The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

বিশ্বে দ্বিতীয়বারের মতো এইডস রোগী সুস্থ হলেন!

যিনি তার দেহ হতে এই অস্থিমজ্জা দান করেছেন, তিনি ছিলেন এইচআইভি প্রতিরোধী একজন সুস্থ্য ব্যক্তি

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ পৃথিবীতে এইডসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর এই দ্বিতীয়বারের মতো একজন এইচআইভি আক্রান্ত রোগীকে এইডস ভাইরাসমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবরে প্রকাশ পেয়েছে।

বিশ্বে দ্বিতীয়বারের মতো এইডস রোগী সুস্থ হলেন! 1

এই ঘটনাটিকে প্রাণঘাতী এইডস ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বড় সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সুস্থ্য হওয়া এই রোগীর নাম, পরিচয়, বয়স বা জাতীয়তা, সব কিছুই গোপন রাখা হয়েছে। যেহেতু যুক্তরাজ্যে তাকে এই চিকিৎসা দেওয়া হয়, সে কারণে তাকে শুধু ‘লন্ডন রোগী’ নামেই এই মুহূর্তে ডাকা হচ্ছে। এরসঙ্গে এটুকুই শুধু বলা হয়েছে এই রোগী একজন পুরুষ।

এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এইচআইভি সংক্রমণের বিরুদ্ধে এই পদ্ধতি পুরোপুরিভাবে বাস্তবসম্মত নয়। তবে এর ধারাবাহিকতায় একদিন এই ভাইরাস হতে পুরোপুরি নিরাময়ের জন্য বাস্তবসম্মত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন।

‘লন্ডন রোগী’ নামে ডাকা ওই ব্যক্তির দেহ এইডস ভাইরাসমুক্ত করা হয়েছে স্টেম সেল বা যাকে বলে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে। এই অস্থিমজ্জা আরেকজন ব্যক্তির দেহ হতে নেওয়া হয়।

যিনি তার দেহ হতে এই অস্থিমজ্জা দান করেছেন, তিনি ছিলেন এইচআইভি প্রতিরোধী একজন সুস্থ্য ব্যক্তি। যাতে এই সুস্থ ব্যক্তির দেহ হতে নেওয়া অস্থিমজ্জা এইচআইভির সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারে।

যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকরা জিনগত রূপান্তরের মাধ্যমে ওই লন্ডন রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করেছিলেন ৩ বছর পূর্বে। শেষপর্যন্ত চিকিৎসকরা তাকে ভাইরাসমুক্ত করতে পেরেছেন সফলভাবেই। দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে তার দেহে এই ভাইরাসটি আর দেখাই যায়নি!

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন, ইমপেরিয়াল কলেজ, ক্যামব্রিজ ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই চিকিৎসা এবং গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

চিকিৎসকরা বলেছেন যে, এই রোগী এখন এইচআইভি`র পুরোনো কোনো চিকিৎসা নিচ্ছেন না। তাই দেখা গেছে তার রোগ উপশম হয়েছে। তবে রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেছেন, তা বলার সময় ওখনও হয়নি।

উল্লেখ্য, এই রোগীর দেহে এইচআইভি সংক্রমণটি ধরা পড়ে ২০০৩ সালে। ২০১২ সালে এই রোগির এক ধরণের ব্লাড ক্যান্সার শণাক্ত করা হয়। এরপর ৪ বছর ধরে স্বাভাবিক চিকিৎসা চালিয়ে ওই রোগী ক্যান্সারে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।

তখন তাকে বাঁচানোর চেষ্টা হিসেবে চিকিৎসকরা অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। সে অনুযায়ী অস্থিমজ্জার দাতা খোঁজা হয়। শেষ পর্যন্ত দাতা পাওয়া গেলে প্রতিস্থাপন করা হয় ৩ বছর পূর্বে।

এই রোগীর পূর্বে প্রথম একজন রোগীকে এইডস ভাইরাসমুক্ত করা হয়েছিলো ২০০৭ সালে জার্মানির বার্লিনে। তার দেহেও অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে একই পদ্ধতিতে ভাইরাসমুক্ত করা হয়।

Loading...