The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

চিন্তা করলেই বদলে যাবে চ্যানেল!

যদিও এখনও পুরোপুরিভাবে তৈরি হয়নি

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আর রিমটে টেপাটেপির ঝামেলা থাকছে না। এমন এক আবিষ্কার করা হচ্ছে যা চ্যানেল বদলানোর জন্য রিমোর্ট প্রয়োজন হবে না। কেবলমাত্র চিন্তা করলেই বদলে যাবে চ্যানেল!

চিন্তা করলেই বদলে যাবে চ্যানেল! 1

সত্যিই বিজ্ঞান কতোদূর এগিয়ে গেছে! সবকিছুই যেনো হাতের নাগালে চলে আসছে। সবকিছুি যেনো আলাদিনের চেরাগের মতো সহজ হয়ে যাচ্ছে! হাতে টেপা লাগছে না বা বলাও লাগছে না, শুধুমাত্র মনে মনে ভাবলেই হয়ে যাবে কাজ। এমন পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে আলাদিনের চেরাগ বাস্তবে আসতে মনে হয় বেশিদিন বাকি নেই। এমন এক আবিষ্কার করা হচ্ছে যা মনে মনে বললেই হয়ে যাবে। তাই এখন থেকে টিভির চ্যানেল বদলানোর জন্য বা টিভির শব্দ বাড়ানো কমানোর জন্য ব্যবহার করতে হবেনা রিমোর্ট কিংবা টিভির সুইচ। শুধু মনে মনে চিন্তা করলেই সবকিছু হয়ে যাবে!

যদিও এখনও পুরোপুরিভাবে তৈরি হয়নি, তবে এমনই টিভি তৈরির চিন্তা-ভাবনা করছে কোরিয়ান ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট স্যামসাং। তারা এমন এক প্রযুক্তির জন্য গবেষণা করছে দীর্ঘদিন ধরে যা মানুষের টিভি দেখার ধারণাই একেবারে বদলে দেবে। স্যামসাং চাইছে মানুষ এমন টিভি ব্যবহার করবে যা নিয়ন্ত্রিত হবে মানুষের মস্তিষ্ক দ্বারা।

অর্থাৎ যা দাঁড়াচ্ছে তা হলো, আপনি যদি চিন্তা করেন এখন এই চ্যানেল বদলে অন্য চ্যানেল চালু হয়ে যাক, টিভি সে অনুযায়ী বদলে দেবে আপনার পছন্দের চ্যানেলটি। বা আপনি অনুভব করছেন টিভির শব্দ কম বা বেশি সেটাও হয়ে যাবে মুহূর্তের মধ্যে! অর্থাৎ যা দাঁড়াচ্ছে তা হলো, আলাদিনের চেরাগের মতো শুধু কামনা করতে দেরি পালন হতে একটুও দেরি হবেনা!

এমন একটি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে স্যামসাংয়ের সুইজারল্যান্ডের বিশেষজ্ঞ দল। সেখানে এক ঝাঁক বিজ্ঞানী এই প্রযুক্তির প্রসারে কাজ করে চলেছেন। এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রজেক্ট পন্টিস’। বর্তমানে এই প্রযুক্তি ব্রেইন মনিটরিং সেন্সর ও আই ট্র্যাকিং হার্ডওয়্যার নিয়ে এগিয়ে চলেছে। এই দুটি পথ অনুসরণ করে মস্তিষ্কের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে হয়তো এটা সফল করা সম্ভব হবে। যারা শারীরিকভাবে অক্ষম মূলত তাদের কথা মাথায় রেখেই এই প্রযুক্তিটি আনার চিন্তা করা হয়। অনেকেরই হাত-পা অসার। তাদের কোনো চ্যানেল বদলে দিতে হলে অন্যের সাহায্য দরকার পড়ে। এমন মানুষদের জন্যই স্যামসাংয়ের অনন্য এই চিন্তাটি মাথায় এসেছে।

বিশ্বে এ পর্যন্ত মস্তিষ্কের সঙ্গে যুক্ত কোনো অ্যাপস বা সফটওয়্যার তৈরি হয়নি। তাই বলে কেও বসেও নেই। স্পেস এক্স ও টেসলার জনক ইলন মাস্কের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যার কাজ হচ্ছে এমন অ্যাপ তৈরি করা যা মস্তিষ্ক দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ইলন মাস্কের সেই প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘নিউরাল লেইস’। এই প্রযুক্তি এখনও শুরুর দিকেই রয়েছে। এখনও তেমন কেও উল্লেখযোগ্য সফলতাও পায়নি। তবে অনেকেই এই প্রযুক্তি নিয়ে যার যার মতো করে গবেষণা করে যাচ্ছেন। মনে করা হচ্ছে যে, এটিই হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রযুক্তি। ভবিষ্যতে সকল ডিভাইস হয়তো নিয়ন্ত্রণ করা যাবে শুধুমাত্র চিন্তা শক্তির দিয়ে! সে দিন হয়তো আর বেশি দূরে নেই। এখন শুধুই অপেক্ষার পালা।

Loading...