The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

মুসলিম বলে ইলহানের মন্তব্য নিয়ে এতো বিতর্ক?

ইলহান ওমরের পক্ষে ও বিপক্ষে তীব্র বাদানুবাদ চলছে মার্কিন রাজনীতিতে ও গণমাধ্যমে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মুসলিম মহিলা সদস্য ইলহান ওমরকে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই চলছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। নাইন ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে তার এক মন্তব্যের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে আক্রমণ করে বক্তব্যও দিয়েছেন। এই বিতর্ককে ট্রাম্প উস্কে দিয়েছেন।

মুসলিম বলে ইলহানের মন্তব্য নিয়ে এতো বিতর্ক? 1

ইলহান ওমরের পক্ষে ও বিপক্ষে তীব্র বাদানুবাদ চলছে মার্কিন রাজনীতিতে ও গণমাধ্যমে। ইলহান ওমর তার এক ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামোফোবিয়া বা ইসলাম বিদ্বেষ সম্পর্কে বলতে গিয়ে নাইন ইলেভেনের হামলার প্রসঙ্গ টানেন। এই হামলাকে ‘সাম পিপল ডিড সামথিং’ বলেও বর্ণনা করেছিলেন তিনি।

তারপর তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার ভিডিওর পাশাপাশি ইলহান ওমরের মন্তব্য জুড়ে দিয়ে টুইট করেন।

রিপাবলিকানরা অভিযোগ করেন যে, ইলহান ওমর নাকি নাইন ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলাকে হালকাভাবে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। অপরদিকে ডেমোক্রেটরা ইলহান ওমরকে সমর্থন করে বলেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইলহান ওমর ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় আরও উস্কানি দিচ্ছেন। ঠিক কিভাবে এই বিতর্কের শুরু ও কেনো এটি এতো উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে মার্কিন রাজনীতিতে? সেই প্রশ্ন সবার মনে।

জানা যায়, গত নভেম্বর মাসের নির্বাচনে মিনেসোটার একটি আসন হতে হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভের সদস্য নির্বাচিত হন ইলহান ওমর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম দুজন মুসলিম মহিলা কংগ্রেসের সদস্য হলেন, ইলহান তাদেরই একজন। তিনি হচ্ছেন প্রথম কংগ্রেসের প্রথম কোনো মহিলা সদস্য, যিনি কিনা হিজাব পরেন। ইলহান ওমরের পরিবারবর্গ সোমালিয়া হতে উদ্বাস্তু হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আসেন।

কংগ্রেস সদস্য হিসেবে শুরু হতেই ইলহান ওমরকে ঘিরে শুরু হয় নানা বিতর্ক। ইসরায়েল ও ইসরায়েলপন্থী লবি নিয়ে মন্তব্যের কারণে তাকে ‘অ্যান্টি সেমেটিক’ কিংবা ইহুদী বিদ্বেষী বলে বর্ণনা করে থাকেন ডানপন্থী সমালোচকরা। পরে অবশ্য ইলহান ওমর তার মন্তব্যের জন্য দুঃখও প্রকাশ করেছেন।

একজন মুসলিম কংগ্রেস সদস্য হিসাবে ইতিমধ্যেই তিনি নানা ধরণের হুমকির মুখেও পড়েছেন। তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় নিউ ইয়র্কের পুলিশ সম্প্রতি ৫৫ বছর বয়সী একজনকে গ্রেফতারও করে। এই লোকটি ইলহান ওমরকে সন্ত্রাসী বলে বর্ণনা করেছিলেন।

ইলহান ওমর সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তৃতায় বলেছিলেন, `সাম পিপল ডিড সামথিং` বা কিছু লোক কিছু একটা করেছিল` কথাটি। গত ২৩শ মার্চ তিনি কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্সের সভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে এই কথা বলেন।

২০ মিনিটের ওই ভাষণে তিনি ইসলামোফোবিয়া হতে শুরু করে সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের মসজিদে সন্ত্রাসবাদী হামলাসহ বিভিন্ন বিষয়েও কথা বলছিলেন।

এক পর্যায়ে তিনি কথা বলছিলেন, নাইন ইলেভেনের সন্ত্রাসবাদী হামলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের কী ধরণের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।

‘এটিই হচ্ছে প্রকৃত সত্য। বহু দিন ধরে আমাদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে একটা অস্বস্তি নিয়ে বসবাস করতে হয়েছে। সত্যি কথা বলতে কি- আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। এই দেশের প্রতিটি মুসলিমেরও ঠিক তাই হওয়া উচিৎ। নাইন ইলেভেনের পর কাউন্সিল অন আমেরিকান- ইসলামিক রিলেশন্স স্থাপন করা হয়েছিল। কারণ তারা বুঝতে পেরেছিল যে, কিছু লোক কিছু একটা করেছে ও এখন আমরা সবাই নাগরিক অধিকার হারাতে শুরু করবো।’

কাউন্সিল অন আমেরিকান- ইসলামিক রিলেশন্স প্রকৃতপক্ষে স্থাপিত হয়েছিল ১৯৯৪ সালে। ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকা এই তথ্যটি যাচাই করে প্রকাশ করার পর ইলহান ওমরের একজন মুখপাত্র অবশ্য এও বলেন, তিনি ভুল বলেছেন ও তিনি আসলে বলতে চেয়েছিলেন নাইন ইলেভেনের হামলার পর এই সংগঠনের আকার প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে।

ইলহান ওমরের এই বক্তৃতা গত ৯ এপ্রিল হতে সবারই মনোযোগ কাড়তে শুরু করে। কারণ হলো টেক্সাসের এক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য ড্যান ক্রেনশ তার বক্তৃতাকে `অবিশ্বাস্য` বলেও বর্ণনা করেন।

এরপর বিষয়টি লুফে নেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফক্স নিউজসহ অন্যান্য রক্ষণশীল মিডিয়া, তারা এটা নিয়ে আলোচনা শুরু করে দেয়।
রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির চেয়ারম্যান ইলহান ওমরকে `অ্যান্টি আমেরিকান` বলে বর্ণনা শুরু করেন।

এর পাল্টা জবাব হিসেবে ইলহান ওমর এটিকে ‘বিপদজনক উস্কানি’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘কারণ আমি এখনও মৃত্যুর হুমকির মধ্যে আছি।’

ইলহান ওমর নাইন ইলেভেনের ব্যাপারে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের একটি মন্তব্য পোস্ট করে বলেন যে, তিনিও কী তাহলে নাইন ইলেভেনের হামলাটিকে খাটো করে দেখাচ্ছিলেন?

এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে নিউ ইয়র্ক পোস্ট। তারা পত্রিকার প্রথম পাতায় নাইন ইলেভেনের হামলার একটি ছবি প্রকাশ করে ওপরে হেডলাইন দিয়েছে: ‘হিয়ার ইজ ইয়োর সামথিং।’

নিউ ইয়র্ক পোস্টের এই শিরোনাম বিতর্কটিকে আরও তিক্ত করে তুলেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এর পক্ষে বিপক্ষে শুরু হয় নানা তর্ক-বিতর্ক। নাইন ইলেভেনের ছবি ব্যবহারের জন্য অনেকেই পত্রিকাটির সমালোচনাও করেছেন। নিউ ইয়র্কের যেসব কর্নার শপগুলোতে পত্রিকা বিক্রি হয়, যেগুলোর বেশিরভাগই ইয়েমেনিরা চালায়, তারা এই পত্রিকাটি বর্জনের ঘোষণা দেয়।

তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই এই বিতর্কে ইলহান ওমরকে সমর্থন দিচ্ছেন। গত শুক্রবার টুইটারে ‘স্ট্যান্ড-উইথ-ইলহান’ হ্যাশট্যাগটি ট্রেন্ড করছিল। ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতৃস্থানীয় রাজনীতিকরা ইলহানের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন।

বিবিসি বলেছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন প্রার্থী এলিজাবেথ ওয়ারেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘একজন নারী কংগ্রেস সদস্যের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উস্কানি দেওয়ার’ অভিযোগ তুলেছেন।

আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী বার্নি স্যান্ডার্স বলেন যে, ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে এই আক্রমণ ‘ন্যাক্কারজনক ও বিপদজনকও বটে।’

Loading...