The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

মৃত্যুর পর কী কারও আত্মা দুনিয়াতে আসে?

নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত এবং পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান হলো ‘আপনার জিজ্ঞাসা’

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত এবং পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান হলো ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। ওই অনুষ্ঠানে একটি প্রশ্ন উঠে এসেছে মৃত্যুর পর কী কারও আত্মা দুনিয়াতে আসে?

মৃত্যুর পর কী কারও আত্মা দুনিয়াতে আসে? 1

জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় দেশের বেসরকারি একটি টিভির জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’ দ‍র্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

আপনার জিজ্ঞাসার ২০০০ তম পর্বে একটি প্রশ্ন করা হয়, মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তির আত্মা কী দুনিয়াতে আসে? এই সম্পর্কে চট্টগ্রাম হতে চিঠিতে জানতে চেয়েছেন রোকেয়া বেগম নামে জনৈক নারী। অনুলিখনে ছিলেন জহুরা সুলতানা।

প্রশ্ন ছিলো: আমি আপনাদের এই অনুষ্ঠানের একজন নিয়মিত দর্শক। আপনাদের অনুষ্ঠান আমার খুব প্রিয়। আমার প্রশ্ন হলো, মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তির আত্মা দুনিয়াতে কী আসে?

উত্তর হলো: না, কোনো ব্যক্তির যখন মৃত্যু ঘটে, এর অর্থ হচ্ছে দুনিয়ার সঙ্গে তার যে সম্পর্ক রয়েছে, সেটি আত্মিক সম্পর্ক হোক বা শারীরিক সম্পর্ক হোক, কোনো সম্পর্কই সেখানে আর তখন অবশিষ্ট থাকে না। তাঁর আত্মার কোনো ধরনের আগমন, বহির্গমন, সংযোজন, অর্থাৎ যেকোনো ধরনের তৎপরতাই আর অবশিষ্ট থাকে না।

সুতরাং আত্মা স্বাধীনভাবে যে ঘোরাফেরা করবে বা আসবে-যাবে, ব্যাপারটি আসলে এমন নয়। মৃত্যুর পর মানুষ চলে যায় আল্লাহর বারজাখি জিন্দেগিতে। আর এই বারজাখি জিন্দেগি হলো এমন যে, বারজাখের একটা অর্থই হলো, এখান থেকে আর কোনোভাবেই বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাই বারজাখি জিন্দেগিতে যারা চলে গেছেন, তারা একটা আড়ালে চলে গিয়েছেন। সম্পূর্ণরূপে আড়ালের একটা জিন্দেগিতে চলে গিয়েছেন, দুনিয়ার জগতে তাদের আর কখনও আগমন হবে না। যেমনিভাবে তারা দুনিয়াতে আগমন করতে পারবেন না, ঠিক তেমনিভাবে তারা আখিরাতের যে জিন্দেগি রয়েছে, পরবর্তী জীবন সে জীবনেও আর যেতে পারবেন না। এখানেই তাঁদেরকে অপেক্ষা করতে হবে।

কোরআনে কারিমের মধ্যে আল্লাহ সুবানাহুতায়ালা এরশাদ করেন যে, ‘এই বারজাখেই তাদের অবস্থান করতে হবে, ওই পরবর্তী পুনরুত্থান পর্যন্ত, ওই দিবস পর্যন্তই তাকে অপেক্ষা করতে হবে।’ পুনরুত্থান পর্যন্ত সেখান হতে তাদের কোনো ধরনের আগমন, বহির্গমন কিংবা কোনো ধরনের তৎপরতা করার অধিকার তাদের আর থাকবে না। তাই এই ধারণা করার সুযোগও নেই বা আমাদের আকিদার মধ্যে, আমাদের যে চিন্তাধারার রয়েছে, যে বিশ্বাস আকিদার মধ্যে রয়েছে, এই আকিদার বিশ্বাসের মধ্যেই কোনোভাবেই এ কথা শুদ্ধ নয় যে, মানুষের আত্মা পৃথিবীর মধ্যে আবার আগমন করে থাকে ও আগমন করে বিভিন্ন মানুষকে সতর্ক করে থাকে। এটি ভিন্ন দর্শনের বা ভিন্ন চিন্তাধারায় রয়েছে। সুতরাং ইসলাম মূলত যেটা আমাদের শিক্ষা দিয়েছে যে, মৃত্যুর পর মানুষগুলোর সব তৎপরতা সীমাবদ্ধ হয়ে যায় ও তারা বারজাখি জিন্দেগিতে চলে যান। এই বারজাখি জিন্দেগি কোন ধরনের হবে, তার কোনো সুস্পষ্ট সংজ্ঞা কিংবা পরিচিতি রাসূল (সা.)-এর কোনো হাদিসের মাধ্যমেও আমাদের কাছে স্পষ্ট করা হয়নি। অর্থাৎ এই (বারজাখি জিন্দেগি) সম্পর্কে হাদিসেও কিছু বলা হয়নি।

তথ্যসূত্র: www.deshebideshe.com

Loading...