The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্টকে বলা হয় ‘জীবন্ত লাশ’!

আগামী ১৮ এপ্রিলের ভোটে তিনি জিতেও যেতে পারেন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আলজেরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিজের পঞ্চম মেয়াদের জন্য নির্বাচন করতে চলেছেন। অথচ প্রেসিডেন্ট আব্দেল আজিজ বুতেফলিকাকে তার সমালোচকরা বলে থাকেন ‘জীবন্মৃত’।

আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্টকে বলা হয় ‘জীবন্ত লাশ’! 1

আব্দেল আজিজ বুতেফলিকার বর্তমান বয়স ৮২ বছর। তারপরও তিনি অবসর গ্রহণে ইচ্ছুক নন। যদিও ২০১৩ সালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর হতে তিনি কার্যত পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

তারপর হতেই তাকে প্রকাশ্যে কোনো কথাও বলতে শোনা যায়নি। যদিও প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার পঞ্চম মেয়াদের জন্য নির্বাচন করবেন তিনি।

আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা মতে, আগামী ১৮ এপ্রিলের ভোটে তিনি জিতেও যেতে পারেন। যদিও ২০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকার পর শাসনক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টার বিরুদ্ধে ক্ষোভও দেখা যাচ্ছে অনেকের মধ্যে।

সারাদেশে লাখ লাখ মানুষ বিশেষ করে তরুণরা শুক্রবারও রাস্তায় নেমে আসে অসুস্থ প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার জন্য।

আরব বসন্ত শুরু হওয়ার পর এটিকেই সবথেকে বড় প্রতিবাদ বলে মনে করা হচ্ছে। বিক্ষোভ ঠেকাতে রাজধানী আলজিয়ার্সে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করতে হয়েছে।

যদিও তরুণদের এসব প্রতিবাদ প্রেসিডেন্ট বুতেফলিকার কানেই যায়নি! তিনি প্রতিবাদকারীদের উদ্দেশ্যে কিছু বলেননি কারণ হল সুইজারল্যান্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

আব্দেল আজিজ বুতেফলিকার চরম সমালোচকরাও তাকে `দ্য লিভিং ডেড` বা ‘জীবন্ত লাশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন।

উত্তর আফ্রিকা বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা মাস বলেন, বিরোধীরা তাকে ‘দ্য ফ্রেম`ও বলে থাকেন অনেক সময়। কারণ অসুস্থতা এবং কোনো অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দিতে পারেন না। এমনকি প্রার্থিতা ঘোষণার দিনসহ অনেক অনুষ্ঠানেই তার বাধাই করা ছবি রাখা হয় তার নিজের উপস্থিতির পরিবর্তে।

‘এমনকি তার অবস্থা নিয়ে এতোই অনিশ্চয়তা যে সম্প্রতি প্যারিসে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূতকে একটি বিবৃতি দিতে হয়েছিলো যে প্রেসিডেন্ট এখনও জীবিত রয়েছেন!’

আলজেরিয়াকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রবলা হলেও দেশটি পরিচালিত হয় প্রকৃতপক্ষে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছা অনুযায়ীই। একদল সামরিক কর্মকর্তা ও অনির্বাচিত ব্যবসায়ীরা দেশ চালানোর ক্ষেত্রে বড় বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। মূলত তারাই রাজত্বকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন যখন অসুস্থ প্রেসিডেন্ট অবস্থান নিয়ে রয়েছেন এক কোনায়।

সাংবাদিক মার্ক মারজাইনদাস আলজেরিয়ায় বসবাস এবং কাজ করতেন ৯০`এর দশকে। তার ধারণা মতে, ‘৯০ এর দশকে গৃহযুদ্ধের মধ্যদিয়ে উত্থান ঘটেছিলো প্রেসিডেন্ট বুতেফলিকার। তারপর হতেই ক্ষমতা মূলত রাজনীতিক ও সামরিক একটি যৌথ মাফিয়া চক্রের কাছেই।’

তারাই মূলত মুক্তবাজার অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হয়। আজকের আলজেরিয়াকে বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে ৯০ এর দশকে আসলে কি ঘটেছিলো সেদিকে। দেশটি দীর্ঘ যুদ্ধের পর ১৯৬০ সালে ফ্রান্সের নিকট হতে স্বাধীনতা লাভ করে।

তারপর ভঙ্গুর গণতন্ত্রের পথ ধরে ইসলামপন্থীরা ১৯৯০ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর সামরিক বাহিনী হস্তক্ষেপ করে। তারপর গৃহযুদ্ধে এক দশকে প্রায় ২ লাখ মানুষ নিহত হয়। সাংবাদিক মার্ক মারজাইনদাসের মতে, সেটি ছিলো আলজেরিয়ার সবচেয়ে অন্ধকার এক সময়।

তারপর ১৯৯৯ সালে আব্দেল আজিজ বুতেফলিকা ক্ষমতায় আসীন হন। তবে এখন তিনি দুর্বল, সেই সুযোগে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে নানা দল ও উপদল। অপরদিকে তার পুন:নির্বাচনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এসেছে তরুণ সমাজরা।

তরুণরা শ্লোগান দিচ্ছে যে `বাই বাই বুতেফলিকা`। স্থানীয় মিডিয়ার মতে, গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়েছে যার নেতৃত্বে প্রকৃতপক্ষে ছাত্র ও বিভিন্ন ধরনের তরুণরা।

বয়সে তরুণ এই দেশটির জনসংখ্যা চার কোটির সামান্য কিছু বেশি। তারমধ্যেই গত রবিবার রাতে প্রেসিডেন্টের একটি চিঠি পড়ে শোনানো হয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে।

চিঠিতে তিনি বলেন, ‘প্রতিবাদকারীদের গভীর কান্না আমি শুনেছি।’ তিনি তাই অঙ্গীকার করেন যে পুননির্বাচিত হলে রাজনৈতিক সংস্কার এবং আরেকটি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের জন্য তিনি একটি কনফারেন্সেরও আয়োজন করবেন। যদিও নতুন প্রজন্মের কাছে এই ধরনের শক্ত কথাবার্তার কতোটা মূল্য রয়েছে সেটি সময় হলেই বোঝা যাবে। বিবিসি অবলম্বনে।

Loading...