The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

বিশ্বব্যাপী ‘মিয়ানমার বর্জন’ কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা

রোহিঙ্গাদের বিপন্নতার অবসান ঘটানোর জন্য ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্ক সিটিতে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশন (এফআরসি)

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ইসরায়েলবিরোধী বিশ্ব-প্রতিরোধ আন্দোলনের অনুপ্রেরণা কাজে লাগানোর চেষ্টা হচ্ছে। রোহিঙ্গা অ্যাক্টিভিস্ট ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এফআরসি বিশ্বব্যাপী ‘মিয়ানমার বর্জন’ কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।

বিশ্বব্যাপী 'মিয়ানমার বর্জন' কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা 1

রোহিঙ্গা অ্যাক্টিভিস্ট ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এফআরসি (ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশন) আরও জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি জাতির মুক্তির পক্ষে বিশ্বব্যাপী যেভাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিডিএস আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে, তেমন করেই মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন তারা। এফআরসি’র এক বিবৃতিকে উদ্ধৃত করে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি বলেছে, নিউ ইয়র্কে আয়োজিত তাদের এক সম্মেলন হতে ‘মিয়ানমার বর্জন’ কর্মসূচি শুরু করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বেশ কয়েক প্রজন্ম ধরে রাখাইনে বসবাস করে আসলেও রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করে মিয়ানমার। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত এবং কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করেছিলো মিয়ানমার সেনাবাহিনী। খুন, ধর্ষণ এবং অগ্নিসংযোগের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম। জাতিসংঘ মিয়ানমারে সংঘটিত রোহিঙ্গাবিরোধী নৃশংসতাকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা স্যাটেলাইট ইমেজ এবং অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে হত্যা, ধর্ষণ, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত তুলে আনা হলেও মিয়ানমার ওই অভিযোগকে ‘অতিকথন’ বা ‘গুজব’ আখ্যায়িত করে সেটি নাকচ করে আসছে।

রোহিঙ্গাদের বিপন্নতার অবসান ঘটানোর জন্য ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্ক সিটিতে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশন (এফআরসি)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্নার্ড কলেজে এরআরসির দুই দিনের সম্মেলনে এক হয়েছেন বিশ্বের অনেক শিক্ষাবিদ, মানবাধিকারকর্মীসহ জাতিসংঘের আইনজীবীরাও।

আয়োজকরা জানিয়েছেন যে, ওই সম্মেলনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা এবং যুদ্ধাপরাধ সংঘটনকারী মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় নেওয়ার ব্যাপারেও আলোচনা হবে। অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর সুরক্ষার প্রশ্নও তোলা হবে সম্মেলনে।

আয়োজকরা আরও জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়নের অবসান ঘটানো ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসরায়েলবিরোধী বিশ্ব-আন্দোলন বিডিএস-এর সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় অবলম্বন করা হবে। বিডিএস-এর পূর্ণরূপ বয়কট, ডিভাস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাঙ্কশন্স অর্থাৎ বয়কট, বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা । মূলত ২০০৫ সালে ওই আন্দোলনের সূচনা ঘটে। দুনিয়াজুড়ে ইসরায়েলি পণ্য বর্জন, দেশটি হতে পুঁজি প্রত্যাহার ও ইসরায়েলি পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ সংক্রান্ত এই আন্দোলন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পায়। বহু খ্যাতিমান শিল্পী-বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন অঙ্গনের তারকা ব্যক্তিত্ব এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত। মার্কিন বুদ্ধিজীবী নোম চমস্কি, ভারতীয় লেখক অরুন্ধতী রায় ও পিংক ফ্লয়েড ব্যান্ডের রজার ওয়াটারের মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিরাও রয়েছেন এই আন্দোলনের সঙ্গে।

Loading...