নিম্নকক্ষে মার্কিন ডেমোক্র্যাটদের বিজয়: ট্রাম্পের কী অবস্থা হবে?

ডেমোক্র্যাটরা যেহেতু সেই হাউজেরই দখল পেয়ে যাচ্ছেন, তারা এখন চাইলেই একজোট হয়ে ট্রাম্পের যে কোনো আইনি এজেন্ডা আটকেও দিতে পারেন

President Donald Trump arrives to speak at a campaign rally, Sunday, Nov. 4, 2018, in Macon, Ga. (AP Photo/Evan Vucci)

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার বেশ বেকায়দায় পড়লেন। নিম্নকক্ষে মার্কিন ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের পর ট্রাম্পের ভবিষ্যত অবস্থা কী হবে তা নিয়ে বেশ সংশয় দেখা দিয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে বর্তমান ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের জয় প্রায় নিশ্চিত হলেও নিম্নকক্ষের দখল চলে যাচ্ছে বিরোধী দল অর্থাৎ ডেমোক্র্যাটদের হাতে।

উচ্চকক্ষের দখল হাতে থাকার অর্থ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে ক্ষমতা থাকা। কারণ হলো সিনেট সদস্যদের মেয়াদ ৬ বছর করে। তবে মেয়াদের মাঝখানে এসে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদে হেরে যাওয়াটা খুবই বড় একটি সমস্যার ব্যাপার একজন প্রেসিডেন্টের জন্য। কেনোনা প্রকৃত অর্থে তারা জনপ্রতিনিধি।

যদিও হোয়াইট হাউজ প্রেস সচিব সারাহ স্যান্ডারস বলেছেন, যে-ই জিতুক না কেনো, প্রেসিডেন্ট তার সঙ্গেই কাজ করবেন।

তবে আগের দু’ বছরের সঙ্গে পরের দু’বছরের শাসনে বেশ পার্থক্য থাকবে। কেনোনা তখন ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের যে কোনো পরিকল্পনায় অনুমোদন না দিয়ে সেটির বাস্তবায়ন ঠেকাতে পারবেন কিংবা দেরি করাতে পারবেন।

বিবিসি’র নির্বাচন বিশ্লেষক অ্যানথনি জুরকারের ধারণা মতে, হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস হতে প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে একেকটি সিদ্ধান্ত সিনেটে চলে যায়। ডেমোক্র্যাটরা যেহেতু সেই হাউজেরই দখল পেয়ে যাচ্ছেন, তারা এখন চাইলেই একজোট হয়ে ট্রাম্পের যে কোনো আইনি এজেন্ডা আটকেও দিতে পারেন।

শুধু এটিই নয়, হাউজ হতে নিজেদের পরিকল্পনামাফিক আইন পাস করে সেগুলো আবার সিনেটে পাঠাতে পারেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকান সিনেটরদের জন্য এইসব ডেমোক্রেটিক ধাঁচের পরিকল্পনা নিয়ে ভোটাভুটি করাটা হবে নিঃসন্দেহে অস্বস্তিকর বিষয়। যে সিদ্ধান্তই তারা নেন না কেনো, সেটা নিতে হবে ডেমোক্রেটিক দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করে। ভোটাভুটি না করে তাদের কোনো উপায় থাকবে না।

হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের হাতে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় এবং কেন্দ্রীয় কমিটির নিয়ন্ত্রণ। ডেমোক্র্যাটরা বর্তমানে চাইলেই সেই নিয়ন্ত্রণ কাজে লাগিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কও জোর দিয়ে তদন্ত শুরু করাতে পারেন।

তারা হয়তো তদন্তের খাতিরে এই সুযোগে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অার্থিক তথ্যাবলীতেও হাত দিতে পারেন, যে কারণে অবশেষে সবাই তার আয়কর রিটার্ন সম্পর্কে জানার সুযোগও পাবে!

গত দুই বছরে ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। এতোদিন ডেমোক্র্যাটরা কেবলমাত্র এসব নিয়ে গভীর তদন্তের দাবিই জানিয়ে আসতে পেরেছেন।

এখন হাউজের নিয়ন্ত্রণ পাবার পর তারা সরাসরি কঠোর তদন্তও শুরু করে দিতে পারবেন। তাতে এমন কিছু তথ্যও বেরিয়ে আসতে পারে যা শেষমেশ ট্রাম্প সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিতে পারে।

তবে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা এরপরও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ হলো সবকিছুর পরও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলো আসে সিনেট হতেই। সিনেটই যে কোনো ব্যক্তিকে প্রশাসন কিংবা বিচার বিভাগে নিয়োগের ব্যাপারে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে নিশ্চিত হিসেবে অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে দেশটির বিচার বিভাগে ৮৪ কনজারভেটিভ বিচারককে নিয়োগ দিয়েছেন। সিনেটে রিপাবলিকানদের বিজয় নিশ্চিতের কারণে আশা করা হচ্ছে, এই ধারাটি বাকি দু’বছরেও থাকবে।

সিনেটে বিজয়ের কল্যাণে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে কোনো উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাকে পদ হতে সরিয়ে নিজের পছন্দ মতো ব্যক্তিকে সেখানে বসাতে পারবেন। যেমন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনে হলো তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনসকে সরিয়ে দেবেন। তিনি চাইলেই তা করতেও পারবেন। সেখানে ট্রাম্পকে সমর্থন দেবে রিপাবলিকান সিনেট।

তবে শেষ কথা হলো, হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে হারলে ট্রাম্প সরকারের জটিলতা হবে আরও অনেক বেশি, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে একটি বিষয় হলো রিপাবলিকানরা যদি একজোট থাকে, তাহলে সিনেটের ক্ষমতা কাজে লাগিয়েই আগামী দু’বছর তাদের সরকার মোটামুটি তাদের মতো করেই চালাতে পারবেন- এমনটিই মনে করা হচ্ছে। তথ্যসূত্র; চ্যানেল আই অনলাইন।

Advertisements
Loading...