আবার ইতিহাসের সঙ্গে মিশিয়ে দেন মিথ। সেটি আবার কেমন?

তাদের ভাষায়, স্বাধীনতা হারানোর ভয়ে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে পড়ার সময় মাঝ পথে সেই সব মানুষরা নাকি ঈগলের রূপ পেতেন এবং নিজের স্বাধীনতার খোঁজে উড়ে যেতেন অনেক দূরে। তারপরও একাধিক মানুষ এই বাড়ির ছাদ হতে লাফিয়ে আত্মহত্যা করে মুক্তির স্বাদ পাওয়ার চেষ্টা করতেন! ইতিহাস ও মিথের প্রভাবে এক সময় এই বাড়িটি দেশের অন্যতম সুইসাইড স্পট হয়ে ওঠে!

ওই বাড়ির ভিতর হতে আসা কান্নার শব্দ, নানা রকম ভৌতিক আওয়াজ, ভূত দেখতে যাওয়ার আশায় রাত কাটাতে যাওয়া ব্যক্তিদের মৃত্যুর প্রচার এই বাড়িকে আরও ভয়ঙ্কর করে তোলে।

এরপর ২০১১ সালে এর ভুতুড়ে তকমা ঘোচাতে এগিয়ে আসে সরকার। ‘ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব কলম্বিয়া’ ও ‘ইকোলজিক্যাল ফার্ম ফাউন্ডেশন অব পরভেনির’ এই হোটেলটিকে মেরামত করে একে সংগ্রহশালা হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু করে। নাম দেওয়া হয় ‘তেকোয়েনডামা ফল্‌স মিউজিয়াম অব বায়োডাইভার্সিটি অ্যান্ড কালচার।’ ২০১৩ সারে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে এটি, যা বর্তমানে বিদ্যমান রয়েছে।

Advertisements
Loading...