The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

মাছ এবং ফলমূলকে কিভাবে ফরমালিন মুক্ত করবেন

কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা পঁচনশীল বস্তুকে তরতাজা রাখতে ফরমালিন ব্যবহার করছে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ফরমালিন হচ্ছে একটি মারাত্মক বিষ। তবে কোন পঁচনশীল বস্তুকে অনেকদিন বা অনেকক্ষণ তরতাজা রাখতে সাধারণত কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা এই মারাত্মক বিষটিই ব্যবহার করছে। এটি এমন একটি বিষ যা আপনি স্বাভাবিকভাবে বুঝতে পারবেন না। বিশেষ করে মাছ এবং ফলমূল তাজা রাখতে এই ফরমালিন ব্যবহার করা হয়। আর এই ফলমূল এবং মাছ খাওয়ার মাধ্যমে নিয়মিত হালকা হালকা করে এই মরণঘাতী বিষ আমাদের শরীরে প্রবেশ করছে এবং মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করছে।

ফরমালিনের কুপ্রভাবঃ

ফরমালিন আমাদের শরীরে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করে। শিশু এবং বৃদ্ধরা ফরমালিনের দ্বারা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ফরমালিন যুক্ত ফলমূলসহ অন্যান্য খাবার গ্রহণের ফলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা হ্রাস, হাঁচি-কাশ সৃষ্টি, শ্বাসকষ্ট, আ্যাজমা রোগের উপদ্রব বেড়ে যায়। ফুসফুস এবং শ্বাসনালীতে ফরমালিনের প্রভাবে ক্যান্সার সৃষ্টি হতে পারে। গর্ভবর্তী মায়েদের ক্ষেত্রেও মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে।সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে প্রসব জটিলতা, বাচ্চার জন্মগত নানা সমস্যা। এর প্রভাবে বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম হতে পারে।

পাকস্থলি, অস্থিমজ্জা এবং রক্তে ফরমালিনের আক্রমণে রক্তশূন্যতাসহ অন্যান্য রক্তের রোগ এমনকি ব্লাড ক্যান্সার হতে পারে। ফরমালডিহাইড চোখের রেটিনায় এডিমা সৃষ্টির মাধ্যমে রেটিনার কোষ ধ্বংস করে। যার ফলে চিরতরে অন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে।

ফরমালিনযুক্ত দুধ, মাছ, ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ার ফলে শিশুদের শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন অঙ্গ- প্রত্যঙ্গ নষ্ট, বিকলাঙ্গতা ও ক্যান্সারসহ নানা সব মরণব্যাধি।

আজ আমরা জানবো বাজার থেকে মাছ এবং ফলমূল ক্রয়ের পর কিভাবে এই মাছ এবং ফলমূলকে ফরমালিন মুক্ত করা যায়।

১। চাল ধোয়া পানিঃ

চাল ধোয়া পানিতে মাছ বা ফলমূল কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রেখে ভাল করে ওই পানি দিয়ে ধুয়ে আবার পরিষ্কার পানি দিয়ে ধূয়ে নিন। তাহলে ওই ফলমূল বা মাছ থেকে প্রায় বেশিরভাগ ফরমালিন বের হয়ে যাবে।

২। ভিনেগারঃ

পানিতে সামান্য ভিনেগার মিশিয়ে ( ১০ঃ১ অনুপাতে) সেই পানির মধ্যে মাছ বা ফলমূল ১৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখলে প্রায় ১০০% ফরমালিন নষ্ট হয়ে যায়।

৩। লবণ পানিঃ

মাছ বা ফলমূলকে ফরমালিন মুক্ত করতে হলে লবণ পানিতে ১৫-২০ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। তারপর স্বাভাবিক পানি দিয়ে আবার ধুয়ে নিন। এতে প্রায় ৯০% ফরমালিন মুক্ত হয়ে যায়।

৪। সাধারণ পানিঃ

সাধারণ পানি ব্যবহার করেও খাবারকে ফরমালিন মুক্ত করা যায়। সাধারণ পানির মধ্যে মাছ বা যেকোন ফল প্রায় ১ ঘন্টা ডুবিয়ে রাখুন। তাহলে সেই খাবার থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফরমালিন বের হয়ে যায়। তবে ১ ঘন্টা ডুবিয়ে না রেখে ৫-১০ মিনিট ট্যাব ছেড়ে দিয়ে তার নিচে সেই মাছ বা ফল রেখে দিলে ফরমালিন বের হয়ে যায়। কিন্তু এই পদ্ধতি পানির ব্যাপক অপচয় সৃষ্টি করে।

৫। উচ্চ তাপে রান্নাঃ

উচ্চ তাপে রান্না করার সময় প্রায় ১০০% ফরমালিন নষ্ট হয়ে যায়। তবে ফলমূল তো আর উচ্চ তাপ ব্যবহার করে ফরমালিন মুক্ত করা যায় না। তাই ফলমূল এবং অন্যান্য শাক সবজিকে ফরমালিন মুক্ত করতে হলে উপরের উপায়গুলো ব্যবহার করায় শ্রেয়।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...